ফিলিস্তিনি ইস্যু নিয়ে কথা বলে যেকোনো পরিণতি মেনে নিতে প্রস্তুত অস্কারজয়ী এই তারকা
হলিউডে ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে কথা বললে ক্যারিয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা বহুদিন ধরেই ছিল। তবে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন স্প্যানিশ অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম। তাঁর ভাষায়, এখন মানুষ বুঝতে শুরু করেছে, গাজায় যা ঘটছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি যাঁরা কথিত ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ তৈরি করছেন, শেষ পর্যন্ত তাঁরাই সামাজিকভাবে চাপে পড়বেন বলেও মন্তব্য করেছেন এই অস্কারজয়ী অভিনেতা।
আপনি এর (গণহত্যা) বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেন, ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু যা ঘটছে তা বাস্তব। যদি আপনি নীরব থাকেন বা সমর্থন করেন, তাহলে আপনি গণহত্যার পক্ষেই অবস্থান নিচ্ছেন।
ফ্রান্সের কান চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের নতুন সিনেমা ‘দ্য বিলাভেড’ নিয়ে হাজির হয়েছেন বারদেম। সেখানকার এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ফিলিস্তিন ইস্যুতে সরব হওয়ার কারণে ক্যারিয়ারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ভয় আছে কি না।
উত্তরে বারদেম বলেন, ভয় অবশ্যই আছে। কিন্তু ভয় পেলেও নিজের বিশ্বাসের পক্ষে দাঁড়াতে হয়। তিনি বলেন, ‘নিজের দিকে তাকাতে পারতে হবে। আমার মা আমাকে এভাবেই বড় করেছেন। এর কোনো বিকল্প নেই। এর ফলে যদি কোনো পরিণতি আসে, আমি তা মেনে নিতে প্রস্তুত।’
হাভিয়ের বারদেম বরাবরই ফিলিস্তিন ইস্যুতে সোচ্চার। চলতি বছরের অস্কার মঞ্চেও পুরস্কার উপস্থাপনার সময় তিনি ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বলেছিলেন। তবে এবার কান উৎসবে তিনি আরও স্পষ্ট ভাষায় বলেন, গাজায় গণহত্যা চলছে—এটি তাঁর কাছে একটি বাস্তব সত্য।
বারদেমের ভাষায়, ‘আপনি এর (গণহত্যা) বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেন, ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু যা ঘটছে তা বাস্তব। যদি আপনি নীরব থাকেন বা সমর্থন করেন, তাহলে আপনি গণহত্যার পক্ষেই অবস্থান নিচ্ছেন।’
হলিউডে ফিলিস্তিনপন্থী শিল্পীদের বিরুদ্ধে গোপন ব্ল্যাকলিস্টের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের তালিকার অস্তিত্ব তিনি নিশ্চিত করতে পারেন না। কারণ, তিনি এখনো বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে কাজের প্রস্তাব পাচ্ছেন। বরং তাঁর মনে হচ্ছে, পরিস্থিতি বদলাচ্ছে।
এই পরিবর্তনের কৃতিত্ব তিনি তরুণ প্রজন্মকে দিয়েছেন। তাঁর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল স্ক্রিনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম সরাসরি বিশ্ববাস্তবতা দেখছে, ফলে তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন।
সংবাদ সম্মেলনে শুধু ফিলিস্তিন নয়, বিশ্বরাজনীতি ও গণমাধ্যম নিয়েও কথা বলেন বারদেম। বিশেষ করে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর একচেটিয়া প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। দুই বড় স্টুডিও প্যারামাউন্ট ও ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সম্ভাব্য একীভবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তথ্য ও বিনোদনজগৎ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে যাচ্ছে, যা বিপজ্জনক হতে পারে।
এ সময় তিনি তরুণদের সমালোচনামূলক চিন্তা করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, মানুষকে তথ্য যাচাই করতে শিখতে হবে, নাহলে সমাজ আরও বিপজ্জনক দিকে এগোবে।
নারীর প্রতি সহিংসতার প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। স্পেনে প্রতি মাসে গড়ে দুজন নারী সাবেক স্বামী বা প্রেমিকের হাতে নিহত হন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজ যেন এসব ঘটনাকে স্বাভাবিকভাবে নিতে শুরু করেছে, যা ভয়াবহ।
বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ করেও কড়া মন্তব্য করেন বারদেম। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভ্লাদিমির পুতিন ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নাম উল্লেখ করে বলেন, ক্ষমতার রাজনীতিতে তাঁদের মধ্যে একধরনের ‘বিষাক্ত পুরুষতান্ত্রিক আচরণ’ কাজ করছে।
এদিকে কান উৎসবে প্রদর্শিত ‘দ্য বিলাভেড’ ইতিমধ্যে বেশ আলোচনায় এসেছে।
নির্মাতা রদ্রিগো সরোগোয়েন পরিচালিত ছবিটি প্রিমিয়ারের পর সাত মিনিট দাঁড়িয়ে অভিবাদন পেয়েছে। ছবিতে বারদেম অভিনয় করেছেন এক কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালকের চরিত্রে, যিনি বিচ্ছিন্ন মেয়েকে নিজের নতুন সিনেমায় কাজের সুযোগ দেন। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে পুরোনো সম্পর্কের ক্ষত আবার সামনে চলে আসে।
ভ্যারাইটি অবলম্বনে