কলকাতার শুটিং পাড়ায় সংঘর্ষ, ডিম-ইট ছোড়াছুড়ি
পশ্চিমবঙ্গে সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই টালিউডের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ব ও কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। এরই মধ্যে কয়েকটি সংগঠনের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এবার ম্যানেজার গিল্ডকে কেন্দ্র করে সেই দ্বন্দ্ব সহিংস রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার টেকনিশিয়ান স্টুডিও ও টালিগঞ্জ এলাকায় ডিম, টমেটো ও ইট নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। সংগঠনটির নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
সিনে প্রোডাকশন ম্যানেজার অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, গত ৪ মে থেকে সংগঠনের সম্পাদক হাসান ও সহসম্পাদক নিরুপম দেকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপমানজনক মন্তব্য এবং বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হচ্ছে। সংগঠনের অভিযোগ, শুধু ব্যক্তিগত কটাক্ষ নয়, তাঁদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও একাধিকবার আক্রমণ করা হয়েছে। এমনকি ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে জনসমক্ষে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টাও হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই অভিযোগে সঞ্জয় গুহ, তাপস খাঁ, পূর্ণেন্দু শেখর মল্লিক, বাপি সান্যাল, সঞ্জীব বণিক ও সুব্রত বিশ্বাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এরই মধ্যে ২৮ মে এনটিওয়ান স্টুডিওতে ম্যানেজার সনৎ চট্টোপাধ্যায়ের রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে। ওই ঘটনার পর থেকেই অভিযোগের তির ঘুরে যায় বিজেপি-সমর্থক সঞ্জয় গুহর দিকে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবারের এ ঘটনা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
গতকাল বুধবার বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন, হাসান ও নিরুপম দেকে পদ ছাড়তে হবে। তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই বৃহস্পতিবার সকালের বৈঠক ঘিরে বাড়তে থাকে উত্তেজনা। সকাল সাড়ে আটটায় টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে বৈঠকের ডাক দেওয়া হলেও তা শেষ পর্যন্ত আয়োজন করা যায়নি। অভিযোগ ওঠে, সেখানে এমন বহু ব্যক্তি উপস্থিত হয়েছিলেন, যাঁরা চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত নন। উপস্থিত একাংশ তাঁদের ‘বহিরাগত’ বলেই দাবি করেন।
পরে মাঠে জমায়েত হলেও পরিস্থিতি আর স্বাভাবিক থাকেনি। একদিকে হাসান-নিরুপমের সমর্থকেরা, অন্যদিকে সঞ্জয় গুহ ঘনিষ্ঠ শিবির। অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় স্লোগান এবং তারপরেই ডিম ও ইট ছোড়াছুড়ি। ‘চোর চোর’ স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। অভিযোগ, বাইরের লোক এনে পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হয়েছিল।
হাসান-নিরুপমের দাবি, পদত্যাগের প্রশ্নে কোনো সিদ্ধান্ত বৈঠকের পরই নেওয়ার কথা ছিল। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধানের সম্ভাবনাও ছিল। তাঁদের অভিযোগ, যাঁরা বৈঠকের বিরোধিতা করছিলেন, তাঁদের অনেকেই গিল্ডের সদস্য নন।
অন্যদিকে বিরোধীদের বক্তব্য, পদত্যাগের কথা যখন বলা হয়েছে, তখন তা অবিলম্বে কার্যকর হওয়া উচিত। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ না পাওয়া কলাকুশলীদের কাজের সুযোগ করে দেওয়ার দাবিও তোলা হয়।
শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হস্তক্ষেপ করে।
এদিকে এ ডিম নিক্ষেপের ঘটনারও কড়া সমালোচনা করেছেন অভিনেতা ও বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি জানান, তিনি যে টালিউডকে চেনেন, সেখানে এ ধরনের সংস্কৃতি কখনো ছিল না। শিল্পের পরিবেশে ডিম, ইট বা হিংসার কোনো স্থান নেই বলেই তাঁর মত।
একই সঙ্গে পাপিয়া অধিকারীর মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, কাউকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তির একক সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এমন সিদ্ধান্তের জন্য সাংগঠনিক প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন।