অভিবাসনবিরোধী নীতি নিয়ে সোচ্চার শিল্পীরা, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ট্রেভর নোয়া। কোলাজ

এবারের গ্র্যামিতে প্রথম স্প্যানিশ শিল্পী হিসেবে গ্র্যামিতে ‘অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার’ জিতলেন পুয়ের্তো রিকোর র‍্যাপার ব্যাড বানি। আলোচিত অ্যালবাম ‘ডেবি তিয়ার মাস ফোতোস’-এর জন্য এ পুরস্কার পেলেন তিনি। পুরস্কার গ্রহণ করে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ইমিগ্রেশন নীতির সমালোচনা করেন। বানি বলেন, ‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানানোর আগে বলব আইস আউট (অভিবাসনবিরোধী আন্দোলন)। আমরা পশু নই, এলিয়েন নই; আমরা মানুষ এবং আমেরিকান।’ যাঁরা স্বপ্নপূরণের জন্য নিজের দেশ ছেড়ে যান, তাঁদের এই পুরস্কার উৎসর্গ করেন বানি। অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার ছাড়া আরও দুই পুরস্কার জিতেছেন তিনি।

ব্যাড বানি। এএফপি

কেবল ব্যাড বানিই নন, আরও অনেক শিল্পীই ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসননীতির সমালোচনা করেন। গ্র্যামিতে উপস্থিত অনেক শিল্পী তাঁদের পোশাকের সঙ্গে ‘আইস আউট’ পিন যুক্ত করেছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জাস্টিন ও হেইলি বিবার দম্পতি, জনি মিচেল, জর্ডান টিসন, হেলেন জে শেন। কিউবান-আমেরিকান সংগীতশিল্পী গ্লোরিয়া এস্তেফান বলেন, ‘আমি ভীত, আমি খুব চিন্তিত। এটা অপরাধীদের গ্রেপ্তার নয়। এসব মানুষের পরিবার আছে, তাঁরা দশক ধরে এই দেশে অবদান রেখেছে, শিশুদের কথা বলতেই হবে। শত শত শিশু ডিটেনশন সেন্টারে আছে। এটা অমানবিক।’

এবার সেরা নবাগতশিল্পী হয়েছেন ২৬ বছর বয়সী ব্রিটিশ গায়িকা অলিভিয়া ডিন। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি একজন অভিবাসীর নাতনি হিসেবে।’ পুরস্কার জয়ের পর র‍্যাপার শাবুজি বলেন, ‘অভিবাসীরাই এই দেশ (যুক্তরাষ্ট্র) বানিয়েছে। এই পুরস্কার সব অভিবাসীর সন্তানদের জন্য। যাঁরা ভালো সুযোগের জন্য এসেছে, তারা দেশকে রঙিন করেছে।’

এই সময়ের আরেক আলোচিত গায়িকা বিলি আইলিশ। এএফপি

এ সময়ের আলোচিত গায়িকা বিলি আইলিশ বলেন, ‘আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে, আমাদের কথাগুলো গুরুত্বপূর্ণ।’ গ্রামিজয়ী আরেক শিল্পী সিজা বলেন, ‘আজ আমরা গ্র্যামিজয় উদ্‌যাপন করছি, আর কাউকে রাস্তায় ধরে নিয়ে গিয়ে গুলি করা হচ্ছে—এটা খুব হতাশাজনক। তবে আশা হারানো যাবে না। কারণ, যখন মনোবল হারায়; পরিবর্তন সম্ভব হয় না।’

আরও পড়ুন

দক্ষিণ আফ্রিকান কমেডিয়ান ট্রেভর নোয়া এবার শেষবারের মতো গ্র্যামি সঞ্চালনা করেন। তিনি সাধারণত গ্র্যামিতে রাজনৈতিক মন্তব্য কম করেন, তবে এবার নিজের উদ্বোধনী মনোলগেই সরাসরি গায়িকা নিকি মিনাজের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ব্যঙ্গ করেন। তিনি বলেন, ‘নিকি মিনাজ এখানে নেই। তিনি এখনো হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করছেন।’

ট্রেভর নোয়া এবার শেষবারের মতো গ্র্যামি সঞ্চালনা করেন। এএফপি

তবে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড সম্প্রচার শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে একাধিক বার্তা দিয়ে অনুষ্ঠান ও ট্রেভর নোয়ার তীব্র সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্প বলেন, এই অনুষ্ঠান ‘দেখার অযোগ্য’ এবং নোয়া ‘পুরোপুরি ব্যর্থ’।  তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘সিবিএস খুব সৌভাগ্যবান যে তাঁদের চ্যানেলে এই বর্জ্য আর প্রচারিত হচ্ছে না। ট্রেভর নোয়া যেই হোক না কেন, জিমি কিমেলের মতোই খারাপ। আমি হয়তো তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব।’

এএফপি অবলম্বনে