শরণার্থী পরিবারের মেয়েটি এখন আড়াই হাজার কোটি টাকার মালিক

বাবার সঙ্গে দুয়া লিপা। শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

আজ ২২ আগস্ট এই সময়ের আলোচিত পপ তারকা ডুয়া লিপার জন্মদিন। লন্ডনে জন্ম নেওয়া এই পপ তারকা ৩১ বছরে পা দিলেন। একসময় যাঁর মা–বাবাকে যুদ্ধের কারণে ঘর ছাড়তে হয়েছিল, সেই পরিবারের মেয়েই আজ বিশ্বের সবচেয়ে সফল পপ তারকাদের একজন। গান, ফ্যাশন, প্রেম, বিয়ে—সব মিলিয়ে ডুয়া লিপার জীবন যেন আধুনিক পপ তারকার এক পূর্ণাঙ্গ গল্প।
তবে লিপার সাফল্যের গল্প মোটেও এক দিনে তৈরি হয়নি। শৈশবে পরিবার নিয়ে দেশ বদল, কৈশোরে একা লন্ডনে ফেরা, গান শেখার পাশাপাশি কাজ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের গান প্রকাশ—সব মিলিয়ে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজকের ডুয়া লিপা।

যুদ্ধের কারণে লন্ডনে আশ্রয়
১৯৯৫ সালের ২২ আগস্ট লন্ডনে ডুয়া লিপার জন্ম। তাঁর বাবা দুজাগিন লিপা ও মা আনেসা কসোভোর প্রিস্টিনার বাসিন্দা। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে কসোভোর সংঘাতের সময় তাঁরা লন্ডনে চলে আসেন। তখন দুজনেরই নিজ নিজ পেশা নিয়ে স্বপ্ন ছিল—বাবা পড়ছিলেন ডেন্টিস্ট্রি, মা আইন নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। কিন্তু শরণার্থী হিসেবে নতুন দেশে গিয়ে তাঁদের বাস্তবতা বদলে যায়। সংসার চালাতে দুজনকেই রেস্তোরাঁয় কাজ করতে হয়েছিল। পাশাপাশি নতুনভাবে পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণও নিতে হয়েছে।

ডুয়ার শৈশব তাই ছিল একদিকে লন্ডনের বহুজাতিক পরিবেশে, অন্যদিকে কসোভোর স্মৃতি আর পরিবারের সংগ্রামের গল্প শুনে। তাঁর বাবা নিজেও সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং কসোভোর রক ব্যান্ডে গান করতেন। ফলে বাড়িতেই সংগীত ছিল ডুয়ার নিত্যসঙ্গী।

মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই গান গাওয়া শুরু করেন লিপা। কিন্তু সংগীতশিল্পী হওয়ার স্বপ্নের শুরুটা খুব একটা মসৃণ ছিল না। স্কুলের গানের দলে অডিশন দিয়ে তাঁকে একবার বলা হয়েছিল, তিনি নাকি গান গাইতে পারেন না। সেই প্রত্যাখ্যান তাঁকে থামিয়ে দেয়নি; বরং গান শেখার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়ে। পরে তিনি সিলভিয়া ইয়াং থিয়েটার স্কুলে গান শেখা শুরু করেন।

১১ বছর বয়সে আবার কসোভো
২০০৬ সালে পরিবারের সঙ্গে কসোভোয় ফিরে যান ডুয়া। তখন তাঁর বয়স ১১। প্রিস্টিনায় নতুন স্কুলে ভর্তি হন। লন্ডনে বড় হওয়ায় আলবেনীয় ভাষায় তাঁর দক্ষতা খুব বেশি ছিল না। নতুন দেশে গিয়ে ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাঁকে সময় নিতে হয়।
কসোভোয় থাকার সময়ই লিপা বুঝতে শুরু করেন, সংগীত তাঁর কাছে নিছক শখ নয়—এটাই তাঁর ভবিষ্যৎ। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানের পপ তারকা হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কসোভোর পরিবেশ তাঁর কাছে যথেষ্ট মনে হয়নি। তাই মাত্র ১৫ বছর বয়সে আবার লন্ডনে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে একা লন্ডনে
ডুয়া লিপার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি শুরু হয় এখানেই। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি একাই লন্ডনে ফিরে আসেন। পরিবার তখন কসোভোয়। একজন পারিবারিক পরিচিতের সঙ্গে থাকার ব্যবস্থা করে তিনি লন্ডনে নতুন জীবন শুরু করেন।
সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। পড়াশোনার পাশাপাশি ডুয়াকে নিজের দৈনন্দিন জীবনও সামলাতে হয়েছে। রান্না, কাপড় ধোয়া, ঘর পরিষ্কার—সবকিছুই করতে হতো নিজেকে। পরবর্তী সময়ে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, এত অল্প বয়সে একা থাকার অভিজ্ঞতা তাঁকে দ্রুত পরিণত করে তুলেছিল।

