‘অ্যানিমেল’ থেকে ‘তুফান’—‘আলফা মেল’ নিয়ে আমাদের বড় ভুলটা কোথায়

আলফা মেল বলতে আমরা যা বুঝি, আদতে কি তা-ই? আধুনিক প্রাণিবিজ্ঞান ও গবেষণা বলছে, ধারণাটি দাঁড়িয়ে আছে একটি ঐতিহাসিক ভুল ব্যাখ্যার ওপর।

আজকালকার সিনেমায় আলফা মেল প্রবণতা স্পষ্ট
ছবি: সিনেমার পোস্টারের কোলাজ

‘আলফা মেল’ শব্দবন্ধটি হালে বেশ পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে করপোরেট জগৎ, দুই ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃতও। সাধারণ অর্থে আলফা মেল বলতে এমন একজনকে বোঝানো হয়, যিনি অন্যদের তুলনায় অত্যন্ত শক্তিশালী, আক্রমণাত্মক, কঠোর এবং তাঁর মধ্যে আধিপত্যবাদী প্রবণতা আছে। বাংলায় এটাকে অনেকে ‘ব্যাটাগিরি’ বলে থাকেন, যদিও শব্দটি লিঙ্গনিরপেক্ষ নয় বলে কেউ কেউ ব্যবহার করতে চান না।

কিন্তু আলফা মেল বলতে আমরা যা বুঝি, আদতে কি তা-ই? আধুনিক প্রাণিবিজ্ঞান ও গবেষণা বলছে, ধারণাটি দাঁড়িয়ে আছে একটি ঐতিহাসিক ভুল ব্যাখ্যার ওপর।

বিখ্যাত নেকড়ে গবেষক এল ডেভিড মেক, প্রাইমেটোলজিস্ট ফ্রান্স দ্যু ভাল, বায়োলজিক্যাল অ্যানথ্রোপলজির অধ্যাপক অ্যারন স্যানডেল, মার্কিন স্নায়ুবিজ্ঞানী রবার্ট স্যাপোলস্কির বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে উঠে এসেছে, প্রাণিজগতে শারীরিক বা পেশিশক্তির দাপট নেতৃত্বের মূলে নয়, বরং সামাজিক বুদ্ধিমত্তা, দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতাই তার পেছনের কারণ।

সিনেমায় আলফা মেল প্রবণতা

আজকালকার সিনেমায় আলফা মেল প্রবণতা স্পষ্ট। বলিউড, তামিল, এমনকি ঢালিউড সিনেমায় আলফা মেলের উপস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনে–অবচেতনে তা জায়গা করে নিচ্ছে।

ঢালিউড অভিনেতা শাকিব খানের ‘তুফান’ বা ‘রাক্ষস’ সিনেমায় নায়কের লুক ও আচরণের মধ্যে আলফা মেল বা ‘ডমিন্যান্ট হিরো’র ছাপ স্পষ্ট। বলিউডের ‘অ্যানিমেল’ বা তেলেগু সিনেমা ‘পুষ্পা’ও এখানে মোক্ষম উদাহরণ।

সিনেমায় আলফা মেলের রাজত্বের ফলে ইগো, অহংকার ছাড়া যথার্থ পুরুষ হয়ে ওঠা দুষ্কর—বাংলাদেশের সাধারণ তরুণ দর্শকের অবচেতন মনে এমন ধারণা গেঁথে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। তাদের কাছে বীরত্ব কোনো গঠনমূলক বিষয় নয়, বরং ধ্বংসাত্মক আচরণের সমষ্টি, যেটি ছাড়া পরিবার বা দেশ রক্ষা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

তবে ধীরে হলেও হলিউডে ‘টাফ গাই’ বা ‘হাইপারমাসকুলিনিটি’র ধারণায় দ্রুত পরিবর্তন আসছে। আশির দশকের র‍্যাম্বো বা গডফাদারের মতো চরিত্রগুলো যেভাবে পেশিশক্তি, কঠোরতা ও আবেগহীনতার মাধ্যমে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার প্রবণতা আমরা দেখি, তার চাহিদা এখন কমেছে।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া লস অ্যাঞ্জেলেসের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ তরুণ এখন এমন বীরদের পছন্দ করেন, যাঁরা যুদ্ধংদেহী নন, বরং স্নেহশীল পিতা, শিক্ষক বা বন্ধু হতে পারেন। তাঁরা এমন পুরুষ চরিত্র দেখতে চান, যাঁরা মানসিকভাবে সংবেদনশীল ও নিজেদের দুর্বলতা প্রকাশে দ্বিধাহীন।

