default-image

বাদশাহ আকবর তাঁর দরবারকক্ষে একদিন সভাসদদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘প্রত্যেকের মনের মধ্যে এখন কী চিন্তা হচ্ছে, কারও পক্ষে কি বলা সম্ভব?’ যিনি এই উত্তর দিতে পারবেন, তাঁকে তিনি হাজার মোহর বকশিশ দেবেন—বললেন এ কথাও।

সভাসদেরা নিজেদের গালে হাত দিয়ে চিন্তা করতে লাগলেন, অন্য সবাই কে কী ভাবছেন। এ বড় কঠিন প্রশ্ন! জবাব খুঁজে না পাওয়ায় তাঁরা হার মেনে নিলেন। অত বড় পুরস্কার পাওয়ার সুযোগ তাঁদের নাগালে এলেও তাঁরা অসহায়। অন্যদের মনের কথা কেউই অনুমান করতে পারলেন না।

অবশেষে বাদশাহ বীরবলকে এ প্রশ্ন করলেন।

রসিক চূড়ামণি বীরবল বললেন, ‘ভাব ও অনুভব-বিজ্ঞানের যে গূঢ় শক্তি আছে, তার ফলে আমি দেখছি যে সবার মনই এখন একদিকে নিবিষ্ট।’

‘কী রকম?’ বাদশাহর বিস্ময় মেশানো প্রশ্ন।

বীরবল সহাস্যে বললেন, ‘আপনি যে খ্যাতি আর গৌরব লাভ করেছেন, সে সম্বন্ধে সবাই এখন চিন্তা করছে। তাদের সবার মধ্যে এখন একই কামনা—মাসের পর মাস, বছরের পর বছর আপনার মহিমা উজ্জ্বল থাকুক। আপনার রাজত্বের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপনার মহিমা অক্ষুণ্ন থাকুক।’

সভার চারদিকে বাদশাহ তাকালেন, অসহায় সভাসদেরা এ কথা অস্বীকার করতে পারেন না, কেননা তা করলে বাদশাহর অপমান হবে। তাঁর কথায় সভাসদদের মনের কী অবস্থা হবে, বীরবল আগে থেকেই তা জানতেন।

বাদশাহ বললেন, ‘বেশ, ঠিক আছে। এখন বলো তো বীরবল, আমার মনের মধ্যে কী চিন্তা রয়েছে?’

‘আরও এক হাজার মোহর দিতে হবে, রাজি?’

‘রাজি?’

‘জাহাঁপনা, আপনি আপনার পূজনীয় পূর্বপুরুষদের কথা চিন্তা করছেন, পবিত্র মনে ওপরওয়ালার কাছে এখন কামনা করছেন, আপনার পূর্বপুরুষেরা যেন আনন্দময় স্বর্গে থাকেন।’

যদিও বাদশাহ একেবারেই এসব কথা চিন্তা করছিলেন না, কিন্তু তাঁকে বাধ্য হয়েই বলতে হলো যে বীরবল ঠিকই তাঁর তখনকার মনের কথা বলেছেন। বীরবলের কথা অস্বীকার করলে পূর্বপুরুষদের প্রতি বাদশাহর অশ্রদ্ধা প্রকাশ পাবে।

বাদশাহ আকবর আসলে তখন কাশ্মীর থেকে সদ্য আসা নকশাকাটা শালের চালান নিয়ে চিন্তা করছিলেন। কিন্তু কথামতো দুই হাজার মোহর বীরবলকে দিতে হলো।

প্রথমা প্রকাশনের রসের রাজা বীরবলের সেরা গল্প বই থেকে

বিজ্ঞাপন
একটু থামুন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন