‘অনলাইন সার্টিফিকেটের’ গুরুত্ব কতখানি

‘পড়ালেখা করেছ, ডিগ্রি নিয়েছ—তা তো বুঝলাম; কিন্তু আর কী করেছ?’ নিয়োগদাতাদের কাছে আজকাল এই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইন কোর্সের সনদও কি আপনাকে এগিয়ে রাখতে পারে? উত্তর দিয়েছেন গ্রামীণফোনের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার (সিএইচআরও) সৈয়দা তাহিয়া হোসেন।

গুগল, কোর্সেরা বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব একাডেমি থেকে প্রাপ্ত অনলাইন সার্টিফিকেটগুলো শিক্ষার্থীর প্র্যাকটিক্যাল স্কিল বাড়াতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে।ছবি: পেক্সেলস

করপোরেট প্রতিষ্ঠানে এখন একাডেমিক ডিগ্রির পাশাপাশি নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত বা ব্যবহারিক দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডেটা অ্যানালিটিকস বা নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনের ফলে প্রথাগত একাডেমিক সিলেবাস অনেক সময় কিছুটা পিছিয়ে পড়ে। এই ক্ষেত্রে গুগল, কোর্সেরা বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব একাডেমি থেকে প্রাপ্ত অনলাইন সার্টিফিকেটগুলো শিক্ষার্থীর প্র্যাকটিক্যাল স্কিল বাড়াতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে। একজন প্রার্থী যদি ডিজিটাল বা প্রযুক্তিগত নির্দিষ্ট কোনো কাজের ওপর বিশেষায়িত সার্টিফিকেট অর্জন করেন, তবে তা প্রমাণ করে তিনি সময়ের পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন।

হাতে-কলমে দক্ষতা জরুরি

ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রার্থীর অনলাইন সার্টিফিকেশনের মূল্যায়ন করার সময় প্রতিষ্ঠান শুধু এটি দেখে না যে সার্টিফিকেটটি কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে। বরং দেখা হয় প্রার্থী কতটুকু কার্যকর প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করেছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের অনলাইন ডিগ্রি বা স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের কোর্স, যেখান থেকেই শেখা হোক না কেন, প্রার্থী যদি বাস্তবেই সেই টুলের ব্যবহার করতে পারেন এবং সমস্যা সমাধান করতে পারেন, তবেই সার্টিফিকেটের প্রকৃত মূল্য তৈরি হয়। ধরা যাক, আপনি ‘ভিডিও এডিটিং’-এর ওপর একটা কোর্স করেছেন। কিন্তু আপনি কি আদৌ এডিটিংয়ের কাজটা জানেন, আপনার কাজের একটা পোর্টফোলিও যদি উপস্থাপন করতে পারেন, সেটা হবে আরও কার্যকর।

আরও পড়ুন

আত্ম–উন্নয়ন ও কৌতূহলের প্রকাশ

নিজের উদ্যোগেই কোনো বিষয় অনলাইন থেকে শিখে নেওয়া এবং সনদ অর্জন করা একজন প্রার্থীর ‘স্বাচ্ছন্দ্যে শেখার তাগিদ’ ও কৌতূহলের ইঙ্গিত দেয়। এইচআর ও নিয়োগকর্তারা এ গুণটিকে বেশ মূল্যায়ন করেন। কারণ, এর মাধ্যমে বোঝা যায় প্রার্থী পড়াশোনা শেষ করার পরও ঘরে বসে না থেকে নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়াতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফ্রিল্যান্সিং ও আন্তর্জাতিক কাজের সুযোগ

অনলাইন সার্টিফিকেশন প্রার্থীর কাজের সুযোগ কেবল দেশের সীমানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ রাখে না। বিশ্বব্যাপী রিমোট বা ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে এসব সনদ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক বাজারে সেবা দেওয়া, অর্থ উপার্জন করা এখন আর কোনো বিরল উদাহরণ নয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জেনারেটিভ টুলের সঠিক ব্যবহার

বর্তমানে অনেকেই বিভিন্ন অনলাইন কাজ বা কোর্সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছেন। তবে শুধুই সার্টিফিকেট বা এআই-ভিত্তিক রেডিমেড উত্তরের ওপর নির্ভর না করে, বিষয়টির ভেতরের মেকানিজম বা মূল বিষয়বস্তু বোঝা উচিত। ইন্টারভিউ বোর্ডে একজন অভিজ্ঞ নিয়োগকর্তা ঠিকই যাচাই করে নিতে পারেন, প্রার্থীর ‘আইডিয়া’ কতখানি মৌলিক।