‘ছবিটি পোস্ট করার পর অনেকেই মনে করছেন, আবার মা হচ্ছি’
হঠাৎ ফেসবুকে নবজাতকের জুতার ছবি পোস্ট করেছেন অভিনয়শিল্পী সালহা খানম নাদিয়া। ছবির নিচে অনেকেই তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। তবে কি আবার মা হতে চলেছেন অভিনেত্রী?
আজ সোমবার দুপুরে হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্নটি শুনেই হেসে ফেললেন নাদিয়া। তিনি বললেন, ‘একটা আগে বড় করে নেই, এখনই আরেকটা নয়। ওটা পুরোনো ছবি। ছবিটি পোস্ট করার পর অনেকেই মনে করছেন, আমি আবার মা হচ্ছি। ওটা আমাদের পছন্দের ছবি।’ দেখা যায়, পোস্টের নিচে অনেকেই মন্তব্যে ‘অভিনন্দন’ জানাচ্ছেন।
আট মাস আগে প্রথমবার মা হয়েছেন নাদিয়া। এখন মেয়ে মেহরোজ নূর সানাহকে ঘিরেই কাটছে তাঁর সময়। মাতৃত্বের এই নতুন অভিজ্ঞতা কেমন? কিছুক্ষণ নীরব থেকে নাদিয়া বললেন, ‘মা হওয়ার পর আমার অনুভূতি মিশ্র। অবশ্যই খুব ভালো লাগছে। “মিশ্র” বলছি বলে খারাপ কিছু বোঝাচ্ছি না। ভালো লাগা ও চ্যালেঞ্জ, দুটিই আছে এই সময়ে।’
কেন এই সময়টাকে চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে, তার ব্যাখ্যাও দিলেন অভিনেত্রী। মেয়ের দেখাশোনার পুরোটাই তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে করতে হচ্ছে। মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা মাঝেমধ্যে এলেও ব্যস্ততার কারণে কেউ নিয়মিত থাকতে পারেন না।
নাদিয়া আরও বলেন, ‘আমি আর আমার স্বামী ২৪ ঘণ্টাই মেয়েকে ঘিরে থাকি। আমাদের কোনো সহায়তাকারী নেই। সবকিছু নিজেদেরই শিখে নিতে হয়েছে; বাচ্চাকে খাওয়ানো, জামাকাপড় পরানো থেকে শুরু করে প্রতিটি কাজ। হাতে ধরে বুঝিয়ে দেওয়ার মতো কেউ নেই। মা বা পরিবারের অন্যরা আসেন, কিন্তু নিয়মিত থাকতে পারেন না। কখনো রিলস, কখনো ভিডিও দেখে আমরা প্যারেন্টিং শিখেছি। এটিও আমাদের জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা।’
চলতি বছরের প্রথম দিনেই মা হওয়ার সুখবর জানিয়েছিলেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী সালহা খানম নাদিয়া। মেয়ের নাম রেখেছেন মেহরোজ নূর সানাহ। সন্তান জন্মের পর বেশ কিছুদিন বাসা থেকে বেরোতেই পারেননি তিনি। এখনো তাঁর কখনো কখনো ঘরের মধ্যেই দিন কেটে যায়। তাঁর মনে হতো, দেশে থেকেও যেন বিদেশে আছেন, চেনা পরিবেশে থেকেও জীবনযাপন পুরোপুরি বদলে গেছে।
নাদিয়া বলেন, ‘এতটাই ব্যস্ততায় সময় কেটেছে যে বেশ কিছুদিন বেরই হতে পারিনি। তবে নতুন মা হিসেবে এই সময়ে দারুণ সব অভিজ্ঞতা হয়েছে। মেয়ে এখন “মা”, “বাবা”বলতে শুরু করেছে। চোখের সামনে ওকে বড় হতে দেখছি, এটাই সবচেয়ে বেশি আনন্দের। হয়তো আমরা ঠিকমতো ঘুমাতে পারছি না, তারপরও সময়গুলো দারুণ কাটছে।’
সন্তানের বিকাশের জন্য বাসাজুড়েই ছড়িয়ে আছে নানা ধরনের খেলনা। রান্নাঘর থেকে খাবারঘর, কোনো জায়গাই বাদ নেই। মেয়ের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রে বাসার চেহারাই বদলে গেছে।
মজার ছলে নাদিয়া বলেন, ‘আমাদের বাসার আনাচকানাচ খেলনা আর বাচ্চার নানা জিনিসে ভর্তি। কোনো আত্মীয়স্বজন যদি বলেন, আমাদের বাসায় বেড়াতে আসবেন, তখন আমরা বলি, “তোমাদের আসতে হবে না, আমরাই যাচ্ছি।” বাসার যা অবস্থা, বসার মতো জায়গাই যেন নেই।’
মা হওয়ার বেশ আগে থেকেই নিয়মিত শুটিং থেকে দূরে আছেন নাদিয়া। শুরুতে শুটিংয়ের ব্যস্ততা খুব মনে পড়লেও সন্তান জন্মের পর সেই অনুভূতি বদলে গেছে। মেয়েকে ঘিরে এতটাই ব্যস্ত থাকেন যে এখন আর শুটিং মিস করার সুযোগই হয় না।
নাদিয়া বলেন, ‘নাটকের শুটিং থেকে তো দীর্ঘদিন দূরে আছি। এখন প্রচারণামূলক কাজ, ওভিসি ও বিজ্ঞাপনচিত্রে কিছুটা কাজ করছি। তাই নাটকের শুটিং তেমন মিস করি না। আট মাসের মেয়ে আমাকে আর কিছু মিস করার সুযোগই দেয় না। সময়টা চ্যালেঞ্জিং, তবে দিনগুলো খুব ভালো কাটছে।’
দেড় দশক ধরে বিনোদন অঙ্গনে কাজ করছেন সালহা খানম নাদিয়া। গত বছরের জুনে বিয়ে করেন তিনি। তাঁর স্বামী সালমান আরাফাতও বিনোদন অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত; নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রে নিয়মিত কাজ করেন।