মনোবিজ্ঞানী স্নেজানা রিপ্যাক মনে করেন, একসময় সমাজ পুরুষদের ‘যোদ্ধা’ হিসেবে গড়ে তুলতে চাইত। তবে আদিম যুগের সেই পেশিশক্তির প্রয়োজনীয়তা এখন ফুরিয়ে এসেছে। তিনি মনে করেন, এখনকার নেতৃত্বের মাপকাঠি শুধু শারীরিক শক্তি নয়, বরং অন্যকে বোঝার ক্ষমতা বা এমপ্যাথি। সংক্ষেপে বলতে গেলে নিঃসঙ্গ যোদ্ধার চেয়ে সেই নায়কই এখন জনপ্রিয়, যাঁর অন্যের জীবনে উপস্থিত থাকার সময় আছে এবং আবেগ সংস্থানের সৎসাহস আছে।

আরও পড়ুন

বন্দী বনাম বন্য নেকড়ে: ভুল ধারণার সূত্রপাত

আলফা মেল ধারণাটির বিবত৴ন বুঝতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে। কথাটির শিকড় মূলত মুরগির ওপর করা একটি গবেষণায় প্রোথিত। ১৯২০-এর দশকে নরওয়েজীয় প্রাণিবিজ্ঞানী টোরলিফ শেলডারআপ মুরগির সামাজিক আচরণ গবেষণায় মুরগির দলে একটি বিশেষ ক্রম লক্ষ করেন। তিনি একে চিহ্নিত করেন ‘পেকিং অর্ডার’ বা ঠোকরানোর ক্রম হিসেবে।

মুরগির দলে বিরাজমান পেকিং অর্ডার ছিল, কে কাকে ঠোকরাতে পারবে, তার একটি সামাজিক ক্রম। পরবর্তী দশকগুলোয় অনেক গবেষক মুরগির এ আচরণগত কাঠামো অন্য প্রাণীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে ধরে নিতে শুরু করেন। আরও সহজ করে বললে, প্রাণীদের মধ্যে ক্ষমতা ও আধিপত্যের একটি ‘সর্বজনীন’ ক্রম আছে; এমন একটি ধারণা বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনায় জায়গা করে নেয় এবং নেকড়েদের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য বলে অনেকে মনে করতে শুরু করেন।

সংকীর্ণ পরিবেশে নেকড়েরা চরম সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং একটি আরেকটির ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করতে থাকে
ছবি: পেক্সেলস

তবে বাস্তবে নেকড়ে সমাজে এমনটা দেখা যায়নি। ১৯৪০-এর দশকে সুইস বিজ্ঞানী রুডলফ শেনকেল চিড়িয়াখানায় বন্দী একদল নেকড়ের ওপর গবেষণা চালান। দেখা যায়, সংকীর্ণ পরিবেশে নেকড়েরা চরম সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং একটি আরেকটির ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করতে থাকে। শেনকেল এ পরিস্থিতিকে ‘আলফা’ তকমা দেন।

তবে ১৯৯৯ সালে ডেভিড মেক তার ‘হোয়াটএভার হ্যাপেন্ড টু দ্য টার্ম আলফা উলফ’ শিরোনামের প্রবন্ধে নেকড়েদের এ অবস্থাকে ‘কারাগারের সংস্কৃতি’র সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে অপরিচিত মানুষ একত্রে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকে। মেকের মতে, প্রকৃতিতে নেকড়েরা পরিবারভিত্তিক কাঠামোতে থাকে। প্রচলিত আলফা তত্ত্বটি নেকড়েদের বন্দী অবস্থার। এত দিন যে ব্যাখ্যা দিয়ে আসা হচ্ছিল, তা মূলত উলফ বিহেভিয়ারের ভুল ব্যাখ্যা।

আলফা মেল যেভাবে বিশ্ববীক্ষায় জনপ্রিয় হলো

মজার বিষয় হলো, আলফা মেলের ধারণাকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়ার পেছনে ডেভিড মেকের অবদান আছে। ১৯৭০ সালে তাঁর বই ‘দ্য উলফ: ইকোলজি অ্যান্ড বিহেভিয়ার অব অ্যান এনডেনঞ্জারড স্পিসিজ’-এ তিনি শেনকেলের গবেষণার কথা উল্লেখ করেন। বইটি বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। ক্রমে ‘আলফা মেল’ শব্দবন্ধটি মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু ডেভিড মেক উত্তর মেরুর এলসমিয়ার দ্বীপে বন্য নেকড়েদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে তাদের প্রকৃত জীবন পর্যবেক্ষণের পর নিজের ভুল বুঝতে পারেন। ১৯৯৯ ও ২০০০ সালে প্রকাশিত তাঁর গবেষণাপত্রগুলোয় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আলফা’ শব্দটি বর্জন করার আহ্বান জানান।

