কোরিয়ান চলচ্চিত্র সংকটে রয়েছে: পার্ক চ্যান উক
দক্ষিণ কোরিয়ার চলচ্চিত্র নির্মাতা পার্ক চ্যান–উক বলেছেন, দেশটির চলচ্চিত্রশিল্প এখন বড় সংকটে রয়েছে।
১৯ জানুয়ারি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘নো আদার চয়েস’ সিনেমার এই নির্মাতা বলেন, বাইরে থেকে কোরিয়ান চলচ্চিত্র শিল্পকে যতটা সফল মনে হয়, বাস্তবে পরিস্থিতি ততটা ভালো নয়।
‘ওল্ডবয়’ নির্মাতা বলেন, বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পাওয়া কিছু সিনেমা থাকলেও কোরিয়ান চলচ্চিত্রশিল্প যে সংকটে রয়েছে, তা সবারই জানা। এর প্রধান কারণ হলো প্রেক্ষাগৃহের সংকট। করোনার সময় দর্শকেরা হলে যেতে পারেননি। তখন তারা ঘরে বসেই বিনোদনমূলক কনটেন্ট দেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন। এরপর অনেকেই আর হলে ফিরছেন না।
পার্ক চ্যান–উক আরও বলেন, এখন বিনিয়োগকারীরা সিনেমায় কম টাকা ঢালছেন। বিনিয়োগ করলেও তাঁরা নতুন বা সাহসী গল্পে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। বরং ‘নিরাপদ’ মনে হওয়া প্রকল্পেই টাকা দিচ্ছেন। ফলে হলে মুক্তি পাওয়া অনেক সিনেমা দর্শকদের কাছে অনুমানযোগ্য ও একঘেয়ে মনে হচ্ছে। এতে দর্শক কমছে, আয় কমছে এবং বিনিয়োগও আরও কমে যাচ্ছে।
সিনেমা ও টেলিভিশনের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, বেশির ভাগ মানুষ এগুলোকে খুব গুরুত্বপূর্ণ শিল্পমাধ্যম হিসেবে দেখেন না। তাঁরা সিনেমাকে শুধু দুই ঘণ্টা সময় কাটানোর বিনোদন হিসেবেই ভাবেন। এ কারণে শুধু নিজেকে একজন চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে পরিচয় দেওয়াটাও তাঁর কাছে অর্থহীন মনে হয়।
গত বছর মুক্তি পেয়েছে পার্ক চ্যান–উকের ব্যঙ্গধর্মী সিনেমা ‘নো আদার চয়েস’। ডোনাল্ড ই. ওয়েস্টলেকের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিতে দেখানো হয়েছে—চাকরি হারানো ও দীর্ঘদিন চাকরি না পাওয়ার হতাশা কীভাবে ভয়ংকর পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
সিনেমাটিতে মান সু চরিত্রে অভিনয় করেছেন লি বাইয়ুং–হান। আরও অভিনয় করেছেন সন ইয়ে–জিন ও পার্ক হি–সুন।
নিজের জীবন নিয়েও কথা বলেন পার্ক চ্যান–উক। তিনি জানান, মান সু চরিত্রের মতো জীবন তিনি নিজেও কাটিয়েছেন। এই সিনেমা বানানোর সময় তিনি নিজের জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। তখনই বুঝেছেন, এভাবে আর নয়, এভাবে বেঁচে থাকাও কমিয়ে আনতে হবে।