আপনি কি ইমোশনালি ইন্টেলিজেন্ট? মিলিয়ে নিন ১২ লক্ষণ

আমাদের সাফল্য বা সম্পর্কের মান কেবল বুদ্ধিমত্তার (আইকিউ) ওপর নির্ভর করে না; বরং অনেকটাই নির্ভর করে নিজেদের আবেগ আমরা কতটা বুঝি ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, তার ওপর। আমাদের আশপাশে হাই ইমোশনালি ইন্টেলিজেন্ট মানুষের সংখ্যা যে খুব বেশি, তা জোর দিয়ে বলার উপায় নেই। জেনে নেওয়া যাক লক্ষণগুলো।

আমাদের সাফল্য বা সম্পর্কের মান কেবল বুদ্ধিমত্তার (আইকিউ) ওপর নির্ভর করে না; বরং অনেকটাই নির্ভর করে নিজেদের আবেগ আমরা কতটা বুঝি ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, তার ওপর
ছবি: প্রথম আলো

হাই ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স (ইকিউ) কী

উচ্চ আবেগপ্রবণ বুদ্ধিমত্তার প্রধান উপাদান ৫টি—

  • আত্মসচেতনতা

  • আত্মনিয়ন্ত্রণ

  • নিজেকে নিজে অনুপ্রাণিত রাখতে পারা

  • সহানুভূতি ও

  • সামাজিক দক্ষতা

যাঁদের ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বেশি, তাঁরা চাপের মধ্যে আবেগ সামলাতে পারেন। নিজের ট্রিগার পয়েন্টগুলো চেনেন আর সেসব সামলাতে পারেন। মন দিয়ে অন্যের কথা শোনেন। অন্যের অনুভূতি বুঝতে পারেন। তাঁরা সহজে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেন। নিজের ভুল বুঝতে পারামাত্র আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান। আর গভীর ও শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারদর্শী।

আরও পড়ুন

হাই ইকিউর ১২ লক্ষণ

১. নিজের আবেগ বোঝেন

আপনি কেমন অনুভব করছেন, কেন এমন অনুভব করছেন, তা সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করতে পারেন। সৃষ্টিশীল কাজে, নতুন কিছু শিখে আনন্দ পান।

২. তীব্র চাপে, বিপদে মাথা ঠান্ডা রাখেন

কঠিন পরিস্থিতিতে শান্ত থাকেন। হঠাৎ প্রতিক্রিয়া দেখান না। জীবনের নানা কঠিন পরিস্থিতিতে পরিণত আচরণ করেন।

৩. নিজের ট্রিগার পয়েন্টগুলো চেনেন

কোন আচরণ, কথা বা পরিস্থিতি আপনাকে ট্রিগার করে, তা জানেন। প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া মানুষের চরিত্রের অন্যতম শক্তিশালী দিক
ছবি: পেক্সেলস

৪. সহানুভূতিশীল

অন্যের শরীরের ভাষা, কণ্ঠের স্বর ও অনুভূতি বুঝতে পারেন; অনেক সময় না–বলা কথাও ধরতে পারেন। অন্যের আবেগকে সম্মান দিতে জানেন।

৫. অন্যের কথা মন দিয়ে শোনেন

উত্তর দেওয়ার জন্য নয়, বোঝার জন্য শোনেন। কথার মাঝখানে কথা বলেন না।

৬. নিজের ভুলের দায় নেন

ভুল করলে অজুহাত না দিয়ে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান। নিজেকে শুধরে নেন।

আরও পড়ুন

৭. সহজে হতাশ হন না

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিতে পারেন। সর্বোচ্চ নমনীয়তার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলে নেন। পরিকল্পনা বদলালে হতাশ হয়ে আটকে থাকেন না।

৮. নির্দ্বিধায় ‘না’

নিজের মানসিক শান্তি, সময় ও শক্তির অপচয় রক্ষার জন্য প্রয়োজনে ‘না’ বলতে দ্বিধা করেন না। ‘না’ বলেন অপরাধবোধ ছাড়াই।

৯. ফিডব্যাক নেন
সমালোচনাকে ব্যক্তিগত আঘাত হিসেবে না ভেবে উন্নতির সুযোগ হিসেবে দেখেন। এমনকি সঙ্গী বা কাছের বন্ধুর কাছ থেকে প্রতিনিয়ত নিজের ভুল সম্পর্কে জানতে চান। আর নিজেকে শুধরে নেন।

ইমোশোনালি ইন্টেলিজেন্ট ব্যক্তিরা সমালোচনাকে ব্যক্তিগত আঘাত হিসেবে না ভেবে উন্নতির সুযোগ হিসেবে দেখেন
ছবি: প্রথম আলো

১০. অনুপ্রাণিত থাকেন

প্রতিনিয়ত নিজের ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যান। বাহ্যিক পুরস্কার, সমর্থন বা অন্যের সার্টিফিকেটে নয়; বরং প্রতিদিন একটু একটু করে আত্মোন্নয়ন ও সন্তুষ্টি থেকে আরও ভালো হয়ে ওঠার ও ভালো পারফর্ম করার প্রেরণা পান।

১১. ক্ষমা করে এগিয়ে যান

অতীতের ভুল, কষ্ট ধরে রাখেন না।

১২. দয়ালু

ইমোশনালি ইন্টেলিজেন্টরা দয়ালু হন। অন্যকে মানসিক সমর্থন করে, শিখিয়ে বা সাহায্য করে আনন্দ পান।

সূত্র: ভেরি ওয়েল মাইন্ড

আরও পড়ুন