টেক্সটাইল প্রকৌশলে পড়ার সুযোগ ও সম্ভাবনা

লিখেছেন বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ রাজা মিয়া

বিইউএফটিতে শিক্ষার্থীদের জন্য আছে আধুনিক ল্যাব–সুবিধাছবি: বিইউএফটির সৌজন্যে

বর্তমান সময়ে টেক্সটাইল প্রকৌশল পড়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা। টেক্সটাইল শিল্প এখন আর শুধু সুতা, কাপড় বা পোশাক উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অটোমেশন, ডিজিটাল ম্যানুফ্যাকচারিং, স্মার্ট টেক্সটাইল, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থা। শিক্ষার্থীদের জন্য এই বহুমাত্রিক জ্ঞান আয়ত্ত করা এবং একই সঙ্গে ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতে বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক হলেও আমাদের টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের বৈশ্বিক নেতৃত্ব এখনো সীমিত। এর অন্যতম কারণ হলো গবেষণা, উদ্ভাবন ও উচ্চমূল্য সংযোজিত (ভ্যালু অ্যাডেড) টেক্সটাইল পণ্যে আমাদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম।

আরও পড়ুন

সারা বিশ্বের টেক্সটাইল শিল্পে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হলে আমাদের প্রকৌশলীদের গবেষণামুখী হতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি; যেমন টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, স্মার্ট ফেব্রিক, রিসাইক্লিং ও সার্কুলার টেক্সটাইলের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে গবেষণা প্রকাশ, বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং বহুজাতিক টেক্সটাইল কোম্পানিতে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি।

ভবিষ্যতের টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের শুধু ভালো ফলের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। তাদের সফট স্কিল, যোগাযোগ দক্ষতা, ডেটা অ্যানালাইসিস, প্রোগ্রামিংয়ের মৌলিক ধারণা এবং টেকসই উৎপাদন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উচিত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ নেওয়া। গবেষণা প্রকল্পে অংশগ্রহণ, নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে হালনাগাদ থাকাও তাদের এগিয়ে রাখবে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা ও আজীবন শেখার প্রবণতা গড়ে তোলা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আগে টেক্সটাইল পাঠ্যক্রম ছিল মূলত প্রচলিত উৎপাদনপ্রক্রিয়া ও যন্ত্রনির্ভর। বর্তমানে পাঠ্যক্রমে টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, ন্যানোটেকনোলজি, পরিবেশবান্ধব প্রসেসিং, কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট ও সাপ্লাই চেইনের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

সময়ের তুলনায় পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন এসেছে ঠিকই, তবে তা এখনো পুরোপুরি ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ ও বৈশ্বিক গবেষণার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি। আরও বেশি ব্যবহারিক, গবেষণাভিত্তিক ও ইন্টারডিসিপ্লিনারি কোর্স যুক্ত করা প্রয়োজন।

বিইউএফটিতে আমরা সে চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছি। এখানে টেক্সটাইল প্রকৌশলের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ল্যাব–সুবিধা, ইন্ডাস্ট্রিভিত্তিক কারিকুলাম এবং নিয়মিত ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিজিট ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ আছে। পাশাপাশি গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা, বিশেষজ্ঞ ও ইন্ডাস্ট্রিতে কর্মরত ব্যক্তিদের অতিথি শিক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো, কর্মশালা ও সেমিনারের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী জ্ঞান প্রদানের চেষ্টা করছি।

ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমির মধ্যে সংযোগ তৈরির জন্য যৌথ গবেষণা, ইন্ডাস্ট্রি প্রজেক্ট এবং কারখানাভিত্তিক সমস্যা সমাধানমূলক থিসিসের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা কর্মজীবনের জন্য শিক্ষার্থীদের কার্যকরভাবে প্রস্তুত করে তুলছে।

আরও পড়ুন