বেকিং সোডা ও বেকিং পাউডারের পার্থক্য জানা জরুরি কেন
রান্না ও বেকিংয়ে বেকিং সোডা ও বেকিং পাউডার প্রায়ই একসঙ্গে উচ্চারিত হয়। নামের মিল থাকলেও রাসায়নিক গঠন, ব্যবহার ও মানবদেহে সম্ভাব্য প্রভাবের দিক থেকে এদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে। শুধু রেসিপির সাফল্য নয়, স্বাস্থ্য সচেতনতার ক্ষেত্রেও এই পার্থক্য জানা অত্যন্ত জরুরি।
বেকিং সোডা কী?
বেকিং সোডার বৈজ্ঞানিক নাম সোডিয়াম বাইকার্বনেট। এটি একটি ক্ষারীয় পদার্থ, যা অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে। এই গ্যাসই কেক, পাউরুটি বা বিস্কুটকে ফাঁপা ও নরম করে তোলে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যবহার
চিকিৎসাবিজ্ঞানে সোডিয়াম বাইকার্বনেটের ব্যবহার আছে—
• মেটাবলিক অ্যাসিডোসিস (রক্তে অতিরিক্ত অ্যাসিড) সংশোধনে
• কিছু ক্ষেত্রে অ্যাসিডিটি বা হার্টবার্ন উপশমে
• প্রস্রাবের পিএইচ পরিবর্তনে (বিশেষ পরিস্থিতিতে)
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো
খাদ্য হিসেবে অতিরিক্ত বেকিং সোডা গ্রহণ করলে ক্ষতি হতে পারে, যেমন—
• শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম জমে উচ্চ রক্তচাপ
• গ্যাস্ট্রিক সমস্যা ও বমি বমি ভাব
• শিশু ও কিডনির রোগীদের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা
বেকিং পাউডার কী?
বেকিং পাউডার হলো একটি মিশ্র রাসায়নিক উপাদান, যার মধ্যে থাকে—
• সোডিয়াম বাইকার্বনেট
• একটি দুর্বল অ্যাসিড (যেমন: ক্রিম অব টারটার)
• স্টার্চ (আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের জন্য)
বেকিং পাউডারের স্বাস্থ্যগত গুরুত্ব
বেকিং পাউডারে সোডিয়াম বাইকার্বনেটের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম এবং এটি অ্যাসিডের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় থাকে। ফলো—
• হজমে কম সমস্যা সৃষ্টি করে
• স্বাদের দিক থেকে ধাতব বা তিক্ত ভাব কম
• নিয়মিত বেকিংয়ে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ
তবে অতিরিক্ত ব্যবহারে এখানেও সোডিয়াম গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে, যা হৃদ্রোগ বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য বিবেচ্য।
স্বাস্থ্যঝুঁকির তুলনা
বেকিং সোডার ক্ষারত্ব বেশি আর বেকিং পাউডারের ক্ষারত্ব তুলনামূলক কম।
বেকিং সোডায় সোডিয়ামের মাত্রা বেশি, অন্যদিকে বেকিং পাউডারের কম।
বেকিং সোডায় পাকস্থলীতে প্রভাব, যেমন গ্যাস, অস্বস্তি হতে পারে আর বেকিং পাউডার তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
চিকিৎসায় বেকিং সোডার ব্যবহার আছে, বেকিং পাউডারের নেই।
শিশু ও কিডনির রোগীদের ক্ষেত্রে বেকিং সোডা ব্যবহারে সতর্কতা প্রয়োজন আর বেকিং পাউডার তুলনামূলক নিরাপদ।
শেষ কথা
বেকিং সোডা ও বেকিং পাউডার দুটিই রান্নাঘরের অপরিহার্য উপাদান হলেও স্বাস্থ্যগত দিক থেকে এদের ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষ করে যাঁরা উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির রোগ বা গ্যাস্ট্রিক সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বেকিং সোডার অতিরিক্ত ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।