প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করছি

সারা পৃথিবীকেই দ্রুত বদলে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলশিক্ষায় এর প্রভাব কী হবে? প্রোগ্রামারদের চাহিদা কি কমে যাবে? এমন নানা প্রশ্ন নিয়ে আমরা হাজির হয়েছিলাম বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে। কী বলছেন তাঁরা? পড়ুন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান পিন্টু চন্দ্র শীল –এর কথা।

এআইকে বললে সে ছোট ছোট মডিউল আকারে সলিউশন দিতে পারবে; কিন্তু পুরো একটি সফটওয়্যার বা অ্যাপ তৈরি করতে গেলে ‘হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স’ লাগবেই।
ছবি: পেক্সেলস

চ্যাটজিপিটিসহ বিভিন্ন প্রোগ্রামিং টুল আজকাল মানুষ ব্যবহার করছে; কিন্তু আমি মনে করি, এখনো এআইয়ের কাজগুলো খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। জটিল সমস্যার সমাধান দেওয়া এআইয়ের কাজ নয়। যেমন ধরুন, আপনি কোনো একটি ঋণের কিস্তি হিসাব করবেন, সেটি এআই করে দেবে; কিন্তু কারা ঋণ পাবেন, কারা পাবেন না, সেটি যদি অনুমান (প্রেডিক্ট) করতে চান, সে জন্য আপনাকে মানুষের বিচার-বিবেচনা ব্যবহার করতে হবে। আবার ধরুন, আপনি একটি অ্যাপ তৈরি করবেন। এআইকে বললে সে ছোট ছোট মডিউল আকারে সলিউশন দিতে পারবে; কিন্তু পুরো একটি সফটওয়্যার বা অ্যাপ তৈরি করতে গেলে ‘হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স’ লাগবেই।

আরও পড়ুন

প্রশ্ন হলো, তাহলে কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের করণীয় কী? সহজ করে বললে, কম্পিউটারবিজ্ঞানের ভিত হলো গণিত ও পরিসংখ্যান। কারও যদি এই দুটি বিষয়ে দুর্বলতা থাকে, তাহলে কিন্তু তাঁর জন্য কঠিন হয়ে যাবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের প্রোগ্রামিং জ্ঞানটাও ভালো হতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়েই প্রোগ্রামিংয়ের প্রাথমিক বিষয়টি খুব ভালো করে শিখে আসে। তবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রেখে সে উচ্চতর পর্যায়ের কাজে হাত দিতে পারবে। একসময় মেশিন লার্নিং ইঞ্জিনিয়ার, ডেটা অ্যানালিস্ট বা ডেটা ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারবে।

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের সেভাবেই তৈরি করছি। সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা ইঞ্জিনিয়ারিং, রোবোটিকস, মাইক্রোকন্ট্রোলার কিংবা ইন্টারনেট অব থিংসের মতো বিষয়গুলো আমাদের কোর্স কারিকুলামে আছে। প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়েই আমরা শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করছি।

আরও পড়ুন