ঠিক নেশা নয়, বলতে পারেন It’s one kind of passion!

রস+আলোর পাঠকদের জন্য বর্তমান সময়ের তুমুল আলোচিত-সমালোচিত এক চরিত্র, যাকে একনামে সবাই চেনেন, সেই মহামান্য বিদ্যুৎ মশাইয়ের এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হলো। টানা চার ঘণ্টা লোডশেডিং সহ্য করে রীতিমতো পাগল হওয়ার আগমুহূর্তে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ময়মনসিংহ সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ওয়াসিম সাদাত।

আঁকা: সৌখিন

সালাম, জনাব। তা এবার কতক্ষণ থাকবেন?

পা নামিয়ে কথা বলুন, ডিসিপ্লিনেরও তো একটা বিষয় আছে!

সরি, স্যার, সরি! তা তো অবশ্যই, ডিসিপ্লিন ছাড়া কিছু চলে নাকি!

চলে চলে, ডিসিপ্লিন ছাড়াও অনেক কিছু চলে। চোখ জোড়া একটু খোলা রাইখেন, বুঝতে পারবেন যে গোটা একটা দেশও মাঝে মাঝে ডিসিপ্লিন ছাড়া চলে। যাহোক,আমার সাক্ষাৎকার নিতে এসেছেন, কিন্তু পারমিশন নিয়েছেন কার?

পারমিশন তো সেভাবে নেওয়া হয় নাই কারোরই। তবে আমরা আপনাকে উপযুক্ত ফি দেওয়ার চেষ্টা করব।

হুম, গ্রেট! ইউ ক্যান স্টার্ট নাউ।

আজ্ঞে, জনাব, ভদ্রতা বজায় রেখেই বলছি, প্লিজ কিছু মনে করবেন না। তা ইদানীং কি আপনার ঘোরাফেরার নেশাটা একটু বেড়ে গেছে?

ঠিক নেশা নয়, বলতে পারেন It's one kind of passion! তো হয় না যে একটা সময় এসে সবারই তো Out of passion কিছু একটা করতে মন চায়। আমিও তাই ঘোরাফেরাটাকেই Prefer করছি Nowadays!

তা বেশ, তা বেশ। কিন্তু আপনার এই হুটহাট চলে যাওয়ায় তো জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে!

দেখুন মশাই, জনসেবা করেই তো আজ আমার এই হাল। সময়ে-অসময়ে কত মানুষের গালি খেতে হয়, কত সহ্য করা যায় আপনিই বলুন! ফ্যান আস্তে ঘুরছে? দিয়ে দিল আমায় এক গালি। লাইটের আলো কম? সেখানেও আমায় গালি। একজন এলিট ক্লাস সার্ভিস প্রোভাইডার হয়ে এসব কেন সহ্য করব আমি! আর আমি বরাবরই কবিগুরুর ভক্ত, তিনিই তো বলে গেছেন—   

দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া

ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া

একটি ধানের শিষের উপরে

একটি শিশিরবিন্দু।

তাই তো আমি বেরিয়ে পড়েছি কবিগুরুর সেই দেখানো পথে।

লোকজনের মুখে তো আরও শুনতে পাচ্ছি, ইদানীং আপনার আচরণেও বেশ ঔদ্ধত্য দেখা যাচ্ছে। আপনার সাক্ষাৎ পাওয়া বেশ দুরূহ হয়ে উঠেছে। আমরা নিজেরাও সাক্ষী, এই যেমন চার ঘণ্টা অপেক্ষা করে আপনার সাক্ষাৎ পেলাম!

দেখুন, এ কারণেই আমি আপনাদের মতো পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিতে একদমই Comfort feel করি না। বিদ্রোহী কবি নজরুলের চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে আমি যেই না খানিক বিদ্রোহী আচরণ করলাম, অমনি আপনারা এটাকে স্রেফ ঔদ্ধত্য বলে অপমান করলেন? আমি কাব্যভাষাতেই এর প্রতিবাদ করতে চাই, শুনে রাখুন—  

আমি যুগে যুগে আসি,আসিয়াছি পুনঃমহাবিপ্লব হেতু

এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধুমকেতু!

আচ্ছা বুঝলাম! জনগণও এখন তা-ই মনে করে। তারা বলছে, আপনি নাকি আগে অল্পক্ষণের জন্য ঘর ছাড়তেন, আর এখন অল্প সময়ের জন্য ঘরে ফেরেন... 

সত্যি বলতে, সবই ওনার ইশারা। যাহোক, এখন আমাকে উঠতে হচ্ছে...আপনাদের জন্য অনেকটা সময় আমাকে ঘরে থাকতে হলো, আমার এখন বাইরের হাওয়াটা বড় বেশি প্রয়োজন। আমার ফি-টা টেবিলের ওপর রেখে যাবেন।

বিদ্যুৎ সাহেব চলে গেলেন। যেতে যেতে বেসুরো গলায় গাইলেন—  

আমায় ডেকো না,ফেরানো যাবে না

ফেরারি পাখিরা কূলায় ফেরে না....

আমার মনের কোনায় কেমন যেন ধিক শব্দ করে উঠল। আমিও আনমনে গেয়ে উঠলাম—  

আবার দেখা হলে

পুরোনো গান, পুরোনো কবিতা ফিরিয়ে দেব

শুধু পুরোনো চিঠি চেয়ো না,

ভিজে গেছে সব

চোখের জলে...