‘বহুবার রাজনৈতিক দলগুলোকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি’
‘এখানে উপস্থিত অনেকের সঙ্গে আমি অভিনয় করেছি। অনেক ধরনের নাটকের নির্দেশনা দিয়েছি। আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। আমার সবাই আপনজন।’ এভাবে অভিনয়শিল্পী সংঘের কার্যনির্বাহী পর্ষদের এক বছর পূর্তি ও সংগঠনটির ওয়েবসাইট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কথাগুলো বলেন মামুনুর রশীদ। তাঁর বক্তব্য উঠে আসে শিল্পীদের আশা–আকাঙ্ক্ষার কথা। শিল্পীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির কথা। উঠে আসে শিল্পীদের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতাসহ নানা প্রসঙ্গ।
মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমরা বহুবার রাজনৈতিক দলগুলোকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, শিল্পীদের বন্ধনীভুক্ত করবেন না। কিন্তু কেউ শোনেনি। এখনো দেখছি, একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাষ্ট্রের টেলিভিশন, রেডিওর মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে একেক সময়ে আলাদা আলাদা শিল্পীরা বন্ধনীভুক্ত হন। আমার মনে হয় এ বিষয়ে আমাদের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের একটু সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে আমাদের অভিনয়শিল্পীদের অধিকার নিশ্চিত হবে না।’
এ ছাড়া শিল্পীদের মানবিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না হওয়ায়, অনেক সময়েই অনেকে অর্থনৈতিকভাবে সংকটে পড়েন। কিন্তু সংগঠনের পক্ষে থেকে তেমন কিছু করার থাকে না। এসব বিষয় বিবেচনায় অভিশিল্পী সংঘকে আরও সক্রিয় হতে হবে—এমনটাই মনে করেন মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘আজকে একজন শিল্পী যখন কোথাও দুর্ঘটনায় পতিত হন, যদি একজন শিল্পী অসহায় বোধ করে এমন পরিস্থিতিতে তাঁর পাশে গিয়ে অন্তত দুটো লোক যদি দাঁড়ায়, তাহলে আমরা একে অন্যের পাশে থাকতে পারব। এ জন্য সংগঠনকে আরও পরিসর বাড়াতে হবে।’
মামুনুর রশীদ প্রত্যাশা করেন, অভিনয়শিল্পীরা বিপদে পড়লে সংগঠন সব সময় মানবিকভাবে পাশে থাকবে। যেভাবে করোনার সময় এগিয়ে এসেছিলেন। শিল্পীর নিরাপত্তায় যেকোনো পরিস্থিতিতে শিল্পীর পাশে সক্রিয় থাকবে অভিনয়শিল্পী সংঘ। মামুনুর রশীদ বলেন, ‘শিল্পীদের সংগঠন হিসেবে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবে সংগঠন।
তবে বড় বিপদ–আপদে আমি একটা বড় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছি, আমার যেকোনো বিপদে তারা এগিয়ে আসবে—এই যে ভাবনাটা, এই ভাবনাটা দেওয়া সংগঠনের অনেক বড় কাজ। সেভাবেই অ্যাক্টর ইকুয়িটি শিল্পীর পাশে থাকবে।’
অভিনয়শিল্পী সংঘের উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন মামুনুর রশীদ। তিনি আরও বলেন, ‘শিল্পীদের মধ্যে ঐক্য থাকতে হবে। একজন আরেকজনের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা থাকতে হবে। আমিও বিশ্বাস করি, আমরা সবাই অভিনয় করতে এসেছি।
কে কতটা বড় শিল্পী সেটা বড় ব্যাপার নয়। কিন্তু আমার পাশের শিল্পী, যার সঙ্গে আমি অভিনয় করেছি, তাকে যেন আমি ভুলে না যাই। আমার আনন্দের দিনে, আমার বেদনার দিনে এমনকি আমার উৎসবের দিনে তাঁর কথা যেন মনে রাখি।’
গত ১৪ জুলাই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এ আয়োজন। এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুণী অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার। তিনি সংগঠনটি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে সংগঠনটির ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা হয়। ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন অভিনেতা ও সংগঠনের উপদেষ্টা মামুনুর রশীদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অভিনেতা শাহাদাৎ হোসেন। এতে উপস্থিত ছিলেন দিলারা জামান, খায়রুল আলম সবুজ, সারা যাকের, ফারুক আহমেদ, শহীদুজ্জামান সেলিম, আজিজুল হাকিম, তৌকীর আহমেদ, আলী রাজ, সুব্রত, শিবা শানু, কচি খন্দকার, রাশেদ মামুন অপু, রওনক হাসান, আহসান হাবীব নাসিমসহ অনেকে।