রসালাপ
কারণ কালো বন্দুক শুধু আমারই আছে, যেটা আমি নিজেই চালাতে পারি —কাজী মারুফ
চিত্রনায়ক কাজী মারুফ এখন আর অভিনয়ে নিয়মিত নন। স্ত্রী–সন্তানসহ থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। সেখান থেকে বাংলাদেশ সময় বুধবার মুখোমুখি হলেন রস+আলোর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুর কাদের।
আপনি ভালো আছেন? নাকি ওরা আপনাকে এখনো ভালো হতে দেয়নি?
ওরা আমাকে আসলেই ভালো হতে দিল না। দেশের কিসব উদ্ভট কাণ্ড দেখি—ফেসবুকে অনলাইনে যা খুশি তা-ই করছে। এদের কর্মকাণ্ড দেখলে মনে হয়, আরেক ছবির আরেকটি সংলাপ দিয়ে দিই...
কিছুদিন আগেই তো আশির দশক থেকে ঘুরে এলেন, কেমন লাগল?
মনে হলো ওই সময়ে সুন্দর ছিল সবাই। মানুষ সুন্দর ছিল, ছবিও সুন্দর ছিল—শুধু আমার বয়সটা একটু কম থাকলে আরও ভালো হতো! মনে হলো, ভুল সময়ে জন্মেছি নাকি!
সিনেমায় বিপদে পড়লে নায়ক, বাস্তবে পড়লে কী করেন—নায়ক নাকি দৌড়?
বাস্তবেও নায়ক। কারণ ন্যায়বিচার। আর ওয়ান্স আ নায়ক, অলওয়েজ নায়ক। তবে বিপদে পড়ে দৌড়াতে হলে সেটাও নায়কোচিতভাবেই—পেছনে তাকিয়ে না, একেবারে সিনেমার মতো!
আপনাকে সবাই ‘আব্বা’খ্যাত নায়ক বলে কেন?
কাজী হায়াৎ আমার বাবা, আমাকে নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সবচেয়ে বড় পরিচালক, তাই হয়তো। আর ‘আব্বা’ ডাকটা এত জনপ্রিয় হয়ে গেছে যে এখন মনে হয় এটা আমার নামের সঙ্গেই স্থায়ীভাবে যুক্ত হয়ে গেছে!
আপনার সিনেমার ‘আব্বা আব্বা’ ডাকের ড্যাডি ইস্যুকে কপি করেই কি অ্যানিমেল সিনেমার রণবীর কাপুর ‘পাপা পাপা’ করেছেন?
আমার মনে হয়, আমরা উপমহাদেশে মাকে প্রাধান্য দিই বেশি। কিন্তু বাবাও তো একটা অংশ, এ জন্যই হয়তো বাবা সেই আবেগটা তুলে এনেছেন। তবে রণবীর যদি আমার ‘আব্বা আব্বা’ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে থাকে, তাহলে কপিরাইটের টাকা কিন্তু বাবার কাছেই যাবে!
আপনার বাবা কাজী হায়াৎ পরিচালক, আপনি নায়ক—বাসায় কখনো কি মনে হয়েছে, ‘এই সিনেমাটার পরিচালক আসলে কে?’
ওই সিনেমার পরিচালক আমার মা, আমাদের তিনিই পরিচালনা করেন। বাবা সিনেমা বানান, আমি সিনেমায় অভিনয় করি—কিন্তু বাসার চিত্রনাট্য, সংলাপ আর শেষ সিদ্ধান্ত সবই মায়ের!
সবার অঙ্ক মেলে, কিন্তু আপনার অঙ্ক মেলে না কেন?
অঙ্কে বরাবরই খারাপ ছিলাম। ভালো হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ওই যে—ওরা আমাকে অঙ্কেও ভালো হতে দিল না। তাই জীবনে হিসাব-নিকাশ কম রাখি, তাতে অন্তত ভুলের পরিমাণও কম থাকে!
আপনার সিনেমার সংলাপ শুনে দর্শক হাততালি দেয়, কিন্তু বাস্তবে আপনার কোনো কথা শুনে স্ত্রী হাততালি দিয়েছেন কখনো?
স্ত্রী হাততালি দেয় তখন, যখন আমি বলি, ‘কী বলতেছো, বলো… আবার বলো।’ তখন বুঝি, হাততালি দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এটা বাহবা নয়—‘সাহস তো কম না!’ ধরনের হাততালি!
বাস্তব জীবনে কারও কথা অপছন্দ হলে কি আপনি চিৎকার করে ‘এই তুই কি বললি’ বলেন?
মাঝেমধ্যে কথা অপছন্দ হলে বলি, ‘অ্যাই, তুই কী বললি, আবার বল!’ তখন একটু ঘাবড়ে যায়। আসলে ভয় দেখানোর জন্য বলি না, শুধু নিশ্চিত হতে চাই—ঠিকই শুনেছি তো! তবে দ্বিতীয়বার বলার সাহস কয়জনের হয়, সেটাই প্রশ্ন।
সবাই কাজী মারুফের কালো বন্দুক নিয়ে এত মাতামাতি করে কেন?
কারণ কালো বন্দুক শুধু আমারই আছে, যেটা আমি নিজেই চালাতে পারি। আর বাংলাদেশে সবাই বন্দুক ছাড়া। তাই আমার বন্দুক নিয়ে এত আলোচনা! তবে চিন্তার কিছু নেই, এটা শুধু সিনেমাতেই চলে—বাস্তবে এটা নিয়ে আমি নিজেই একটু সাবধানী!
এমন কোনো অভ্যাস আছে, যেটা স্ত্রী–সন্তান মিলে আপনাকে ছাড়াতে চেয়েছে, কিন্তু আপনি বলেছেন—‘এটা আমার জন্মগত প্রতিভা, ছাড়ার প্রশ্নই আসে না’?
এরকম কোনো প্রতিভাই নেই, তাই ছাড়ার প্রশ্নই আসে না। তবে স্ত্রী–সন্তান যদি নতুন কোনো প্রতিভা আবিষ্কার করে, তখন সেটা নিয়ে পারিবারিক সভা বসাতে হবে!
শেষ প্রশ্ন—এত বছর পরও যদি আপনাকে কেউ বলে, ‘কাজী মারুফ, একটা সংলাপ দেন তো!’—আপনি কোন সংলাপ দিয়ে তাকে বিদায় করবেন?
‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না, তুমি ভালো হতে চেষ্টা করো।’ তারপর আর কোনো প্রশ্নের উত্তর দেব না—নায়কের শেষ সংলাপের পর তো ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বাজবেই!
[এই সাক্ষাৎকার কাল্পনিক নয়!]