বোর্ড পরীক্ষার রেজাল্ট আতঙ্ক!

কার্টুন: এআই
রেজাল্টের দিন সকাল ১০টা বাজার আগে থেকেই শুরু হয় আরেক মহাযুদ্ধ। যেসব দূরের আত্মীয়কে বিয়েবাড়ি বা মেজবানের রোস্ট-কোরমা ছাড়া দুরবিন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না, ঠিক রেজাল্টের দিন সকালে তাঁদের মুঠোফোন থেকে অটোমেটিক কল চলে আসে!

উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি—শব্দটা শুনলেই স্টুডেন্টদের বুকে একটি চাপা ভয় কাজ করে। আর সেই ভয়ের চূড়ান্ত রূপ হলো ‘বোর্ড পরীক্ষার রেজাল্ট’! জীবনে যত বড় সাহসী মানুষই হোন না কেন, রেজাল্টের দিন ঘনিয়ে এলে বুকের ভেতরে একটি অটোমেটিক ব্যথা শুরু হয়।

রেজাল্ট প্রকাশের তিন দিন আগে থেকেই শুরু হয় আসল ট্র্যাজেডি। মুখের স্বাদ চলে যায়, পেটের ক্ষুধা উধাও হয়ে যায়; আর রাতের ঘুম তো রীতিমতো ইস্তফা দিয়ে চলে যায়।

ঠিক এই সময়টায় মাথায় দুনিয়ার যাবতীয় আজগুবি আর ভয়াবহ চিন্তা ভর করে। হঠাৎ মাঝরাতে মনে হয়, ‘আরে! ইংরেজি খাতায় রোল নম্বরটার ঠিকমতো গোল্লা ভরাট করেছিলাম তো? রেজিস্ট্রেশন নম্বরের জায়গায় আবার ভুল করে রোলের গোল্লা ভরাট করে আসিনি তো? খাতার মার্জিন ঠিক ছিল তো?’ এই চিন্তাতেই শরীরের অর্ধেক রক্ত পানি হয়ে যাওয়ার জোগাড়!

এরপর আসে সেই ভয়ংকর দিন। রেজাল্টের দিন সকাল ১০টা বাজার আগে থেকেই শুরু হয় আরেক মহাযুদ্ধ। যেসব দূরের আত্মীয়কে বিয়েবাড়ি বা মেজবানের রোস্ট-কোরমা ছাড়া দুরবিন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না, ঠিক রেজাল্টের দিন সকালে তাঁদের মুঠোফোন থেকে অটোমেটিক কল চলে আসে!

মনে হয়, রেজাল্ট নিয়ে আমার চেয়ে তাঁদের চিন্তাই বেশি। সকাল সকাল ফোন ধরেই সেই চিরচেনা ডায়লগ, ‘হ্যালো বাবা, রেজাল্ট তো দিল শুনলাম, তোমার কী অবস্থা?’ এই ‘কী অবস্থা’র পেছনে যে আসলে নিজের ছেলে বা মেয়ের রেজাল্ট শোনানোর একটি সুপ্ত বাসনা লুকিয়ে আছে, সেটি বুঝতে আর কারও বাকি থাকে না।

আত্মীয়দের এই ফোনকলের প্যারা কোনোমতে পার করলেও আসল 'খেলা' তো তখনো বাকি। আর সেই খেলার নাম হলো ‘পাশের বাসার আন্টি’! এই আন্টিদের হিসাব খুব সোজা—আপনার চেয়ে তার ছেলে বা মেয়ে যদি ভুল করেও এক-দুই পয়েন্ট বেশি পেয়ে যায়, তাহলে তো আর কথাই নেই! তাঁর মুখের স্পিড তখন সুপারসনিক জেটকেও হার মানায়।

মিষ্টির প্যাকেট হাতে নিয়ে তিনি এমনভাবে আপনার বাসায় এন্ট্রি নেবেন, যেন তার ছেলে নাসায় সরাসরি সায়েন্টিস্ট হিসেবে চান্স পেয়ে গেছে। এরপর হাসিমুখে আপনার আম্মাকে এমন সব কথা শোনাবেন, যা শুনে আপনার মনে হবে, পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে এখনই ব্যাগ গুছিয়ে হিমালয়ে গিয়ে সন্ন্যাস নেওয়া উচিত।

তবে রেজাল্টের এই দিনটা শিক্ষার্থীদের জন্য যতই আতঙ্কের আর বিভীষিকাময় হোক না কেন, একদল মানুষের কাছে দিনটা একদম ঈদের দিনের মতো। তাঁরা হলেন পাড়ার মিষ্টির দোকানদার!

গোল্ডেন বা জিপিএ ফাইভ, পাস করুক বা অল্পের জন্য ছুটে যাক, তাঁদের দোকানে মিষ্টি বিক্রির ধুম লেগেই থাকে। ছাত্রদের দীর্ঘশ্বাস আর আন্টিদের ফ্লেক্স করার হাসিমুখের মাঝখানে বসে মিষ্টির দোকানদারেরা সেদিন ক্যাশবাক্স গুনতে গুনতে হয়তো মনে মনে বলেন, ‘বেঁচে থাকুক বোর্ড পরীক্ষা, বেঁচে থাকুক এই রেজাল্টের দিন!’