মেকের লেখা ‘আলফা স্ট্যাটাস, ডমিনেন্স অ্যান্ড দ্য ডিভিশন অব লেবার ইন উলফ প্যাকস’ প্রবন্ধ অনুযায়ী, নেকড়ের দল কোনো রক্তক্ষয়ী ক্ষমতার লড়াইয়ের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতার শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করে না, বরং এটি একটি স্বাভাবিক পারিবারিক কাঠামোর বিষয়। যেখানে প্রজননক্ষম এক জোড়া নেকড়ে মা-বাবার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় এবং তাদের সন্তানেরা সে পরিবারে বড় হয়। অর্থাৎ আলফা শব্দটি আধিপত্য নয়, বরং অভিভাবকত্বের ধারণার সঙ্গে বেশি সম্পর্কযুক্ত।

মেকের ভাষায়, প্রাকৃতিক পরিবেশে নেতৃত্বের ভূমিকার জন্য কাউকে লড়াই করে শীর্ষে উঠতে হয় না। কারণ, মানুষের পরিবারের মতোই তরুণ নেকড়েরা খুব স্বাভাবিকভাবে তাদের মা-বাবার নেতৃত্ব অনুসরণ করে।

এ কারণে বর্তমানে প্রাণিবিজ্ঞানীরা ‘আলফা মেল’ বা ‘আলফা ফিমেল’ শব্দবন্ধগুলোর পরিবর্তে ‘মেল ব্রিডার’ বা ‘ফিমেল ব্রিডার’ বা শুধু মাতা-পিতা শব্দগুলো ব্যবহারের পক্ষপাতি।

আলফা মানেই কি উগ্র উৎপীড়ক, উত্তর মিলবে শিম্পাঞ্জিদের সমাজে

নেকড়েদের ব্যাপারে বলতে গিয়ে ডেভিড মেক যেমন ‘আলফা’ শব্দটিকেই অপ্রাসঙ্গিক মনে করেন, শিম্পাঞ্জিদের ক্ষেত্রে প্রাইমেটোলজিস্ট ফ্রান্স দ্যু ভাল বিষয়টি অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

শিম্পাঞ্জি সমাজে একাধিক প্রাপ্তবয়স্ক ও পরস্পরের সঙ্গে রক্তসম্পর্কহীন পুরুষ থাকে। ফলে সেখানে নেতৃত্বের একটি ক্রম বা র‍্যাঙ্কিং তৈরি হয়। দ্যু ভাল এ পদমর্যাদাকে অস্বীকার করেন না। তবে তিনি এর প্রচলিত অর্থকে ভেঙে দেন। তাঁর মতে, আলফা হওয়া কোনো চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নয়। এটা একটা সামাজিক অবস্থান। এটি অর্জনে প্রয়োজন জোট, সমর্থন ও সহমর্মিতা।

প্রায় পাঁচ দশক ধরে শিম্পাঞ্জিদের আচরণ নিয়ে গবেষণা করা দ্যু ভাল ১৯৮২ সালে তাঁর বই ‘শিম্পাঞ্জি পলিটিকস’–এ দেখিয়েছেন, শিম্পাঞ্জিরা শুধু গায়ের জোরে টেকে না। পুরুষ আলফা হতে হলে তাকে দলের নারী সদস্যদের সমর্থন পেতে হয়; অন্য পুরুষদের সঙ্গে কৌশলী জোট গ্রহণ করতে হয়। সেই সঙ্গে সামলাতে হয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও।

শিম্পাঞ্জিরা শুধু গায়ের জোরে টেকে না। পুরুষ আলফা হতে হলে তাকে দলের নারী সদস্যদের সমর্থন পেতে হয়; অন্য পুরুষদের সঙ্গে কৌশলী জোট গ্রহণ করতে হয়
ছবি: পেক্সেলস

দ্যু ভাল লক্ষ করেন, যেই আলফা শুধু আক্রমণাত্মক আচরণ করে, তার নেতৃত্বও দ্রুত ভেঙে পড়ে। অন্যদিকে যে নেতা দুর্বল সদস্যদের রক্ষা করে, কোন্দল মেটানোয় ভূমিকা রাখে এবং সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখে, সে দীর্ঘসময় ক্ষমতায় থাকে। দ্যু ভালের ভাষায়, একতরফা দাবির বিপরীতে আলফা হওয়া যায় না, বরং এটি সামাজিক স্বীকৃতির ফল।

দ্যু ভাল আরও দেখিয়েছেন, মানুষ ও শিম্পাঞ্জির বিবর্তনীয় ঘনিষ্ঠতার কারণে আমাদের আবেগ, বন্ধন ও সামাজিক স্তরবিন্যাসের সঙ্গে শিম্পাঞ্জিদের গভীর মিল আছে। আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, বোনোবো প্রজাতির শিম্পাঞ্জিদের ভেতরে অনেক সময় কোনো পুরুষ নয়, বরং প্রভাবশালী নারীই সামাজিক নেতৃত্বের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

ডেভিড মেকের গবেষণায় যেমন দেখা গেছে, নেকড়ে পরিবারে মা-বাবা উভয়েই যৌথভাবে নেতৃত্ব দেয়, তেমনি দ্যু ভালও দেখিয়েছেন যে নেতৃত্ব কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গের ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি ‘ডোনা’ নামের একটি স্ত্রী শিম্পাঞ্জির উদাহরণ দেন, যার শারীরিক গঠন ও ব্যক্তিত্ব ছিল অনেক পুরুষ শিম্পাঞ্জির চেয়েও প্রভাবশালী। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, প্রকৃতিতে নেতৃত্বের ধরন অনেক বেশি নমনীয় ও বৈচিত্র্যময়।

অর্থাৎ ডেভিড মেক ও দ্যু ভাল এই দুজন বিজ্ঞানীর কথায় একটি বিষয় স্পষ্ট, পপ কালচারে আলফা মেল বলতে উগ্র, ভয় প্রদর্শনকারী বা উৎপীড়ক পুরুষের যে ছবি আঁকা হয়, প্রকৃতির বাস্তবতায় তার সরল কোনো প্রতিরূপ দেখা যায় না।

আরও পড়ুন

মানুষের নেতৃত্বে ‘আধিপত্য’ বনাম ‘মর্যাদা’

নৃবিজ্ঞানী জোসেফ হেনরিখ ও ফ্রান্সিসকো গিল-হোয়াইট তাঁদের গবেষণায় মানুষের নেতৃত্বের দুটি ভিন্ন পথ দেখিয়েছেন। ‘আধিপত্য’ ও ‘মর্যাদা’। আধিপত্য মূলত বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন ও গায়ের জোরের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, যা আদিম প্রাণিকুল বা শিম্পাঞ্জিদের মধ্যে প্রবল। কিন্তু মানুষের সভ্যতায় ‘মর্যাদা’ বা ‘প্রেস্টিজ’ হলো নেতৃত্বের প্রকৃত ও টেকসই ভিত্তি।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোসেফ হেনরিখের মতে, মানুষের বিবর্তনের মূলে ছিল তথ্য ও সংস্কৃতির আদান-প্রদান। যখন কোনো ব্যক্তি তাঁর অসামান্য জ্ঞান, কারিগরি দক্ষতা বা পরোপকারের মাধ্যমে সমাজকে উপকৃত করেন, তখন মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর প্রতি সম্মান ও আনুগত্য প্রকাশ করে।

এটা কেবল দাপট নয়, বরং সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতার স্বীকৃতি। মর্যাদার ভিত্তিতে তৈরি এই নেতৃত্বে অনুসারীরা নেতার কাছ থেকে শেখার সুযোগ পায়। এটা সামাজিক সংহতি ও উদ্ভাবনী শক্তি বৃদ্ধি করে।

অন্যদিকে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী রবার্ট স্যাপোলস্কি দেখিয়েছেন, আধিপত্যবাদী কাঠামোয় মানসিক চাপ ও অস্থিরতা বেশি থাকে, যেখানে মর্যাদাভিত্তিক সমাজব্যবস্থায় পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা প্রাধান্য পায়।

সুতরাং মানুষের সমাজব্যবস্থায় প্রকৃত নেতৃত্ব আসে জ্ঞান, সামাজিক বুদ্ধিমত্তা ও ত্যাগের মহিমা থেকে; উগ্র পেশিশক্তি থেকে নয়।

তথ্যসূত্র

  • ‘দ্য ইভোল্যুশন অব প্রেস্টিজ: ফ্রিলি কনফার্ড ডিফরেন্স অ্যাজ আ মেকানিজম ফর এনহ্যান্সিং দ্য বেনিফিটস অব কালচারাল ট্রান্সমিশন’: জোসেফ হেনরিখ ও গিল-হোয়াইট, এফজে

  • ‘দ্য সিক্রেট অব আওয়ার সাকসেস: হাউ কালচার ইজ ড্রাইভিং হিউম্যান ইভোল্যুশন, ডোমেস্টিকেটিং আওয়ার স্পিসিজ অ্যান্ড মেকিং আস স্মার্টার’: জোসেফ হেনরিখ, প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি প্রেস

  • ‘বিহেভ: দ্য বায়োলজি অব হিউম্যানস অ্যাট আওয়ার বেস্ট অ্যান্ড ওয়ার্স্ট’: রবার্ট এম সাপলস্কি, পেঙ্গুইন বুকস

  • ‘হায়ারার্কি ইন দ্য ফরেস্ট: দ্য ইভোল্যুশন অব ইগ্যালিটারিয়ান বিহেভিয়ার’: ক্রিস্টোফার বোয়েম, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস

আরও পড়ুন