বিশ্বজুড়ে ভক্তদের অপেক্ষার অবসান, এল বিটিএসের নতুন অ্যালবাম
বিশ্বজুড়ে প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন অধ্যায়ে পা রাখল কে-পপ সুপারগ্রুপ বিটিএস। প্রায় চার বছরের বিরতির পর নতুন অ্যালবাম, বিশাল কনসার্ট আর বিশ্ব সফরের ঘোষণা—সব মিলিয়ে এক ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হচ্ছে সংগীত বিশ্ব। সেই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরেই এই বিশেষ ফিচার।
চার বছর পর ফিরে আসা: এক আবেগঘন মুহূর্ত
সামরিক দায়িত্ব পালন শেষে সাত সদস্য একসঙ্গে ফিরেছেন, এটাই ভক্তদের কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দের খবর। প্রায় চার বছর বিরতির পর আবার মঞ্চে উঠতে যাচ্ছে বিটিএস, যা তাদের ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি ব্যান্ডের ফেরা নয়, বরং একটি যুগের পুনরারম্ভ। কারণ গত এক দশকে কে-পপকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়ার পেছনে এই দলটির ভূমিকা অনস্বীকার্য।
নতুন অ্যালবাম ‘আরিরাং’: শিকড়ের দিকে ফেরা
ফিরেই বিটিএস প্রকাশ করেছে তাদের পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবাম ‘আরিরাং’, যার নাম নেওয়া হয়েছে কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী লোকগান থেকে। এই অ্যালবাম যেন একদিকে আধুনিক সাউন্ড, অন্যদিকে সাংস্কৃতিক শিকড়ের মেলবন্ধন। ১৪টি গানে সাজানো এই অ্যালবাম ইতিমধ্যেই রেকর্ড গড়েছে। স্পটিফাই জানিয়েছে, প্রকাশের আগেই পাঁচ মিলিয়নের বেশি প্রি-সেভ হয়েছে, যা কে-পপ ইতিহাসে নজিরবিহীন।
ব্যান্ডের সদস্য জিমিন বলেছেন, ‘আমরা নিজেদের পরিচয় নিয়ে গভীরভাবে ভেবেছি। কীভাবে আমাদের সংগীতে সেই পরিচয়কে সবচেয়ে সত্যভাবে তুলে ধরা যায়, সেটাই ছিল লক্ষ্য।’
কনসার্টের আগে চ্যালেঞ্জ: আরএমের ইনজুরি
প্রত্যাবর্তনের আনন্দের ভেতরই কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দলনেতা আরএমকে ঘিরে। রিহার্সালের সময় তাঁর পায়ে চোট লাগে। চিকিৎসকেরা তাঁকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিলেও, তিনি পারফর্ম করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তাঁর নাচসহ কিছু পারফরম্যান্স অংশ সীমিত রাখা হবে। তবু ভক্তদের জন্য সর্বোচ্চ মানের শো দেওয়ার ইচ্ছা তাঁর এই সিদ্ধান্তকে বিশেষ করে তুলেছে।
সিউলের ঐতিহাসিক মঞ্চে মহাযজ্ঞ
প্রত্যাবর্তন কনসার্টটি অনুষ্ঠিত হবে গুয়াংঘওয়ামুন স্কয়ারে, যা কোরিয়ার ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এই কনসার্টে সরাসরি উপস্থিত থাকবেন প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার দর্শক। শহরের হোটেলগুলো আগেই বুকড হয়ে গেছে আর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে হাজারো ভক্ত ভিড় জমিয়েছেন।
বিশ্ব সফর ও লাইভস্ট্রিম: নতুন রেকর্ডের পথে
এই কনসার্টের পর শুরু হবে ৮২টি শোর বিশাল বিশ্ব সফর। আর যাঁরা সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারবেন না, তাঁদের জন্য শোটি বিশ্বব্যাপী লাইভস্ট্রিম করবে নেটফ্লিক্স। নেটফ্লিক্সের এক নির্বাহী এটিকে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লাইভ মিউজিক ইভেন্ট বলে উল্লেখ করেছেন।
নিজের দেশকে ‘লাভ লেটার’
সংগীত বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই অ্যালবাম যেন নিজের দেশের প্রতি ‘একটি ভালোবাসার চিঠি’। কোরিয়ান পরিচয়, আবেগ ও আধুনিকতার মিশেলে তৈরি এই কাজ বিটিএসকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে।
অনেকে ইতিমধ্যেই তুলনা টানছেন দ্য বিটলস বা মাইকেল জ্যাকসনের সঙ্গে, যাঁরা সময়কে দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছিলেন: ‘তাদের আগে’ ও ‘তাদের পরে’।
চার বছরের অপেক্ষা, ব্যক্তিগত সংগ্রাম আর নতুন করে নিজেদের খুঁজে পাওয়ার গল্প—সব মিলিয়ে বিটিএসের প্রত্যাবর্তন শুধু একটি ফেরা নয়, বরং ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকার মতো এক মুহূর্ত।
এএফপি অবলম্বন