বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শহীদ ভাই এসি রুমের মতো শীতল চাহনি দিয়ে পাশের সিটটা দেখিয়ে দিলেন। ওমা! সিটে একখান উইন্ডো টাইপ এসি!

‘ভাই, বাসার এসি নষ্ট। তাই অফিস থেকে এটা উপহার পাইছি। নন–এসি বাসে পাশের সিটে এসি নিয়া বসলেই তো চলে, নাকি?’ শহীদ ভাইয়ের উল্টো রসিকতায় বাসের যাত্রীরাও হাসে।

বাস কুমিল্লায় যাত্রাবিরতি দিল। ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটের সব যাত্রী কুমিল্লাবাসীর জন্য দোয়ার দরখাস্ত করল। কারণ, এই একটা জায়গায় বাস যাত্রাবিরতি না দিলে শত শত যাত্রীর কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যেত বহু গুণ। যাহোক, চান মিয়া ও হামজা হালকা হয়ে চা–নাশতা খেলেন। বাস ছাড়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে চান মিয়া হামজাকে বললেন, ‘একটা বিষয় খেয়াল করছ? কুমিল্লার সাথে ঢাকার একটা মিল আছে।’

হামজার কৌতূহলী চাহনি, ‘কী?’

‘কুমিল্লার মাতৃভাণ্ডার আর ঢাকার হাজীর বিরিয়ানি। আমার বাপ তার জন্মে এত মাতৃভাণ্ডার আর হাজীর বিরিয়ানি দেখেন নাই!’

‘তোমার বাপের কথা টানলা কেন?’

হামজার প্রশ্নে হাসি হাসি মুখে চান মিয়ার জবাব, ‘আমি তো দেখছি। কিন্তু আমার বাপে তো দেখে নাই। সে চাঁদপুরের বাইরেই কখনো যায় নাই।’

এবার দুইজনাই হেসে গড়িয়ে পড়ে।

বান্দরবানে গিয়ে মাথায় যেন মঙ্গল গ্রহ ভেঙে পড়ল চান মিয়ার। চাঁদবদনটাতে মুহূর্তেই নেমে এল অমাবস্যা। হামজা আর চান মিয়া একে–অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করলেন। এটাই চান্দের গাড়ি?

‘এই গাড়ি তো আমগো এফডিসির সামনের ফুটপাতে পইড়া থাকে!’ চরম হতাশা নিয়ে দুই বন্ধু বান্দরবান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। বাস রওনা হলো ঢাকার দিকে। বাসে লাউড স্পিকারে গান বাজে, ‘চাঁদের সাথে আমি দেব না...তোমার তুলনা...।’

গান শুনে চান মিয়া বিড়বিড় করে বললেন, ‘তুলনা দেওয়ার মতো না হইলে দিয়া লাভ কী? চান মিয়া যেমন চাঁদকপাইল্ল্যা না, তেমনি চান্দের গাড়িও চান্দের দেশে যায় না।’

কন্ডাক্টরের ডাকে ঘুম ভাঙে চান মিয়া ও হামজার, ‘এই চানখাঁরপুল কারা নামবেন আইসা পড়েন...আইসা পড়েন...চানখাঁরপুল।’

একদিন পরই সম্ভাব্য চানরাত। ঈদের আগে সবাই শেষ সময়ের কেনাকাটায় ব্যস্ত। চান মিয়ার মাথায় একটা বুদ্ধি এল। মনে মনে ভাবলেন, এলাকার নেতা থেকে শুরু করে পাতিনেতা, সবাই ব্যানারে ঈদ শুভেচ্ছা লিখে টাঙিয়ে দেন। আমিও তা–ই করতে পারি। তাহলে এলাকা ও আশপাশের মহল্লার সবার কাছে ভালো পরিচিতি পাওয়া যাবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ।

চানখাঁরপুল চিকেন বিরিয়ানি ব্যবসায়ী সমিতির অফিসের সামনের চৌরাস্তায় একটা ব্যানার ঝোলানো। তাতে বড় বড় অক্ষরে লেখা, ‘চানরাইতের এই ঝলমলে রাইতে সদ্য চান্দের গাড়ি ভ্রমণকারী, এলাকার পরিচিত মুখ, আত্মদরদি চান মিয়ার পক্ষ থেকে সবাইকে শুভেচ্ছা। প্রচারে—মহল্লাবাসী।’ সঙ্গে একটা দাঁত কেলানো হাসিতে চান মিয়ার ছবি।

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সূত্রধরে সবাই জেনে গেছে, আজ চানরাত। মহল্লার সবাই ভিড় করে একে একে চান মিয়ার ব্যানারের সামনে সেলফি তুলছে। কেউ কেউ পোস্ট করে লিখছে, ‘চানরাইতে চান মিয়ার লগে...’

চান মিয়াকে এলাকার এক পাতিনেতার প্রশ্ন, ‘চানরাতে চান মিয়ার ব্যানার! মতলবটা কী?’

চান মিয়া হাসেন, ‘মতলব? ওইটা আমগো চাঁদপুরের একটা জায়গার নাম!’

চান মিয়ার রসিকতা ছাপিয়ে লাউডস্পিকারে বেজে চলেছে, ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ...।’

একটু থামুন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন