টেকসই জীবনযাপনে আজ থেকেই শুরু করুন ছোট ছোট এই ৯ অভ্যাস
টেকসই জীবনযাপন করতে হলে জীবনধারায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। ‘মাইক্রো-সাসটেইনেবিলিটি’র মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভ্যাসই সম্মিলিতভাবে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করে, বর্জ্য কমায় এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করে। চলুন এমন ৯টি ছোট ছোট অভ্যাসের কথা জেনে নেওয়া যাক
১. সব সময় সঙ্গে রাখুন পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যাগ
ব্যাকপ্যাক বা হ্যান্ডব্যাগে একটি কাপড়ের ব্যাগ রাখুন। হঠাৎ কোনো কেনাকাটার সময় এটি ব্যবহার করলে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যাগের প্রয়োজন হবে না।
২. ঠান্ডা পানিতে কাপড় ধুয়ে নিন
ওয়াশিং মেশিনে ব্যবহৃত মোট শক্তির প্রায় ৯০ শতাংশই পানি গরম করতে ব্যয় হয়। অথচ দৈনন্দিন ব্যবহারের বেশির ভাগ কাপড় ঠান্ডা পানিতেই সমান কার্যকরভাবে পরিষ্কার করা যায়। এতে কাপড়ের ক্ষয়ও কম হয়। রং আর কাপড়ের টেক্সচারও দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
৩. ডিজিটাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান
অপ্রয়োজনীয় ই-মেইল সংরক্ষণ করতেও শক্তি ব্যয় হয়। প্রতিদিন অন্তত একটি বিপণনমূলক (প্রমোশনাল) ই-মেইল আনসাবস্ক্রাইব করুন। পুরোনো, অপ্রয়োজনীয় ই-মেইল, ছবি, ভিডিও, ডকুমেন্ট মুছে ফেলুন। এতে আপনার ডিজিটাল কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমবে।
৪. অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমান
কফি মেকার, মোবাইল চার্জার বা মাইক্রোওয়েভের মতো অনেক যন্ত্র বন্ধ থাকলেও প্লাগে সংযুক্ত থাকলে বিদ্যুৎ ব্যবহার হতে থাকে। ব্যবহার না করলে প্লাগ খুলে রাখুন অথবা সুইচযুক্ত পাওয়ার স্ট্রিপ ব্যবহার করুন।
আপনি যদি এখনো প্রচলিত ইনক্যান্ডেসেন্ট বা সিএফএল বাল্ব ব্যবহার করেন, তাহলে এর বদলে এলইডি বাল্ব ব্যবহার করুন। এসব প্রায় ৮০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। আর অনেক বেশি দিন স্থায়ী হয়।
ঘর থেকে বের হওয়ার সময় লাইট, ফ্যান ও চার্জার বন্ধ করুন। দিনের বেলায় যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করুন। এসির তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখুন। ল্যাপটপ বা ফোন পর্যাপ্ত চার্জ হয়ে গেলে চার্জার খুলে ফেলুন।
৫. পেপার টাওয়েলের বিকল্প ব্যবহার করুন
রান্নাঘরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাপড় বা মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করুন। এতে কাগজের অপচয় কমবে। অর্থও সাশ্রয় হবে।
৬. পুরোনো জিনিস কেনার অভ্যাস গড়ে তুলুন
নতুন পোশাক, বই বা ইলেকট্রনিক পণ্য কেনার আগে সেকেন্ড-হ্যান্ড দোকান বা অনলাইনে পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মগুলোয় নিয়মিত চোখ রাখতে পারেন। এতে পণ্যের ব্যবহারকাল বাড়ে এবং নতুন উৎপাদনের চাপ কমে।
৭. যাতায়াত
কাছাকাছি দূরত্বে হাঁটুন বা সাইকেল ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে গণপরিবহন ব্যবহার করুন। একসঙ্গে একাধিক কাজের জন্য বের হলে আরও ভালো।
৮. পোশাক ও কেনাকাটা
নতুন কিছু কেনার আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন ‘এটা কি সত্যিই প্রয়োজন?’ কম কিনুন, কিন্তু টেকসই ও ভালো মানের জিনিস কিনুন। ছিঁড়ে গেলে পোশাক মেরামত করে ব্যবহার করুন। অপ্রয়োজনীয় কাপড়, বই বা আসবাব দান করুন। উপহার দেওয়ার সময় পুনর্ব্যবহারযোগ্য মোড়ক ব্যবহার করুন।
৯. পানির অপচয় রোধ ও সংরক্ষণ
গোসলের সময় কয়েক মিনিট কমাতে পারেন। বৃষ্টির পানি ধরে গাছে ব্যবহার করতে পারেন। ওয়াশিং মেশিন পূর্ণ না হলে চালাবেন না। পানির লিকেজ দ্রুত মেরামত করুন। দাঁত ব্রাশ করা বা থালাবাসন ধোয়ার সময় যখন পানি ব্যবহার করছেন না, তখন কল বন্ধ রাখুন। এতে প্রতি মিনিটে প্রায় ১২ লিটার পর্যন্ত পানি সাশ্রয় করা সম্ভব।
আরও যা
বাড়ির বারান্দা বা ছাদে গাছ লাগান। পাখিদের জন্য পানির পাত্র রাখতে পারেন। স্থানীয় পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিন। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের স্ট্র, চামচ বা কাপ এড়িয়ে চলুন। যেকোনো ব্যবহারযোগ্য জিনিসের আয়ু বাড়ান।
সূত্র: হার