এই জীবনে এখন পর্যন্ত আমি যে কথাটা সবচেয়ে বেশিবার বলেছি, তা হচ্ছে—পারব না!
কথা বলা শেখার পর থেকেই এই কথা বলতে শুরু করেছি কি না, জানি না। তবে বোঝার পর থেকেই যে বলছি, তা নিশ্চিত।
বাসা থেকে ক্লাসে ফার্স্ট হওয়ার জন্য চাপ। কয়েক দফা চেষ্টা করে বুঝলাম, ওসব আমার পক্ষে সম্ভব না। অতঃপর বাসা থেকে এই বিষয়ে কিছু বললেই আমার সাফসাফ জবাব, পারব না!
পাড়ার ক্রিকেটে রীতিমতো যুদ্ধ করে ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নামি। হ্যাংলা-পাতলা শরীরে বল মেরে বেশি দূর নিতে পারি না। বন্ধুরা ছয় মারার জন্য চাপ দেয়। বিরক্ত হয়ে বলি, পারব না!
কলেজ লাইফে প্রেমে পড়লাম। ওই বয়সেই প্রেমিকার চাপ, প্রতিষ্ঠিত না হলে নাকি তার বাসায় মানবে না। আমিও সাফ জানিই দিই, পারব না!
চাকরিজীবনের শুরুতেও একই কাহিনি। জব ডেসক্রিপশনে কোম্পানির হাজার হাজার দাবি। কিন্তু বেতন দেবে সাকল্যে দশ হাজার। আমি ইন্টারভিউতে বলি, সরি স্যার, পারব না!
জীবনের এই পর্যায়ে দুর্যোগ বহুগুণে বাড়িয়ে দিল আত্মীয়স্বজনেরা।
এমন না যে তারা হুট করে হাজির হয়েছে। নাটকের নেপথ্যে তারা সব সময়ই ছিল। চারপাশ থেকে তাদের ছুড়ে দেওয়া নানাবিধ প্রশ্নে আমি হলাম জর্জরিত।
কী, চাকরি-বাকরি করা লাগবে না?
কী, বিয়েশাদি করা লাগবে না?
কী, নাতি-নাতনির মুখ দেখব না?
কী, অমুকের ছেলে তো বিদেশ গেল, শুনছেন নাকি!
সব প্রশ্ন যে আমাকেই করা হয়, তা না। আমার বাবা-মা ডাকপিয়নের মহান দায়িত্ব নিয়ে এসব প্রশ্ন আমাকে ‘পাস’ করে।
আমি বিরক্ত হয়ে বলি, আরে এসব প্রশ্ন কে করে, কার এত জ্বালা!
যাহোক, পরিবারের ধারণা আমি এই জীবনে কিছু করতে পারব না। বলতে দ্বিধা নেই, এত দিন আমারও এই ধারণা ছিল। তবে এই কয়েক দিন হলো, আশার একটা ক্ষীণ আলো দেখতে পাচ্ছি।
সেদিন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, চাইলেই কাল সকাল থেকে বিদ্যুৎ আর গ্যাস দিতে পারব না।
আর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না, এমন একটা প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির কোনো উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেছেন, কে এটা নিয়ে নিউজ করেছে, কার এত জ্বালা?
এই দুটো উত্তরই আমি সারা জীবন দিয়ে এসেছি। দেশের মন্ত্রী-মিনিস্টাররাও তাহলে এমন কথা বলে!
এ রকম উত্তর দেওয়ার মনোভাব নিয়ে তারা যদি জীবনে এই পর্যায়ে যেতে পারে, আমিও পারব। কথায় তো বলেই, গ্রেট মাইন্ডস থিংক অ্যালাইক!
এই সূত্রে তারা আর আমি একই। তো তারা পারলে, আমি কেন না!
— বি.স.