ফ্ল্যাশমব অথবা মব

মেট্রোতে বেশ চাপাচাপি, দরজা বন্ধ হচ্ছে না। ভেতরের লোকজন জায়গা দিচ্ছে না আর বাইরের লোকজনও ভেতরে না ঢুকে ছাড়বে না। তারা এই ট্রেনেই যাবে। কর্তব্যরত গার্ড দরজা থেকে একজনকে টেনে নামানোর পরই গেট বন্ধ হয় এবং ট্রেন চলতে শুরু করে। পুরো ঘটনা দেখে একজন মাঝবয়সী লোক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, ‘আসলে পাবলিকই খারাপ।’

বলার সঙ্গে সঙ্গে কাঁধে ব্যাগ নেওয়া কিছু তরুণ রেগে গিয়ে কাজী মারুফের মতো জিজ্ঞেস করল, ‘এই, কী বললেন আপনি? কী বললেন?’

লোকটা বুঝতে পারলেন না তিনি কী এমন খারাপ বলেছেন। তিনি কাঁপা কাঁপা গলায় আবার বললেন, ‘বলেছি, পাবলিকই খারাপ।’

‘আপনার নাম কী?’

‘রবি এজাজ’

‘নামটা লিখে নে, আপনাকে আজ থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো!’

লোকটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল কেন?

তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে রাগী যে, সে বলল, ‘ওমা! আমাদের সামনে আপনি বলবেন পাবলিক খারাপ, আমরা আপনাকে ছেড়ে দেব ভেবেছেন?’

লোকটা বুঝতে পারলেন না তাঁর ভুলটা। তিনি আশপাশে তাকাচ্ছেন। কিন্তু কেউ এই জটিলতায় ঢুকতে চাচ্ছে না। তাঁর অসহায়ত্ব দেখে আরেকজন ভিড় থেকে বের হয়ে বলল, ‘আচ্ছা, আপনি ভুল স্বীকার করে নিচ্ছেন না কেন?’

আরও পড়ুন

‘কী ভুল?’

‘আরে, কথা বাড়ান কেন! বলেন যে আপনার কথা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। পাবলিক ভালো।’

‘প্রত্যাহার করব কেন?’

‘আচ্ছা মুসিবত তো! এই, আপনি কি উত্তর–দক্ষিণ থেকে পাস করছেন?’

‘আমি দক্ষিণখানে থাকি, উত্তরার কাছে। কিন্তু পাস করছি মানে কী? আমি কি ইলেকশন করছি নাকি?’

আরও পড়ুন

এবার ভিড়ের মধ্য থেকে আরেক লোক বলে উঠল, ‘ভাই, শুনেছি! ওখানে খুব গবেষণা হয়?’

‘কোনখানে?’

‘উত্তর–দক্ষিণখানে?’

কাঁধে ব্যাগ, পরনে বিবর্ণ প্যান্ট, চে গুয়েভারার টি–শার্ট পরিহিত একজন এসে উত্তর দেয়, ‘হ্যাঁ, গবেষণা হয়। কীভাবে নিত্যনতুন ফ্ল্যাশমব করা যায়, সেই গবেষণা!’

ঠিক তখনই ভিড় ঠেলে একজন বের হয়ে আসে, তার পরনের প্যান্টটা নিচের দিকে গিয়ে সরু হয়ে গেছে। সে চিকন একটা হাসি দিয়ে বলে, ‘হ্যাঁ, কেউ গবেষণা করে ফ্ল্যাশমব নিয়ে, আর কেউ কেউ করে শুধু মব নিয়ে!’

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন