১৯৫৯ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘অপুর সংসার’ ছবিতে অভিনয় করে সৌমিত্র আত্মপ্রকাশ করেন রুপালি পর্দায়। ছবিতে তাঁর অভিনয় সাড়া ফেলে। সবাই তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা করেন। এই ছবিতে অভিনয় করে সত্যজিতের সঙ্গে তাঁর সখ্য গড়ে ওঠে। একে একে এই বিখ্যাত পরিচালকের ১৪টি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। সত্যজিৎ রায়ের ‘ফেলুদা’ চরিত্রের সুবাদে মানুষের কাছে তিনি ‘ফেলুদা’ নামে পরিচিতি লাভ করেন।

এরপর মৃণাল সেন, তপন সিং, তরুণ মজুমদারসহ অনেক বিখ্যাত পরিচালকের ছবিতে দেখা যায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে। মৃত্যুর আগপর্যন্ত বড় ও ছোট পর্দার সিনেমায় তিনি কাজ করে গেছেন। সিনেমায় অভিনয় করলেও সৌমিত্রের প্রথম প্রেম ছিল মঞ্চনাটক। তাই সিনেমার কাজে ব্যস্ত থাকার পরও তিনি ছুটে যেতেন মঞ্চনাটকে অভিনয় করতে। কর্মজীবনের শেষ বেলা পর্যন্ত তিনি মঞ্চে অভিনয় করে গেছেন।  

নাট্যশিল্পে অবদানের জন্য সৌমিত্র ফরাসি সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে ১৯৯৯ সালে পান ‘কমান্ডার দি এল অর্ডার দেস আর্টস এবং দেস লেত্রেস’ সম্মান। তিনিই প্রথম ভারতীয় অভিনেতা, যাঁকে এই সম্মানে ভূষিত করা হয়। ২০১৭ সালে তিনি ফরাসি সরকারের বেসামরিক সম্মাননা ‘লিজিয়ন অব অনার’-এ ভূষিত হন। ফরাসি চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্যাথরিন বার্জ তাঁর জীবন নিয়ে তৈরি করেছিলেন তথ্যচিত্র ‘গাছ’।

সৌমিত্রের দ্বিতীয় প্রেম ছিল সাহিত্য। তিনি এবং নির্মল আচার্য ১৯৬১ সালে তৈরি করেছিলেন এক্ষণ নামের একটি সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক পত্রিকা। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক। তিনি সম্পাদনার কাজ করতেন, লিখতেন; আবার বিজ্ঞাপন আনার জন্য ছুটে বেড়াতেন। পত্রিকার জন্য যেমন প্রবন্ধ লিখেছেন তিনি, তেমনি লিখেছেন অসংখ্য কবিতা। তাঁর লেখা কবিতা আর নাটক বই আকারে প্রকাশিতও হয়।

প্রয়াত এই কিংবদন্তির জীবনী নিয়ে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় নির্মাণ করেন ছবি ‘অভিযান’। তিনি বেঁচে থাকতেই ছবিটির নির্মাণ শুরু হয়। এমনকি তাঁর চরিত্রে তিনিই অভিনয় করেছেন। বায়োপিকটির নির্মাণ শেষ হয় সৌমিত্রের মৃত্যুর পর। চলতি বছর পয়লা বৈশাখে মুক্তি পায় ছবিটি।