কেমন আছেন তানিয়া বৃষ্টি
ঈদে তানিয়া বৃষ্টির ১০টির মতো নাটক প্রচার হয়েছে। এর মধ্যে ‘সুপ্তাদের বাড়ি’ নামের একটা নাটকের পোস্টার ভাগাভাগি করে সুজন খান নামে এক ভক্ত লিখেছেন, ‘কী অসাধারণ সাবলীল অভিনয়। তানিয়া বৃষ্টির অভিনয় অন্য লেভেলের।’ মোশাররফ করিমের সঙ্গে ‘ফুটানি বাবু’ নামে আরেকটি নাটকের নিচে এক ভক্তের মন্তব্য, ‘অভিনয়ের দিক থেকে তানিয়া বৃষ্টি এখনো বহু এগিয়ে। দিন দিন তাঁর অভিনয়ের প্রেমে পড়ছি।’
নাটকগুলো নিয়ে দর্শক যখন এত কথা বলছে, তখন তানিয়া বৃষ্টি কিন্তু একদম চুপ। অথচ ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ঈদের নাটক নিয়ে থাকত আলাদা উচ্ছ্বাস। ঘনঘন ফেসবুক পোস্টে ভক্তদের জানাতেন কোন নাটক কোন চ্যানেল-ইউটিউবে কখন প্রচার হবে। জানতে চাইলে নাটকের নামসহ সব তথ্য মুখস্থ বলে দিতেন। তবে এখন এসব থেকে অনেক দূরে তানিয়া বৃষ্টি, চেন্নাইয়ে মস্তিষ্কে দ্বিতীয় সার্জারির পর হাসপাতালে ধীরে সেরে উঠছেন, প্রস্তুত হচ্ছেন তৃতীয় সার্জারির জন্য।
চিকিৎসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন তৃতীয় সার্জারিও করাতে হবে। তবে এখনই করা যাবে না। এ জন্য কয়েক মাস সময় লাগবে। নিউরোসার্জন প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তারপর তৃতীয় সার্জারি করাতে হবে।
ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তানিয়া। পরে তাঁর মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে। ফেব্রুয়ারিতেই অস্ত্রোপচার করে সেটা অপসারণ করা হয়। তার পর থেকে বাসাতেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে ৯ মার্চ চিকিৎসার জন্য চেন্নাইতে যান এই অভিনেত্রী। সেখানে দ্বিতীয় দফা সার্জারির কিছুদিন পর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘তানিয়া। জীবন সুন্দর।’
বর্তমান শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে হোয়াটসঅ্যাপে তানিয়া জানালেন, ‘যখন সার্জারি হলো, মাথায় ইমোশনাল কিছু নিতে পারতাম না। বাচ্চাদের মতো একটা জায়গায় চলে গিয়েছিলাম। বাচ্চাদের মতো একটুতেই কান্না করতাম। এখন শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। তবে সার্জারির কারণে চোখে আর নাকেও কিছুটা সমস্যা হয়। তাকিয়ে থাকতে পারি না।’ জানালেন, বিশ্রামে থাকতে হবে।
ঈদের নাটকগুলো নিয়ে প্রশংসার খবর দিতেই হোয়াটসঅ্যাপে জানালেন, ‘অবশ্যই ভক্তদের প্রশংসা শুনে ভালো লাগছে। কিন্তু কখন, কোন নাটকের শুটিং করেছিলাম ভাই মনে নেই। ঈদের সময়টা আমি চিকিৎসার মধ্যেই ছিলাম।এর মধ্যে কাজগুলো নিয়ে ভাবতে পারিনি।’
ঈদে প্রচারিত নিজের কোনো নাটক দেখেছেন? এমন প্রশ্নে তানিয়া বৃষ্টি বলেন, ‘সত্যি বলতে বেশ কয়েক দিন আগে চোখে পড়ে “সুপ্তাদের বাড়ি” নাটকের ট্রেলার। সেই ট্রেলার দেখেই আমি কেঁদে ফেলি। মাথার জন্য “সুপ্তাদের বাড়ি” নাটক দেখে একটু পরপর কেঁদেছি। মাথাব্যথা না বাড়াতে পরে কাজটি দেখা বন্ধ করতে হয়েছে। একটু বেটার ফিল করলেই আমার সব কাজ দেখব।’
তানিয়া জানালেন, ঈদে তাঁর সবচেয়ে পছন্দের কাজ ছিল এই ‘সুপ্তাদের বাড়ি’। এটি পরিচালনা করেছেন ইমরাউল রাফাত। অসুস্থ হওয়ার আগে শুটিংয়েও পুরো তিন দিন নাকি কাঁদতে হয়েছে। এটি তাঁকে জীবনের অনেক কিছু শিখিয়েছে। এটিই তাঁর জীবনের সেরা কাজের একটি হয়ে থাকবে।
তানিয়া বললেন, ‘মা–বাবা–বোন সবাই একসঙ্গে আলাদা একটা জীবন। তখন সবকিছু নিজের থাকে। আর প্রিয় মানুষগুলো যখন জীবন থেকে হারিয়ে যায়, সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়, তখন এর চেয়ে কষ্টের আর কিছু জীবনে হতে পারে না। এটা আমি প্রতিটি সেকেন্ডে ফিল করেছি। আমি অত ভালো অভিনয় করি না। কিন্তু “সুপ্তাদের বাড়ি” নাটক অভিনয় করে মনে হয়েছে আমি অভিনয় করতে পেরেছি। আমার ক্যারিয়ারে একটি মনে রাখার মতো কাজ হয়ে থাকবে।’
পরবর্তী চিকিৎসা সম্পর্কে বললেন, ‘চিকিৎসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন তৃতীয় সার্জারিও করাতে হবে। তবে এখনই করা যাবে না। এ জন্য কয়েক মাস সময় লাগবে। নিউরোসার্জন প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তারপর তৃতীয় সার্জারি করাতে হবে।’
সুস্থ হয়ে আবার প্রিয় অঙ্গনে ফিরতে চান তানিয়া।