প্রথম সিনেমা বানাতে মোটামুটি বছর পাঁচেকের এক কঠিন সফরের মধ্য দিয়ে গেছেন লি জং-জে। ২০১৭ সালে প্রথম পরিচালনার ঘোষণা দেন, তখন সিনেমার নাম ছিল ‘নামসান’। শুটিং শুরুর আগে নানা কারণে ছবিটির কাজ বাতিল করেন। পরের চার বছর ধরে ছবির চিত্রনাট্য ঘষামাজা করেন। অবশেষে গত বছরের ৮ মে শুরু হয় শুটিং এবং শেষ হয় ওই বছরের ১৩ নভেম্বর।

‘হান্ট’–এর প্রাণভোমরা বলা যায় লি জং-জেকে। ছবির পরিচালক, অন্যতম চিত্রনাট্যকার ও সহপ্রযোজক তো বটেই, গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
চলতি বছরের ১৯ মে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির প্রিমিয়ার হয়, দক্ষিণ কোরিয়াতে মুক্তি পায় গত ১০ আগস্ট। কোরিয়ায় মুক্তির আগেই ছবির আন্তর্জাতিক মুক্তি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। তবে আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তির আগে ‘হান্ট’-এ বেশ কিছু সম্পাদনার সিদ্ধান্ত নেন পরিচালক। এটা তিনি করেন মূলত আন্তর্জাতিক দর্শকের কথা মাথায় রেখে। তাঁরা যেন সহজে ছবিতে দেখানো কোরীয় রাজনীতির বিভিন্ন ব্যাপার বুঝতে পারেন, সে জন্যই এ বদল।

কোরিয়ায় মুক্তির পর বক্স অফিসে বাজিমাত করে ‘হান্ট’। ১ হাজার ৫৮৪টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রথম দিনে বক্স অফিসের শীর্ষে ওঠে। মুক্তির এক মাস পরে ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া সবচেয়ে ব্যবসাসফল কোরীয় ছবির তালিকার চতুর্থ স্থানে উঠে আসে ‘হান্ট’।

এবার বলা যাক, ছবিটি কেমন হলো। মুক্তির পর ডেডলাইন, ভ্যারাইটিসহ বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ছবিটির ব্যাপারে ইতিবাচক প্রতিবেদন করেছে। অনেক সমালোচক আবার ছবির চিত্রনাট্য, চরিত্র নির্মাণ খুব একটা পছন্দ করেননি। তাদের মতে, ‘হান্ট’ গড়পড়তা মানের।

ছবির সবচেয়ে ইতিবাচক বিষয় অভিনয় ও কারিগরি দিক। আশির দশকের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ছবিটি প্রযুক্তিগতভাবে প্রায় নিখুঁত। কোরিয়ার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধানের চরিত্রে লি জং-জে দুর্দান্ত।

ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের জাতীয় প্রধানের চরিত্রে জুং উ-সাংও অসাধারণ।
চার বছর ধরে ঘষামাজা করেও চিত্রনাট্যে যথেষ্ট ফাঁক রেখেছেন পরিচালক। পুরো ছবিটি যেন এক জায়গাতেই ঘুরপাক খায়। কখনো মনে হয়, খামোখা দীর্ঘ করা হয়েছে ছবির দৈর্ঘ্য।

প্রধান দুই চরিত্র লেখার ক্ষেত্রে দুর্বলতা স্পষ্ট। বিশেষ করে জুং উ-সাংয়ের চরিত্র আরও জায়গা পেতে পারত।

সমালোচকদের মত যা–ই হোক, বক্স অফিসে ঠিকই রাজত্ব করেছে ‘হান্ট’। সুতরাং পরিচালক হিসেবে অভিষেকে যে লি জং-জে ছক্কা হাঁকিয়েছেন, সে কথা বলা যায়।