নিজেকে হারতে দাও: টেলর সুইফট

টেলর সুইফটকে ২০২৩ সালের ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করেছে টাইম সাময়িকী। এর আগে বিভিন্ন সময়ে তাঁর ঝুলিতে জমা পড়েছে ‘উইমেন অব দ্য ডিকেড’, ‘সর্বোচ্চ উপার্জনকারী নারী’, ‘প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব’, ‘ধনী নারী তারকা’র মতো উপাধিগুলো। যাঁর ঘরে এত অর্জন; সাফল্য-ব্যর্থতাকে তিনি কীভাবে দেখেন?

টেলর সুইফট
ছবি: এএফপি

আমি ভুল করতে চাই

আমি আমার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেব—এটা আমার প্রতিদিনকার মন্ত্র। হোক সেই সিদ্ধান্ত কঠিন, হোক সেটা অদ্ভুত, হোক সেটা স্রোতের বিপরীতে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আমরা একটা উদাহরণ খুঁজি। এর আগে কে আমার মতো করে ভেবেছিল, সেটা জেনে নিজেকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করি। কিন্তু আমি উদাহরণ খুঁজতে চাই না। আমি ভুল করতে চাই। আর এভাবে আমার ভুল সিদ্ধান্তগুলোই আমাকে ভালো কিছুর দিকে নিয়ে যায়। আমার ব্যর্থতাই আমাকে সাফল্যের দিকে নিয়ে যায়। পুরস্কার আর স্বীকৃতি সব সময়ই আমাদের সফল আইডিয়াগুলোর দিকে আলো ফেলে। কিন্তু এই আলোর ওপাশে আমি কী দেখতে পাই জানো? আমি দেখি, একটা সফল আইডিয়ার পেছনে থাকে এক শ অথবা হাজারটা ব্যর্থ আইডিয়া, ভুল সিদ্ধান্ত আর বারবার হোঁচট খাওয়া।

তাই তরুণদের জন্য আমি বলব, হোঁচটকে ভয় পেয়ো না। নিজেকে ব্যর্থ হওয়ার অনুমতি দাও। আমি অনেক অনেক চেষ্টা করি ব্যর্থ না হতে। কারণ, হেরে যাওয়া বিব্রতকর। কিন্তু সেই সঙ্গে আমি নিজেকে ব্যর্থতার জন্য প্রস্তুতও রাখি। নিজেকে পরাজয়ের অনুমতি দিয়ে রাখি। তোমরাও রেখো। নিজের ওপর সহানুভূতিশীল, সহজ হও। নিজেকে হারতে দাও। নিজের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নাও।

টেলর সুইফট
ছবি: রয়টার্স

থেমে থেকো না

গত ১০ বছরে আমি দেখেছি, নারী শিল্পীরা সব সময় নিজেদের শরীর, গড়ন, পোশাক, ফ্যাশন, ব্যক্তিজীবন নিয়ে সমালোচিত হচ্ছেন। সামান্য থেকে সামন্য বিষয়েও তাঁরা নির্দয় সমালোচনার শিকার হচ্ছেন। ‘আমার ওর কাজ ভালো লাগে, কিন্তু এরপরও ওর মধ্যে কী যেন একটা সমস্যা আছে!’—এমন মন্তব্য কিন্তু পুরুষ শিল্পীর বেলায় তেমন শোনা যায় না। এটা শুধু আমাদের বেলায়, মানে নারী শিল্পীদের জন্যই বরাদ্দ। ভেবে দেখো, এমন বিরূপ পরিবেশেও আমরা নতুন নতুন কাজ করে যাচ্ছি। এমন নির্দয় সমালোচনা কিছু শিল্পীকে ভেঙে দিতে পারে, আবার কিছু শিল্পী আছেন, যাঁরা এর মধ্যেও শিল্প সৃষ্টি করে যান; থেমে থাকেন না। বৈরী পরিবেশও যাঁদের থামাতে পারে না, তাঁরা আমার অনুপ্রেরণা। এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র উপায় হলো, সামনের দিকে চলতে থাকা। না থেমে, না ঘাবড়ে, অন্যের কথায় প্রভাবিত না হয়ে চলতে থাকা। কোনো সমালোচনাই যেন আমদের সৃষ্টিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।

আরও পড়ুন

নিজের সঙ্গে সন্ধি করতে হবে

ক্যারিয়ারে প্রতিটি ধাপেই আমাকে নানা লোকের নানা কথা শুনতে হয়েছে। বারবার আমার কাজ, আমার মেধা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আমি কখনোই অনুকূল পরিবেশ পাইনি। মানুষের বরাবরই সংশয় ছিল আমাকে নিয়ে। আমি এত সফলতার যোগ্য কি না, এত জনপ্রিয়তা, এত ভক্ত, এত ভালোবাসা আমার প্রাপ্য কি না, এ নিয়ে অনেকের মনে দ্বিধা ছিল। একটা সময় সবার এই ধারণাকে বদলানোর জন্য আমি কাঠখড় পুড়িয়ে চেষ্টা করতাম। নিজেকে প্রমাণ করার জন্য নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের বাইরে যেতাম। আমাকে নিয়ে যাঁদের দ্বিধা-সংশয়, তাঁদের নিয়ে গান বানাতাম। কিন্তু এখন এসে আমি উপলব্ধি করেছি, মানুষের এই সমালোচনা, বিতর্ক, দ্বিধা, সংশয়, বৈরিতা—এসব শিল্পীজীবনের অংশ। আমাকে তাঁদের জন্য নয়, আমাকে আমার জন্য গান বানাতে হবে। নিজের সঙ্গে সন্ধি করতে হবে, নিজের প্রতি নমনীয় হতে হবে। আমার এই উপলব্ধি তরুণদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে চাই। অন্যের জন্য না, সৃষ্টি করো নিজের জন্য।

ইংরেজি থেকে অনুদিত

তথ্যসূত্র: বিলবোর্ড, আইহার্ট রেডিও, অ্যাপল মিউজিক পডকাস্টের ইউটিউব চ্যানেল