পরদিন সকালে নাশতার টেবিলে মামা-ভাগনের দেখা। মিন্টু স্কুলে যাবে, মামা যাবে অফিসে। দুজনেই হাপুস হুপুস করে পরোটা-ডিম খাচ্ছে। দেরি হয়ে গেছে। মিন্টুর মা একসময় এসে একটা হুংকার দিয়ে গেছেন, ‘এত তাড়াহুড়ার কিছু নাই, আস্তে-ধীরে খা।’

মিন্টু পরোটা ছিঁড়তে ছিঁড়তে বলল, ‘মামা, পরে তোমার ঘুম হয়েছিল?’

: হুঁ, ৫০টা ভেড়া গোনার পর সমস্যা হলো।

: কী সমস্যা?

: ভেড়ার পালে বাঘ পড়ল।

: বলো কী! তারপর?

: তারপর আর কী, পচাব্দী গাজীকে ফোন করলাম, তাঁর সাহায্য পাওয়ার আশায়।

: পচাব্দী গাজী কে?

: গাধা, তাঁকে চিনিস না! বাংলাদেশের সবচেয়ে নামকরা বাঘশিকারি। ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান তাঁকে একটা বন্দুক গিফট করেছিলেন তাঁর সাহসের জন্য। এখন বল, আইয়ুব খান কে?

: আইয়ুব খান কে?

: একসময় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট অবশ্য।

: তারপর বিখ্যাত শিকারি পচাব্দী গাজী এলেন?

: হ্যাঁ। উনি এলেন। বললেন, এ নরখাদক বাঘ নয়, একে মারার দরকার নেই। তিনি দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি করলেন। বাঘ পালাল। সঙ্গে ভেড়ার পালও সব পালাল।

: হায় হায়! তারপর কী করলে?

: ভেড়া যেহেতু নেই, তখন আমি খরগোশ গোনা শুরু করলাম।

: খরগোশ কোথায় পেলে?

: ছিল ওখানে কিছু, আশপাশের ঝোপঝাড়ে।

: তারপর কখন ঘুমালে?

: এই তো এক শ বত্রিশটা খরগোশ গোনার পর আর কিছু মনে নেই, মানে ঘুমিয়ে গেলাম আরকি। তোর কী অবস্থা?

: আমি তো ভেড়া গুনিনি।

: মানে?

: মানে আমি গুনেছি কুমির।

: কুমির গুনেছিস মানে!

: ওই যে খালটা ছিল না?

: হুঁ।

: ওই খালে ছিল শত শত কুমির। যেই একটা ভেড়া লাফিয়ে পার হতে গেল, তখন একটা কুমিরও লাফিয়ে উঠে ভেড়াটাকে খেয়ে ফেলল।

: বলিস কী! তারপর?

: ফের একটা ভেড়া, মানে দুই নম্বর ভেড়াটা যেই লাফ দিল, তখন আরেকটা কুমির লাফ দিয়ে দুই নম্বর ভেড়াটাকেও খেয়ে ফেলল।

: বলিস কী?

: হ্যাঁ, তারপর বাধ্য হয়ে আমি ভেড়া গোনা বাদ দিয়ে কুমির গোনা শুরু করলাম। বায়ান্নটা কুমির গোনার পর দেখি, আর কুমির নেই।

: মানে কুমির কই গেল? তখন বললি শত শত কুমির।

: আসলে শত শত কুমিরই ছিল। হঠাৎ একটা ভয়ংকর হাঙর ঢুকে কুমিরগুলোকে খেতে শুরু করল।

: বলিস কী! তারপর কী হলো?

: তারপর আর কী! দেখি, আরও হাঙর আসছে! তখন বাধ্য হয়ে হাঙর গোনা শুরু করলাম। মানে গোটা বারো হাঙর গোনার পর আর কিছু মনে নেই। মনে হয় ঘুমিয়ে গেলাম আরকি।

এই সময় মিন্টুর মা ফের এলেন। তিনি একটু কড়া টাইপের। এসেই আবার একটা ছোটখাটো হুংকার দিলেন, ‘কী ব্যাপার! তোরা নাশতা ফেলে কী গপ্প জুড়েছিস? ভেড়া, বাঘ, খরগোশ, কুমির, হাঙর...বাসায় চিড়িয়াখানা খুলে বসেছিস নাকি? জলদি নাশতা শেষ করে টেবিল খালি কর বলছি!’

তা-ই করল ওরা, টেবিল খালি করে যে যার কাজে ছুটল। একজন স্কুলে, একজন অফিসে। পেছনে পড়ে রইল ওদের কল্পনার ভেড়া, বাঘ, খরগোশ, কুমির, হাঙর…!

একটু থামুন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন