কে–পপ গায়িকা ওনিকে নিয়ে এত আলোচনা কেন

ওনিমিউজ এন্টারটেইনমেন্ট

আগস্টে কে-পপের সবচেয়ে আলোচিত তারকা কে? উত্তরটি চমকে দেওয়ার মতো। তিনি বিটিএসের জিমিন কিংবা আইভের জ্যাং ওয়নইয়ং নন। গত দুই মাস ব্যক্তিগত কে-পপ আইডল ব্র্যান্ড সুনাম তালিকার শীর্ষে রয়েছেন কে–পপ গ্রুপ রেসিনের গায়িকা ওনি।

ব্র্যান্ড বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ব্রিকোরিয়া সম্প্রতি আগস্টের ব্যক্তিগত আইডল ব্র্যান্ড সুনাম তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে প্রথম হয়েছেন ওনি। তাঁর ব্র্যান্ড সুনাম সূচক ৬৯ লাখ ৫১ হাজার ৮৯১। দ্বিতীয় হয়েছেন জিমিন। তৃতীয় জ্যাং ওয়নইয়ং।

ভোক্তাদের সম্পৃক্ততা, গণমাধ্যমে উপস্থিতি, অনলাইন যোগাযোগ ও বিভিন্ন অনলাইনে সক্রিয়তার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করা হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার কে-পপ ভক্তদের বাইরে অবশ্য ওনি ও রেসিন এখনো অনেকের কাছে অপরিচিত। রেসিনের যাত্রা শুরু ২০২৪ সালের মার্চে। দলটি দীর্ঘদিন কোরিয়ার মূলধারায় তেমন পরিচিতি পায়নি। বিদেশেও খুব একটা পরিচিতি ছিল না। এ বছর পরিস্থিতি বদলে যায়। এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখে ইউটিউব।

ওনি
মিউজ এন্টারটেইনমেন্ট

একটি মিম বদলে দিল সব

২০২৪ সালের ২৬ মার্চ অভিষেক হয় রেসিনের। প্রথম একক অ্যালবামের নাম ‘রিঃসিন’। এর প্রধান গান ছিল ‘উহউহ’। দলে ওনির সঙ্গে আছেন মিনামি, লিভ, জেনা ও মে।

শুরুতে রেসিনের গান খুব একটা জনপ্রিয় হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার বড় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর তালিকাতেও জায়গা হয়নি সেভাবে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউটিউব চ্যানেল চালু করেন ওনি। চ্যানেলটিতে অন্য রকম ওনিকে দেখা যায়। সেখানে নেই তারকাসুলভ অতিরিক্ত আয়োজন। বরং থাকে দৈনন্দিন গল্প। মার্চে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায় মিনামিকে। তাঁর পরনে ছিল ‘গিয়ারু’ সাজ। এটি জাপানের একটি জনপ্রিয় উপসংস্কৃতি।

মিনামির এই সাজ দেখে মজা করেন ওনি। তিনি বলেন, তাঁর শহর জিওজেতে এভাবে গেলে স্থানীয় লোকজন মিনামিকে বকাঝকা করবেন। মিনামির জবাব ছিল, ‘জিওজে, ইয়াহো!’

‘ইয়াহো’ জাপানি ভাষার অনানুষ্ঠানিক সম্ভাষণ। অনেকটা ‘হাই’ বা ‘হেই’-এর মতো।
মিনামির সেই কথাই পরে ভাইরাল হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ভিডিওটির ছোট ছোট অংশ। তৈরি হয় ‘জিওজে ইয়াহো’ মিম।

এরপর ওনির ইউটিউব চ্যানেলে দর্শক বাড়তে থাকে। রেসিনকেও নতুন করে চিনতে শুরু করেন অনেকে। এর প্রভাব পড়ে দলের গানেও।

রেসিনের সদস্যরা
মিউজ এন্টারটেইনমেন্ট
আরও পড়ুন

দুই বছর পর হিট

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ‘লাভ অ্যাটাক’ গানটি। এটি রেসিনের প্রথম ইপি ‘সিনড্রোম’-এর প্রধান গান। ইপিটি প্রকাশিত হয় ২০২৪ সালের আগস্টে।

শুরুতে গানটির অবস্থা ছিল খুবই সাধারণ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মেলনের দৈনিক তালিকায় গানটির অবস্থান ছিল ৯০৪। প্রায় দুই বছর পর বদলে যায় দৃশ্যপট।

চলতি বছরের মে মাসে আবার মেলনের তালিকায় আসে গানটি। জুনে উঠে আসে সেরা ১০-এ। জুলাইয়ে পৌঁছে যায় এক নম্বরে। মেলন ডেটা ল্যাবের তথ্য বলছে, ওনির ইউটিউব চ্যানেল চালুর পর ‘লাভ অ্যাটাক’-এর স্ট্রিম বেড়েছিল সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৯ শতাংশ।

‘জিওজে ইয়াহো’ মিম ছড়িয়ে পড়ার পর মেলনে রেসিনকে নিয়ে অনুসন্ধানও বেড়ে যায়। এই বৃদ্ধির হার ছিল ৬ হাজার ৫৫০ শতাংশ। মেলন ডেটা ল্যাব ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের সেরা শিল্পী হিসেবে রেসিনকে বেছে নেয়।

জুলাইয়ে একসঙ্গে রেসিনের চারটি গান জায়গা করে নেয় মেলনের সেরা ১০০ গানের তালিকায়। দলের জনপ্রিয়তার সঙ্গে বাড়ে ওনির জনপ্রিয়তাও।

জুলাইয়ে ব্যক্তিগত আইডল ব্র্যান্ড সুনাম তালিকায় প্রথম হন তিনি। আগস্টেও ধরে রাখেন শীর্ষস্থান। কে-পপের বড় তারকাদের পেছনে ফেলে টানা দুই মাস শীর্ষে থাকা তাই বেশ বড় ঘটনা। কারণ, কয়েক মাস আগেও সাধারণ দর্শকের কাছে ওনি ও রেসিন খুব বেশি পরিচিত ছিল না।

আরও পড়ুন

কেন জনপ্রিয় ওনি?

‘জিওজে ইয়াহো’ ওনিকে পরিচিতি এনে দিয়েছে। তবে শুধু একটি মিম তাঁর জনপ্রিয়তার কারণ নয়।

ওনির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ তাঁর স্বাভাবিক উপস্থিতি। ইউটিউব ভিডিওতে তাঁকে নিখুঁত কে-পপ তারকার মতো মনে হয় না। বরং মনে হয়, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছেন।

জিওজেতে বেড়ে উঠেছেন ওনি। শহরটি সিউল থেকে প্রায় ৩৩০ কিলোমিটার দূরে। জাহাজ নির্মাণশিল্পের জন্যও পরিচিত জিওজে। কে-পপের রাজধানীকেন্দ্রিক জগতের বাইরে তাঁর বেড়ে ওঠা। তাই তাঁর আঞ্চলিক টান ও সহজ-সরল আচরণ দর্শকদের আলাদা করে টানে।

ওনির চ্যানেলে রেসিনের অন্য সদস্যদেরও তুলে ধরা হয়। মিনামির গিয়ারু সাজ ও জেনার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলার ভিডিও দর্শকদের আকর্ষণ করছে। এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের বাইরের দর্শকদের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে।

‘জিওজে ইয়াহো’ ভাইরাল হওয়ার পর ওনি ও মিনামি একসঙ্গে জিওজেতে যান। সেখানে তাঁরা সাধারণ রাস্তায় ঘুরেছেন। সামুদ্রিক খাবার ধরার চেষ্টাও করেছেন খালি হাতে।

তারকাদের ঝলমলে জীবনের বদলে সাধারণ জীবনের এমন ছবি দর্শকদের ভালো লেগেছে। আর এভাবেই ওনি হয়ে উঠেছেন চলতি বছরের কে-পপের আলোচিত নতুন মুখগুলোর একজন।

কোরিয়া হেরাল্ড অবলম্বনে