শিশু মিথ্যা বললে অভিভাবকেরা যে ৫টি ভুল করেন

সন্তান মিথ্যা বলছে, এমনটা জানার পর অনেক অভিভাবকই হতাশ হন, রেগে যান। কেউ সন্তানকে ধমক দেন, বকাঝকা করেন। কেউ আবার তার ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। মনে প্রশ্ন জাগে, সন্তান কি তবে ভালো মানুষ হয়ে উঠছে না? তাকে কি আরও কঠোর শাসনে রাখতে হবে? অথচ শিশুরা সব সময় খারাপ উদ্দেশ্যে মিথ্যা বলে না। কখনো শাস্তির ভয়ে, কখনো নিজের সুবিধার জন্য, আবার কখনো অন্যের মনে কষ্ট না দিতেও তারা মিথ্যা বলতে পারে। শিশুদের সততা ও সামাজিক বিকাশ নিয়ে গবেষণার আলোকে অভিভাবকদের পাঁচটি প্রচলিত ভুল ধারণা তুলে ধরেছেন কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ভিক্টোরিয়া তালওয়ার

প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন
সন্তান মিথ্যা বলছে, এমনটা জানার পর অনেক অভিভাবকই হতাশ হন, রেগে যান; অথচ শিশুরা সব সময় খারাপ উদ্দেশ্যে মিথ্যা বলে না
মডেল: ভুবন ও বর্ণ, ছবি: কবির হোসেন

১. ভালো শিশুরা মিথ্যা বলে না

প্রায় সব শিশুই জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে মিথ্যা বলে। তাই সন্তান মিথ্যা বললেই তাকে খারাপ শিশু ভাবার কারণ নেই; বরং কেন সে মিথ্যা বলছে, তা বোঝার চেষ্টা করুন। কারণটি বুঝতে পারলে তাকে সততার গুরুত্ব বোঝানো এবং সঠিক আচরণ শেখানো সহজ হবে।

২. মিথ্যা বলার অর্থই হলো কোনো সমস্যা আছে

শৈশবে মাঝেমধ্যে মিথ্যা বলা অস্বাভাবিক নয়। অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা, নিজের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং সামাজিক পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতা গড়ে ওঠার সঙ্গে মিথ্যা বলার সম্পর্ক থাকতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে শিশুকে মিথ্যা বলতে উৎসাহ দিতে হবে। গল্প, আলোচনা এবং নিজেদের আচরণের মাধ্যমে তাকে সত্য বলার গুরুত্ব শেখান।

আরও পড়ুন

৩. শাস্তি দিলেই মিথ্যা বলা বন্ধ হবে

কঠোর শাস্তির ভয়ে শিশু সাময়িকভাবে মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকতে পারে। কিন্তু শাস্তির ভয় বেশি হলে সে সত্য স্বীকার না করে নিজের ভুল লুকানোর চেষ্টা করতে পারে।

তাই শুধু শাস্তি দেওয়ার বদলে সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলুন। সত্য বলার জন্য তার প্রশংসা করুন। ভুল করলে তার ধরন ও বয়স অনুযায়ী যুক্তিসংগত ব্যবস্থা নিন।

৪. সব মিথ্যাই সমান গুরুতর

শাস্তি এড়াতে মিথ্যা বলা আর কারও মনে কষ্ট না দিতে সত্য গোপন করা এক বিষয় নয়। আবার নিজের সুবিধা আদায়ের জন্য মিথ্যা বলার উদ্দেশ্যও আলাদা।

তাই সব মিথ্যাকে একইভাবে বিচার করবেন না। কোন পরিস্থিতিতে এবং কেন সন্তান মিথ্যা বলেছে, তা বোঝার চেষ্টা করুন। সেই অনুযায়ী তাকে সত্য বলার গুরুত্ব বোঝান।

আরও পড়ুন

৫. সন্তান মিথ্যা বললে তাকে আর বিশ্বাস করা যায় না

সন্তানের মিথ্যা অভিভাবকের বিশ্বাসে আঘাত করতে পারে। তবে একটি ঘটনা দিয়েই তার চরিত্রের চূড়ান্ত বিচার করা ঠিক নয়।

বিশ্বাস গড়ে ওঠে দীর্ঘদিনের আচরণ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে। তাই সন্তান মিথ্যা বললে তাকে অবিশ্বাস করার বদলে বিষয়টি নিয়ে সহানুভূতির সঙ্গে কথা বলুন। সততা, বিশ্বাস এবং সম্পর্কের গুরুত্ব বোঝানোর সুযোগ হিসেবে ঘটনাটিকে কাজে লাগান।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে

আরও পড়ুন