রসালাপ
বিয়ের সময় লইজ্যা না, ভয় লাগছিল! -এজাজুল ইসলাম
অভিনয় ও চিকিৎসা—দুই পেশাতেই ব্যস্ত এজাজুল ইসলাম। তাঁর অভিনয় বরাবরই মানুষকে আনন্দ দেয়। মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুর চেম্বারে যাচ্ছিলেন রোগী দেখতে। যেতে যেতে রস+আলোর মুখোমুখি তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুর কাদের।
নিজেকে সবার আগে কী ভাবেন, ডাক্তার নাকি অভিনেতা?
অবশ্যই ডাক্তার হিসেবে ভাবি।
তারা তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ‘ফাজিল’ কে?
সবচেয়ে বেশি ফাজিল আমি। কারণ, আমিই তো নাটের গুরু।
নাটকে তো তিনজন মিলে নানান ব্যবসা করেছেন। বাস্তবে একটাও করেছেন?
জীবনটাই তো চলে গেল। মা–বাবার সংসারের দায়িত্ব, কর্মজীবনে ডাক্তারি, অভিনয় আর নিজের সংসার। এর মাঝে আর কোনো কিছু করার সুযোগই তো পেলাম না!
বিয়ে তো করেছেন। তা বিয়ের সময় কি লইজ্যা লেগেছিল?
বিয়ের সময় লইজ্যা না, ভয় লাগছিল! আসলে বিয়ে তো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। যদি বউ মনের মতো না হয়, জীবন শেষ! আর বউ যদি বউয়ের মতো হয়, জীবন একেবারে ফার্স্ট ক্লাস!
নাটকে তো কথার পিঠে কথা বলতে পারেন, স্ত্রীর সাথে ঝগড়ার সময়ও কি...
কথার পিঠে কথা বলি না। বললেই অশান্তি বাড়ে। আমার যুক্তি হচ্ছে, ছেলে–মেয়ে সবাইকে বলি, সংসারজীবন ত্যাগের জীবন। সুতরাং যেদিন বিয়ে করবা, সেদিনই মনে করবা তোমার ত্যাগের জীবন শুরু। এ রকম ভাবলে আর ঝামেলা নাই। বউয়ের সঙ্গে তর্কে জিতলেও অশান্তি; আর সে যদি হারে, ওই হারার দুঃখে স্বামীকেই অত্যাচারে মরতে হবে! সুতরাং সে–ই জিতুক, সে–ই শান্তিতে থাকুক—এতেই সংসারে শান্তি!
বাস্তবে সবচেয়ে বেশি ‘নাটক’ করেন কার সাথে?
বাস্তবে সবার সাথেই মাঝেমধ্যে নাটক করি। ধরেন চেম্বারে একটা ক্যানসারের রোগী এল, যখন দেখি সে বাঁচবে না—সুন্দর করে বুঝিয়ে একটা মিথ্যা আশ্বাস দিই। এটাও তো একধরনের অভিনয়।
লোকে আপনাকে গরিবের ডাক্তার বলে। বড়লোকের ডাক্তার হবেন কবে?
আমরা আবেগপ্রবণ জাতি তো, অনেকেই আমার চিকিৎসায় ও আচরণে খুবই খুশি হয়। এখন তো সব হাতের মুঠোয়, কাউকে গালি দেওয়াও সহজ, প্রশংসা করাও সহজ। কয়েকটা স্ট্যাটাস ভাইরাল হওয়ার পর এটা ছড়িয়ে গেছে। তবে আমি মনে করি, সবার ডাক্তার—শহরের সবচেয়ে বড়লোকও আমার রোগী, হতদরিদ্রও আমার রোগী!
রোগী দেখার সময় বেশি মজা পান, নাকি শুটিং সেটে গিয়ে?
সবচাইতে বড় তৃপ্তিটা রোগী দেখেই পাই। অনেকেই সুস্থ হওয়ার পর ভালোবেসে বলে, আমি নামাজ পড়ে আপনার জন্য দোয়া করি, আল্লাহ আপনাকে বাঁচিয়ে রাখুন। সেদিনও একজন নারী বললেন, আল্লাহ আমার আয়ুটা যেন আপনারে দেয়। ভাবাই যায় না! অভিনয় যতই ভালো করি, কোনো ডিরেক্টর বলবে না, আমার আয়ুটা যেন আল্লাহ আপনাকে দেয়! কোনো দর্শকও আমার অভিনয় দেখে এটা বলবে না! এটা শুধু রোগীরাই বলবে। সুতরাং আমার ক্ষেত্রে রোগীর ভালোবাসা দর্শকের ভালোবাসার চেয়ে অনেক অনেক বেশি!
ডাক্তার হিসেবে রোগীর পালস ধরেছেন, অভিনেতা হিসেবে সহশিল্পীর পালস কখনো ধরেছেন?
সহশিল্পীদের কার রগ কী রকম, যাদের টাচ করছি, সবারটাই ষোলো আনা চেনা। তারা হয়তো ভাবছে তাদের চিনি নাই, কিন্তু না…তবে কতটুকু চিনেছি তা বলা যাবে না! বললেই ঝামেলা হয়ে যাবে!
হুমায়ূন আহমেদ আপনাকে এত ‘ফাজিল’ চরিত্রে কেন নিতেন—আপনি কি সত্যিই এমন ছিলেন?
না! আমি বলব, স্যারের আইকিউ। তিনি সাইকোলজিস্ট ছিলেন, কাকে দিয়ে কী হবে বুঝতেন। আমাকে ফাজিল চরিত্রে নেওয়ার পুরো কৃতিত্ব তাঁর।
নাটকে আপনাকে দেখে মানুষ হাসে, কিন্তু বাসায় আপনার কোনো কাণ্ড দেখে সবচেয়ে বেশি কে হাসেন?
বাসায় আমার কাণ্ড দেখে সবাই হাসে।
কেউ যদি বলে, ‘ডা. এজাজ, আপনার অভিনয় দেখে আমার পেট ব্যথা করছে’—তাকে কি ফ্রি চিকিৎসা দেবেন?
আমি রোগীদের বলি, সব সত্যি কথা বলেন। টাকা না থাকলে বলবেন, কোনো সমস্যা নাই। আজ পর্যন্ত আমার এমন কোনো উদাহরণ নাই যে রোগী বলেছে, স্যার, টাকা নাই; আর আমি বলেছি, টাকা দিয়ে যান!
হুমায়ূন স্যারের নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে এমন কোনো ঘটনা আছে, যা মনে পড়লেই এখনো হাসি পায়?
স্যারের সাথে কাজের সময় ভয়ে আমার হাত–পা কাঁপত! টেনশনে থাকতাম, কখন স্যার রাগ হয়! কাজটা যাতে ঠিকঠাক হয়, এই চিন্তাতেই আমি অস্থির। স্যারের সাথে কাজ করার কোনো মজার স্মৃতি নাই, সব আতঙ্কের স্মৃতি। দেখা গেল স্যারের ভয়েই ভুল করছি। স্যার তখন বলতেন, তোমরা শট নাও, আমি চলে যাই! মানে, ভয়ংকর অবস্থা।