তখন লিপার লক্ষ্য ছিল একটাই—গানকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
ইউটিউব ও সাউন্ডক্লাউডে নিজের গান ও বিভিন্ন জনপ্রিয় গানের কাভার প্রকাশ করতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে লিপার গলায় আলাদা ধরনের ভারী, খানিকটা কর্কশ স্বর নজর কাড়তে থাকে। মডেলিংও করেন। ২০১৩ সালে ‘দ্য এক্স ফ্যাক্টর’–এর একটি বিজ্ঞাপনে গান গাওয়ার সুযোগ পান। এরপর তাঁর জন্য খুলতে থাকে সংগীতশিল্পের দরজা।

ডুয়া লিপা
রয়টার্স

নিউ রুলস’ বদলে দিল সব
২০১৪ সালে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সঙ্গে চুক্তি করেন ডুয়া লিপা। ২০১৭ সালে প্রকাশ পায় তাঁর প্রথম অ্যালবাম—‘ডুয়া লিপা’।

প্রথম অ্যালবাম থেকেই লিপা পরিচিতি পেতে শুরু করেন। ‘বি দ্য ওয়ান’–এর মতো গান তাঁকে দ্রুত আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেয়। কিন্তু আসল সাফল্য আসে ‘নিউ রুলস’ দিয়ে।

বিচ্ছেদের পর নিজেকে কীভাবে সামলে নিতে হয়—গানের কথায় সেই আত্মনির্ভরতার বার্তাই তুলে ধরেছিলেন ডুয়া। গানটি শুধু জনপ্রিয় হয়নি, হয়ে উঠেছিল তরুণ প্রজন্মের একধরনের আত্মবিশ্বাসের সংগীত।
২০১৮ সালে ‘নিউ রুলস’–এর সাফল্যের পর ডুয়া লিপা আর শুধু সম্ভাবনাময় গায়িকা নন, আন্তর্জাতিক পপ তারকা।

‘ফিউচার নস্টালজিয়া’–সুপারস্টার ডুয়া
২০২০ সালে আসে ডুয়া লিপার দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘ফিউচার নস্টালজিয়া’। ডিস্কো, ড্যান্স ও আধুনিক পপের মিশেলে অ্যালবামটি ডুয়া লিপার ক্যারিয়ারকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
‘ডোন্ট স্টার্ট নাউ’, ‘ফিজিক্যাল’, ‘ব্রেক মাই হার্ট’, ‘লিভিটেটিং’—একটির পর একটি গান বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়।

বিশেষ করে ‘লিভিটেটিং’ দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক চার্টে দাপট দেখায়। করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে যখন বিশ্বজুড়ে মানুষ ঘরে বন্দী, তখন ডুয়া লিপার নাচের গান হয়ে ওঠে অনেকের বিনোদনের অন্যতম উৎস।
এই অ্যালবামের জন্য লিপা গ্র্যামিসহ নানা পুরস্কার পান। তাঁর ঝুলিতে এখন তিনটি গ্র্যামি ও সাতটি ব্রিট অ্যাওয়ার্ড রয়েছে।

