প্যারেন্টিংয়ের নামে ওভারপ্যারেন্টিং করছেন না তো? মিলিয়ে নিন
ভালো মা–বাবা হতে কে না চান! সন্তানকে নিরাপদ, সফল ও সুখী দেখতে আমরা অনেক সময় সবকিছু নিজের হাতে তুলে নিতে চাই। এসব অতিরিক্ত যত্ন আর নিয়ন্ত্রণ সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে—নিজে শেখা, ভুল করা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কেড়ে নেয়। আর তখনই তা হয়ে ওঠে ওভারপ্যারেন্টিং।
১. সন্তানের হয়ে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া
কী পড়বে, কী খেলবে, কার সঙ্গে মিশবে—সব আপনি ঠিক করে দিলে সন্তান নিজের পছন্দ-অপছন্দ বোঝার সুযোগ পাবে না। বড় হয়েও সিদ্ধান্তহীনতা আর আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগবে। ভালো-মন্দ নানা দিক বিশ্লেষণের ক্ষমতা কমে যাবে।
২. ছোট ছোট ভুলও হতে না দেওয়া
ভুলের মাধ্যমেই শিশু শেখে। প্রতিবার বাঁচিয়ে দিলে শেখার সেই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।
৩. সারাক্ষণ নজরদারি করা
সব সময় ফোন করা, খোঁজ নেওয়া বা পর্যবেক্ষণ করা সন্তানের মধ্যে নজরদারি থেকে পালানোর ঝোঁক তৈরি করতে পারে। তাতে আপনার আর সন্তানের ভেতর দূরত্ব তৈরি হবে। আর তখন সে যখনই চোখের আড়াল হবে বা সুযোগ পাবে, এমন কিছু করার চেষ্টা করবে, যা আপনি মোটেও করতে দিতে চান না বা যা আপনার থেকে লুকানো আবশ্যক।
৪. সমস্যা দেখলেই হস্তক্ষেপ করা
বন্ধু, শিক্ষক বা পরিস্থিতির সঙ্গে সামান্য সমস্যাতেই আপনি এগিয়ে গেলে সন্তান নিজে মোকাবিলা করতে শেখে না। পরবর্তী জীবনে জটিল সমস্যা ডেকে আনে।
৫. তুলনা
সন্তানের মনোবল ভেঙে দেয়। আর তার ভেতর হীনম্মন্যতা তৈরি করে।
৬. বয়সের তুলনায় কম দায়িত্ব দেওয়া
বয়স অনুযায়ী দায়িত্ব না পেলে আত্মনির্ভরতা গড়ে ওঠে না।
৭. সব ঝুঁকি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা
জীবন ঝুঁকিমুক্ত নয়। নিরাপদ ঝুঁকি নিতে না শেখালে সন্তান ভবিষ্যতে ভয় পেতে শেখে। সব ঝুঁকি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা সন্তানের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
৮. নিজের ভয় সন্তানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া
আপনার ব্যক্তিগত ভয় বা বিশ্বাস যেন সন্তানের সিদ্ধান্ত ও স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ না করে।
৯. ‘আমিই সব ভালো বুঝি’ মনোভাব
আপনি সব পারেন, সব উত্তর আপনার কাছেই আছে, আপনিই ভালো বোঝেন—এই ধারণায় সন্তানের কণ্ঠস্বর, আত্মবিশ্বাস চাপা পড়ে যায়।
১০. স্বাধীনতা দিতে ভয় পাওয়া
স্বাধীনতা মানেই দূরে সরে যাওয়া নয়, বরং আস্থা আর বিশ্বাসের জায়গা তৈরি করা। সন্তানকে একটু একটু করে নিজের ওপর ভর করতে, আত্মনির্ভরশীল হতে শেখানোই স্বাধীনতা।
সূত্র: প্যারেন্টস