উদ্যোক্তাদের জন্য কাজ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ক্লাব

শিখে-পড়ে উদ্যোক্তা হওয়া কঠিন। এর জন্য বরং প্রয়োজন যথাযথ পরিবেশ, আইডিয়া ভাগাভাগি, দিকনির্দেশনা, বাস্তব অভিজ্ঞতা, বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ। এসব লক্ষ্যেই ক্যাম্পাসগুলোতে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ক্লাব। এমন এক ক্লাবের খোঁজ জানাচ্ছেন ছিদরাতুল মুনতাহা

গত মাসেও এন্টারপ্রেনিউরস এক্সপো ২.০ একটি মেলা আয়োজন করেছিল চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি এন্টারপ্রেনিউর অ্যান্ড স্টার্টআপ সোসাইটিছবি: ক্লাবের সৌজন্যে

চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি এন্টারপ্রেনিউর অ্যান্ড স্টার্টআপ সোসাইটি (সিইউইএসএস) গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ইজাজ বিন আজম। সে সময় তিনি নিজেও ছিলেন উদ্যোক্তা। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর মনে হয়েছিল, এ ধরনের একটা সংগঠন থাকলে শিক্ষার্থীদের কাজে লাগবে। এই ভাবনা থেকেই ২০২০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা করেন ইজাজ।

স্টার্টআপ বা কোম্পানির আদলে সাজানো হয়েছে সিইউইএসএসের কাঠামো। কীভাবে একটি ব্যবসা পরিচালনা করতে হয়, কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, কেমন করে একটি উদ্যোগকে বাস্তবে রূপ দিতে হয়—এসবই এখান থেকে শেখেন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন

ক্লাবের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় কয়েকটি বিভাগের মাধ্যমে। যেমন পাবলিক রিলেশন, কনটেন্ট ক্রিয়েশন, মার্কেটিং অ্যান্ড প্রমোশন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড প্ল্যানিং, এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, মার্কেট রিসার্চ এবং ডিজাইন অ্যান্ড আইটি। যেকোনো অফিসে যেমন আলাদা আলাদা বিভাগ আলাদা আলাদা দায়িত্ব পালন করে, সিইউইএসএসেও অনেকটা তেমনই। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে কাজ করা শেখেন। আবার একটা বড় কাজ কীভাবে কয়েকটা দলের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া যায়, সে সম্পর্কেও ধারণা হয় তাঁদের। পাশাপাশি ব্যবসায়িক আইডিয়া উপস্থাপনের চর্চাও করেন তাঁরা।

ক্লাবের বয়স খুব বেশি নয়। তবে সদস্যরা জানান, এরই মধ্যে এই ক্লাব থেকে বেশ কয়েকজন তরুণ উদ্যোক্তা বেরিয়ে এসেছেন। ক্লাবের সাবেক ও বর্তমান বেশ কয়েকজন সদস্যই অনলাইন-অফলাইনে নানা ব্যবসা পরিচালনা করছেন। উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার এ যাত্রায় ক্লাবের পরামর্শ, প্রশিক্ষণ, কর্মশালার পাশাপাশি বিস্তৃত নেটওয়ার্কও তাঁদের সাহায্য করেছে।

এ পর্যন্ত দুইবার ‘এন্টারপ্রেনিউরস এক্সপো’ বা উদ্যোক্তা মেলার আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি এন্টারপ্রেনিউর অ্যান্ড স্টার্টআপ সোসাইটি। এন্টারপ্রেনিউরস এক্সপো ২.০ নামের সর্বশেষ মেলাটি আয়োজিত হয় গত ২৫-২৭ জানুয়ারি। এ মেলায় অনলাইন বিজনেস, ফুড ব্র্যান্ড, সেবাভিত্তিক স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সার, এজেন্সিসহ বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তারা অংশ নিয়েছেন। সবাই নিজেদের উদ্যোগ সরাসরি উপস্থাপনের সুযোগ পেয়েছেন।

আরও পড়ুন

ক্লাবের বর্তমান সভাপতি মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘আয়োজনটির মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের বাস্তব ব্যবসায়িক পরিবেশের সঙ্গে পরিচয় করানো, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কার্যকর একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি, নেটওয়ার্কিং ও আইডিয়া ভাগাভাগির সুযোগ সৃষ্টি করা। উদ্যোক্তারা যেমন সরাসরি গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পণ্য বা আইডিয়ার সক্ষমতা যাচাই করতে পেরেছেন, তেমনি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীর সঙ্গেও সংযোগ গড়ে ওঠার একটা সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ সুযোগ ক্লাসরুমে বা অনলাইনে সম্ভব নয়।’ মেলায় বেশ কয়েকটি অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তৃতারও আয়োজন করা হয়েছিল।

আর্থিক সংকট তো আছেই। পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার মতো অভিজ্ঞ লোকের অভাব, দীর্ঘমেয়াদি ইনকিউবেশনের সীমিত সুযোগ, এমন অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিজেদের মতো করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সিইউইএসএস। সভাপতি মুশফিকুর রহমান বলছিলেন, ‘যে লক্ষ্যে ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, আমরা মনে করি সেটা অনেকাংশেই পূরণের পথে আছে। কারণ, এখন দেখছি, উদ্যোক্তা হওয়ার ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আমরা চাই, সিইউইএসএস ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ এন্টারপ্রেনিউরশিপ হাব হিসেবে গড়ে উঠুক, যেখান থেকে নিয়মিত সফল স্টার্টআপ গড়ে উঠবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি পেয়ে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে।’