শিশুরা কি প্রথম জন্মদিনের আগেই ‘মিথ্যা’ বলতে পারে

ভাবতে একটু অদ্ভুত লাগে; একটি শিশু, যে ঠিকমতো কথাই বলতে পারে না, সে আবার মিথ্যা বলবে কীভাবে! কিন্তু গবেষণা বলছে, শিরোনামের প্রশ্নের উত্তর হলো—‘হ্যাঁ’। শিশুরা ১ বছর বয়সের আগেই মিথ্যা বলার মতো ছোট ছোট ‘চালাকি’ করতে পারে।

শিশুরা সব সময় মুখে মিথ্যা বলে না, বরং আচরণ দিয়ে নানা ছলনা করে
ছবি: কবির হোসেন

কীভাবে শিশুরা ‘চালাকি’ বা ‘ছল করে’, দুষ্টুমি করে, ‘মিথ্যা’ বলে?

শিশুরা সব সময় মুখে মিথ্যা বলে না, বরং আচরণ দিয়ে নানা ছলনা করে। দুষ্টুমি করে। যেমন না শোনার ভান করা, মা–বাবার মনোযোগ পেতে কাঁদার অভিনয় এবং লুকিয়ে দুষ্টুমি করা।

একটা উদাহরণ দিই। আমার বন্ধুর দুই বছরের সন্তান ফ্রিজ থেকে ডিম নিয়ে অ্যাকুরিয়ায়ামে ফেলে দেয়। পাখির খাঁচার দরজা খুলে রাখে। পানির কল ছেড়ে রাখে। সুযোগ পেলেই বেসিনে সাবান, হ্যান্ডওয়াশ, ফেসওয়াশ দিয়ে খেলে।

আবার এসব নিয়ে জিজ্ঞেস করলে দুই দিকে মাথা নাড়ায় বা মুখে বলে যে সে এসব করেনি। এসব আদতে ‘মাইক্রো’ প্রতারণামূলক আচরণ।

আরও পড়ুন

বয়স বাড়লে কী হয়?

৮ থেকে ১০ মাস বয়সী শিশুরা টুকটাক ‘চালাকি’ করে। ২ থেকে ৩ বছর বয়সী শিশুরা স্পষ্টভাবে মিথ্যা বলা শুরু করে। ৩ বছরের বেশি বয়সী শিশুরা আরও জটিল ও বুদ্ধিদীপ্ত আচরণ করে। অর্থাৎ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এই ‘দক্ষতা’ আরও উন্নত হয়।

এসব কি খারাপ?

অনেকেই ভাবেন, আমার সন্তান কি মিথ্যা বলা শিখে গেল? কিন্তু গবেষকেরা বলছেন, এটা আদতে কোনো খারাপ অভ্যাস নয়। বরং এটি মস্তিষ্কের বিকাশের একটি স্বাভাবিক ধাপ। এসব আচরণ দেখায় যে শিশুর মস্তিষ্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে।

যেমন স্মৃতিশক্তি, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা, বিপদ বুঝে (মা–বাবা বকা দিতে পারে ভেবে) এড়িয়ে যাওয়া, অন্যরা কী ভাবছে, তা বুঝতে পারা ইত্যাদি। এসবই ভবিষ্যতে সামাজিক বুদ্ধিমত্তা গড়ে তোলে।

শিশু ‘মাইক্রো’ প্রতারণামূলক দুষ্টুমি করলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই
ছবি: প্রথম আলো

মা–বাবার ভূমিকা

মজার বিষয় হলো, অনেক সময় মা–বাবার প্রতিক্রিয়াই তাঁদের অজান্তে শিশুর এ ধরনের আচরণ বাড়িয়ে দেয়। অর্থাৎ মা–বাবা যদি কঠোর হন বা বিষয়গুলো স্বাভাবিকভাবে না নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখান, বকাঝকা দেন, তখন শিশু সচেতনভাবে বিষয়গুলোর প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন

শেষ কথা

শিশু এ ধরনের ‘মাইক্রো’ প্রতারণামূলক দুষ্টুমি করলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বরং শিশুর আচরণ বুঝে শান্তভাবে গাইড করা গুরুত্বপূর্ণ। রাতে ঘুমানোর আগে শিশুকে দিনের ভুলগুলো সম্পর্কে বুঝিয়ে বলতে পারেন।

এককথায় এসব বিষয় নিয়ে ঘাবড়ে যাওয়ার বা চিন্তার কিছু নেই। এই সবই শিশুর বেড়ে ওঠার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

তবে শিশু অতিমাত্রায় অস্বাভাবিক আচরণ করলে (যেমন অতিরিক্ত জেদ করা, কেবলই মিথ্যা বলা, নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ) শিশুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।

সূত্র: প্যারেন্টস ডটকম

আরও পড়ুন