ধার দেওয়ার আগে ইন্টারভিউ নিন
বন্ধুকে টাকা ধার দেওয়ার আগে তার একটা ছোটখাটো ইন্টারভিউ নিন। টাকা কেন লাগবে, কবে ফেরত দেবে, এর আগে আর কার কার কাছ থেকে ধার নিয়েছে—এসব প্রশ্ন করুন।
সব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিলেই কেবল টাকা ধার দিন। আর না হলে হাসিমুখে বলুন, ‘সরি বন্ধু, তোর আবেদনটি আপাতত স্থগিত করা হলো!’
একটি সেলফি তুলে রাখুন
ধার দেওয়ার আগে শুধু ‘দিস কিন্তু’ বললে হবে না, প্রমাণও রাখুন। টাকা দেওয়ার সময় দুজন মিলে একটি সেলফি তুলুন। বন্ধুর হাতে থাকবে টাকা, আর মুখে শপথ—‘আমি অমুক, অমুকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা ধার নিলাম এবং অমুক তারিখে ফেরত দেব।’
ছবিটি ফোনে যত্ন করে রেখে দিন। এটাই হবে আপনার ডিজিটাল দলিল।
সার্ভিস চার্জ যোগ করুন
বন্ধুকে ৫০০ টাকা ধার দেওয়ার সময় বলুন, ‘টাকা দেব, তবে ফেরত দেওয়ার সময় সার্ভিস চার্জ দিতে হবে।’
বন্ধু বলবে, ‘এটা তো সুদ!’ বলুন, ‘না রে, সুদ না—যত দিন দেরি, তত দিনের সার্ভিস চার্জ!’দেখবেন, বন্ধু হয় টাকা নেবে না, নয়তো তাড়াতাড়ি ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করবে।
টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন করতে পারেন
ধার দেওয়ার সময় ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন’ করতে পারেন। টাকা দেওয়ার পর প্রথম ধাপে বন্ধুর গার্লফ্রেন্ডকে আর দ্বিতীয় ধাপে গোপনে তার গার্ডিয়ানকে মেসেজ করে জানিয়ে রাখুন—‘আপনার ছেলে/মেয়ে আমার কাছ থেকে ৫০০ টাকা ধার নিয়েছে।’ এতে টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
কিস্তিতে ধার দিতে পারেন
বন্ধু ১ হাজার টাকা চাইলে একবারে না দিয়ে ২০০ টাকা করে পাঁচ দফায় দিন। এতে মনে থাকবে—এটা ধার, দান নয়!
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—প্রতি কিস্তি টাকা দেওয়ার পরই বলতে পারবেন, ‘বন্ধু, আগের ২০০ টাকার কী খবর?’
আপনার ছবি বন্ধুর ফোনে ওয়ালপেপার করুন
ধার দেওয়ার পর বন্ধুর ফোনের ওয়ালপেপার পরিবর্তন করে আপনার ছবি সেট করে দিন। ছবির নিচে লিখে দিন—‘ও আমার কাছে টাকা পায়।’
আগে গ্যারান্টর আনতে বলুন
বন্ধু টাকা ধার চাইলে বলুন, ‘আগে একজন গ্যারান্টর নিয়ে আয়।’
বন্ধু অবাক হয়ে বলবে, ‘গ্যারান্টর কেন?’
বলুন, ‘তুই টাকা নিলে অনেক ঘোরাস, তাই একজন গ্যারান্টর লাগবেই!’
বন্ধু যদি বলে, ‘আরে, আমি তো তোর বন্ধু!’
বলবেন, ‘সেই জন্যই তো গ্যারান্টর চাই। শত্রু হলে তো টাকা ধারই দিতাম না!’