‘বার্বি’ থেকে অভিনয়ের জগতেও
গানের পাশাপাশি ডুয়া লিপা ধীরে ধীরে অভিনয় ও চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ‘বার্বি’ সিনেমার জন্য গাওয়া ‘ড্যান্স দ্য নাইট’ গানটি নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁকে আরও জনপ্রিয় করে।
এরপর অভিনয়েও ডুয়া লিপাকে দেখা গেছে। সংগীতের পাশাপাশি ফ্যাশন ও চলচ্চিত্র—দুই ক্ষেত্রেই নিজের উপস্থিতি জানান দিতে শুরু করেন তিনি।
তবে লিপার সবচেয়ে বড় পরিচয় এখনো সংগীতশিল্পী হিসেবেই।
২০২৪ সালে প্রকাশিত হয় তৃতীয় স্টুডিও অ্যালবাম ‘র‍্যাডিক্যাল অপটিমিজম’। আগের অ্যালবামের সাফল্যের পর এই অ্যালবাম ছিল তাঁর সংগীতের নতুন অধ্যায়।

প্রেমের সম্পর্কেও বারবার আলোচনায়
ডুয়া লিপার ব্যক্তিজীবনও তাঁর ক্যারিয়ারের মতোই আলোচিত।
২০১৯ সালে সম্পর্কে জড়ান মডেল আনোয়ার হাদিদের সঙ্গে। তিনি সুপারমডেল জিজি ও বেলা হাদিদের ভাই। দুজনের সম্পর্ক ছিল প্রায় আড়াই বছর। ২০২১ সালের শেষ দিকে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।

এরপর ২০২৩ সালে ফরাসি চলচ্চিত্র পরিচালক রোমাঁ গাভ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান ডুয়া। কান চলচ্চিত্র উৎসবসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যায়। তবে সেই সম্পর্কও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
এরপর আসে অভিনেতা ক্যালাম টার্নারের সঙ্গে প্রেমের গল্প।

ডুয়া লিপা
রয়টার্স ফাইল ছবি

ক্যালাম টার্নারের সঙ্গে প্রেম, বাগ্‌দান ও বিয়ে
২০২৪ সালের শুরুতে ডুয়া লিপা ও ব্রিটিশ অভিনেতা ক্যালাম টার্নারের সম্পর্কের গুঞ্জন শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সম্পর্কটি প্রকাশ্য হয়। ২০২৫ সালে তাঁরা বাগ্‌দানের খবর নিশ্চিত করেন।
ব্রিটিশ ‘ভোগ’–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডুয়া জানান, তাঁরা বাগ্‌দান করেছেন। তাঁর জন্য আংটিটি বিশেষভাবে তৈরি করিয়েছিলেন ক্যালাম। এ ক্ষেত্রে ডুয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও বোন রিনার মতও নিয়েছিলেন তিনি।
এরপর ২০২৬ সালে প্রেমের সম্পর্কটি পরিণতি পায় বিয়েতে।

লন্ডনের ওল্ড মেরিলিবোন টাউন হলে ঘনিষ্ঠ পরিসরে ডুয়া লিপা ও ক্যালাম টার্নারের বিয়ে হয় ৩১ মে। পরে সিসিলিতে বড় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
বিয়ের পর ক্যালামও তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে পরিবার শুরু করা তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার। ডুয়া লিপাও আগে সন্তান নেওয়ার ইচ্ছার কথা বলেছেন, যদিও ক্যারিয়ারের সঙ্গে ব্যক্তিজীবনের সময় মিলিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সচেতন।
অর্থাৎ যে মেয়েটি মাত্র ১৫ বছর বয়সে একা লন্ডনে ফিরে এসে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার লড়াই শুরু করেছিলেন, তিনিই এখন সেই শহরেই নিজের সংসার গড়েছেন।

আরও পড়ুন

কত সম্পদের মালিক ডুয়া লিপা
মাত্র ৩১ বছর বয়সেই বিপুল সম্পদের মালিক ব্রিটিশ পপ তারকা ডুয়া লিপা। গান, কনসার্ট, ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি, অভিনয় ও ব্যবসা—সব মিলিয়ে দ্রুত তাঁর আয় বেড়েছে। ২০২৬ সালের ‘সানডে টাইমস রিচ লিস্ট’ অনুযায়ী, ডুয়া লিপার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১৫ কোটি পাউন্ড।

বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ডুয়া লিপার সম্পদ বৃদ্ধির গতি গত কয়েক বছরেই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে। ‘সানডে টাইমস রিচ লিস্ট’–এর হিসাবে ২০২৪ সালে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯ কোটি পাউন্ড। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড। আর ২০২৬ সালে সেই অঙ্ক লাফ দিয়ে হয়েছে ১৫ কোটি পাউন্ড। ডুয়া লিপার বিপুল সম্পদের অন্যতম বড় উৎস তাঁর সংগীত। বিশেষ করে ২০২৪ সালে প্রকাশিত তৃতীয় অ্যালবাম ‘র‍্যাডিক্যাল অপটিমিজম’ এবং এরপরের বিশ্বভ্রমণ তাঁর আয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। ৮১টি শো থেকে প্রায় ১৪১ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে বলে হিসাব পাওয়া যায়। শুধু লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে দুই রাতের আয়োজন থেকেই প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছিল।

ফোর্বসের হিসাবে, ২০২৫ সালে ডুয়া লিপা বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া সংগীতশিল্পীদের তালিকায় ছিলেন। ওই বছর তাঁর আয় আনুমানিক ৪৪ মিলিয়ন ডলার। ডুয়া লিপার সাফল্যের বড় রহস্য তাঁর ব্যবসায়িক বুদ্ধি। তিনি শুধু গানের পারিশ্রমিকের ওপর নির্ভর করেননি। নিজের ব্র্যান্ড ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছেন।

ফিলিস্তিনের পক্ষে যে কণ্ঠ
সংগীতের বাইরে আরেকটি কারণে বারবার আলোচনায় আসেন ডুয়া লিপা। সেটি হলো ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য সমর্থন এবং গাজায় যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান। অনেক বিশ্বতারকা যখন ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা এড়িয়ে গেছেন, তখন ডুয়া লিপা নিজের অবস্থান জানিয়েছেন।
ডুয়া লিপার ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি সহমর্মিতার পেছনে তাঁর পারিবারিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কসোভো যুদ্ধের সময় তাঁর মা–বাবা নিজেদের দেশ ছেড়ে লন্ডনে চলে এসেছিলেন।

২০২৪ সালে রোলিং স্টোনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডুয়া লিপা বলেছিলেন, যুদ্ধের কারণে নিজের ঘর ছেড়ে অন্য দেশে চলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর পরিবারের রয়েছে। তাই যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুত মানুষের কষ্ট তাঁর কাছে কেবল দূরের কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। তিনি মনে করেন, মানুষ সাধারণত শখে নিজের বাড়ি ছেড়ে যায় না; পরিবারকে নিরাপদ রাখতে বাধ্য হয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেয়।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েল ও গাজার সংঘাত ভয়াবহ রূপ নেয়। ডুয়া লিপা তখনই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। তিনি ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরায়েলি প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়েও উদ্বেগ জানান। তাঁর বক্তব্য ছিল—একটি পক্ষের মানুষের মৃত্যু নিয়ে শোক প্রকাশ করতে হলে অন্য পক্ষের মানুষের মৃত্যুকেও উপেক্ষা করা যায় না। ২০২৪ সালের শুরুতে তিনি বলেন, গাজায় যত মানুষের প্রাণ যাচ্ছে, বিশেষ করে নিরপরাধ বেসামরিক মানুষের মৃত্যু নিয়ে বিশ্বনেতাদের আরও জোরালোভাবে কথা বলা উচিত। তাঁর দাবি ছিল মানবিক যুদ্ধবিরতি।

গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবিতে শিল্পীদের একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ আর্টিস্ট ফর সিজফায়ারের সঙ্গেও যুক্ত হন ডুয়া লিপা। ২০২৩ সালের শেষ দিকে তিনি অন্য শিল্পীদের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে পাঠানো একটি খোলা চিঠিতে যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানান। চিঠিতে জিম্মিদের মুক্তির দাবিও ছিল।

বিলবোর্ড, ভোগ ও রোলিং স্টোন অবলম্বনে