চুম্বন ও বিকিনি দৃশ্যে আপত্তি, হলিউডের সুযোগ ফিরিয়ে দিলেন মালয়েশিয়ান অভিনেত্রী
হলিউডে কাজের সুযোগ অনেক অভিনয়শিল্পীর কাছেই স্বপ্নের মতো। জনপ্রিয় কোনো সিরিজে একটি চরিত্রও ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে। কিন্তু সেই সুযোগ যদি ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে কী করবেন একজন অভিনেতা? মালয়েশিয়ান অভিনেত্রী ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব সারিমাহ ইব্রাহিমের উত্তর—সুযোগ যত বড়ই হোক, নিজের সীমারেখার সঙ্গে আপস করবেন না। নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘উইনেসডে’ এবং নিকোল কিডম্যান অভিনীত ‘নাইন পারফেক্ট স্ট্রেঞ্জার্স’-এ কাজের সুযোগ পেয়েও শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
৪৮ বছর বয়সী সারিমাহ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থ্রেডসে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। মালয়েশিয়ার আরেক অভিনেত্রী শারিফাহ হানিসিয়াকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজের বিষয়ে পরামর্শ দিতে গিয়ে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সিরিজে কাজের জন্য তিনি শর্টলিস্টেড হয়েছিলেন। এর মধ্যে ছিল নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘ওয়েনসডে’। এমনকি সিরিজটির জন্য নিজের একটি সেলফ-টেপ অডিশনও তৈরি করেছিলেন তিনি। কিন্তু পরে জানতে পারেন, চরিত্রটির একটি দৃশ্যে অন্য এক অভিনেতাকে খুব কাছ থেকে এবং দীর্ঘ সময় ধরে চুমু দিতে হবে। বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত নীতির সঙ্গে মেলেনি। তাই শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দেন।
সারিমাহর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ওয়েনসডে’র জন্য তিনি শর্টলিস্টে জায়গা করে নিয়েছিলেন। অর্থাৎ কাজটি তাঁর নাগালের বাইরের কোনো সম্ভাবনা ছিল না। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের বিষয়টি তাঁর সিদ্ধান্ত বদলে দেয়। নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, মালয়েশিয়ার অভিনয়শিল্পীরা আন্তর্জাতিক প্রযোজনায় সুযোগ পান না—বিষয়টি এমন নয়। অনেক সময় ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ও কাজের ধরন বেছে নেওয়ার কারণেই তাঁরা কিছু প্রস্তাব গ্রহণ করেন না।
শুধু এটিই নয়, নিকোল কিডম্যান অভিনীত ‘নাইন পারফেক্ট স্ট্রেঞ্জার্স’-এর ক্ষেত্রেও একই রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন সারিমাহ। এই সিরিজের একটি চরিত্রের জন্যও তিনি শর্টলিস্টেড হয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে চুম্বনের দৃশ্যের পাশাপাশি বিকিনি পরার প্রয়োজন ছিল। নিজের সীমারেখার সঙ্গে সেটিও মেলেনি তাঁর। ফলে দ্বিতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক একটি সিরিজের সুযোগ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।
তবে সারিমাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর সিদ্ধান্ত অন্য অভিনয়শিল্পীদের জন্য কোনো বিচার বা বিধিনিষেধ নয়। তাঁর বক্তব্য, প্রত্যেক মানুষ আলাদা, প্রত্যেক অভিনয়শিল্পীর ব্যক্তিগত সীমারেখাও আলাদা। কেউ এমন দৃশ্যে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে পারেন, আবার কেউ না–ও করতে পারেন। তাঁর নিজের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও নৈতিক অবস্থানই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে।
সারিমাহ আরও জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক প্রযোজনায় অভিনয়ের ক্ষেত্রে এমন আরও সুযোগ তাঁর সামনে এসেছিল, যেগুলো শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি। তাঁর ভাষ্য, কিছু চরিত্রে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের প্রয়োজন ছিল এবং সেসব ক্ষেত্রে ‘বডি ডাবল’ ব্যবহারের সুযোগও ছিল না।
অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনাও
সারিমাহর সাম্প্রতিক খবর শুধু অভিনয় ঘিরে নয়। ৭ অক্টোবর মালয়েশিয়ার বিনোদনভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তিনি হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের উইমেনস হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস প্রোগ্রামে পড়াশোনা শুরু করতে যাচ্ছেন। এক বছরের এই কোর্সটি অনলাইন ও খণ্ডকালীন। তাঁর উদ্দেশ্য শুধু ব্যক্তিগত জ্ঞান বাড়ানো নয়; একজন অভিনেতা হিসেবে মানুষের শরীর, আবেগ ও জীবনের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে আরও গভীরভাবে বোঝা।
সারিমাহ বলেছেন, একজন অভিনেতার শেখার কোনো শেষ নেই। মনোবিজ্ঞান, ট্রমা, কাউন্সেলিং, স্বাস্থ্য ও মানুষের আচরণ সম্পর্কে যত বেশি জানা যায়, পর্দায় চরিত্রকে তত গভীরভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব। তাই পড়াশোনাকে অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণ হিসেবে দেখছেন না তিনি। বরং অভিনয়কে আরও সমৃদ্ধ করার পথ হিসেবেই দেখছেন।
দ্য স্টার অবলম্বনে