এই বাড়িগুলোর বয়স হাজার বছর

হাজার হাজার বছর আগেও দিন শেষে মাথা গোঁজার একটা আশ্রয় খুঁজেছে মানুষ। নিজের এবং পরিবারের থাকার জন্য তৈরি করেছে ঘরবাড়ি। যুগের পর যুগ পেরিয়ে পৃথিবীর বুকে এখনো টিকে রয়েছে এমন কয়েকটি প্রাচীন বসতি। এখানে রইল তেমন তিনটি বসতির খোঁজ। ইন্টারনেট ঘেঁটে লিখেছেন আবৃতি আহমেদ

ফিলিস্তিনের টাওয়ার অব জেরিকো

বিশ্বের পুরোনো স্থায়ী পাথরের কাঠামোগুলোর একটি হিসেবে আজও টিকে আছে টাওয়ার অব জেরিকো।
ছবি: উইকমিডিয়া কমনস

প্রায় ৯ হাজার বছর আগে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরবর্তী জেরিকো সমভূমিতে মানুষ বসতি স্থাপন করেছিল। ‘আমাদের পরিবার ও ফসলকে রক্ষা করতে হবে’—এই ভাবনা থেকে তারা দৃঢ় পাথরের টাওয়ার তৈরি করে। তারা কি জানত, প্রায় ৮ দশমিক ৫ মিটার উচ্চতার দৃঢ় এই টাওয়ার হাজার হাজার বছর ধরে টিকে থাকবে! বিশ্বের পুরোনো স্থায়ী পাথরের কাঠামোগুলোর একটি হিসেবে আজও টিকে আছে টাওয়ার অব জেরিকো।

আরও পড়ুন

চাতালহোয়ুকের ইট ও কাদার বাড়ি

জায়গাটির নাম চাতালহোয়ুক
ছবি: উইকমিডিয়া কমনস

ইট ও কাদা দিয়ে তৈরি ঘরগুলোতে প্রবেশের জন্য কোনো দরজা ছিল না। ছাদের গর্ত দিয়ে মই বেয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেন বাসিন্দারা। তুরস্কের আনাতোলিয়া অঞ্চলে পাওয়া গেছে এমনই একটি প্রাচীন বসতি। জায়গাটির নাম চাতালহোয়ুক। নব্য প্রস্তর যুগ, অর্থাৎ ৫৭০০ থেকে ৭৪০০ খ্রিষ্টপূর্বে তৈরি বাড়িগুলোর বয়স প্রায় ৯ হাজার বছর। খুব কাছাকাছি লাগোয়া বাড়িগুলো দেখে মনে হয় ছোট্ট একটি লোকালয়। ঘরের দেয়ালগুলোতে পাওয়া গেছে নানা ভাস্কর্য ও চিত্রকলা। এখনো সেখানে বাড়ির বাসিন্দাদের কৃষি, বাণিজ্য ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মেলে। কেউ মারা গেলে বাড়িগুলোর ভেতরেই মাটি খুঁড়ে কবর দেওয়া হতো। মানুষের বসবাসযোগ্য শহর গড়ার চেষ্টার একটি অন্যতম উদাহরণ এই বাড়ি।

তেল কারামেলের পাথরের টাওয়ার

পাখির চোখে দেখা তেল কারামেল
ছবি: উইকমিডিয়া কমনস

আজ থেকে প্রায় ১২ হাজার বছর আগে উত্তর সিরিয়ার আলেপ্পো অঞ্চলে কিছু মানুষ প্রথমবারের মতো স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। শুরুতে তাঁরা পাথর জড়ো করে গোলাকৃতির ঘর তৈরি করেন, তারপর মাঝখানে আগুন জ্বালিয়ে সেটার চারপাশে পরিবার নিয়ে রাত কাটাতেন। মানুষের স্থায়ী বসতির প্রাচীনতম উদাহরণগুলোর একটি এই তেল কারামেল। সেখানে বসবাসকারীরা শিকার রান্না করে খেতেন। ঘরের ভেতর পাওয়া গেছে মাটি-পাথরের চুলা আর ঘরের দেয়ালে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রয়েছে আগুনের কালচে দাগ, খাবার প্রস্তুতির সরঞ্জামেরও দেখা মেলে। পুরোনো পাথরের সেই টাওয়ার এবং ঘরসদৃশ কাঠামোগুলো আজও টিকে আছে।

আরও পড়ুন