হঠাৎ করেই কেন কোরিয়ান তরুণীরা প্রসাধনীর ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছে?
কোরিয়ার তরুণীরাই এখন ৪ ধাপের রূপচর্চা দিকে ঝুঁকছে। এতে আয়নার সামনে থেকে ক্রিম, লোশন, সিরামের বোতল কিছুটা হলেও কমে গেছে। এটাকে ‘স্কিপ–কেয়ার’পদ্ধতি বলছেন সবাই।
কোরিয়ার রূপচর্চা পণ্য এবং ত্বকচর্চার পদ্ধতি এশিয়া তো বটেই, প্রাচ্যেও পেয়েছে গ্রহণযোগ্যতা। আমাদের দেশেও কোরীয় রূপচর্চাপদ্ধতি এখন জনপ্রিয়। কে বিউটির কল্যাণে ত্বকচর্চার ১০ ধাপ পরিচিতি লাভ করে। যাঁরা শুধু চেহারা ধুয়ে ক্রিম লাগিয়ে দুই ধাপেই দিন শুরু আর শেষ করতেন, তাঁরাও এই নিয়মের জালে বাঁধা পড়েছেন।
তবে খোদ কোরিয়ার তরুণীরাই এখন ১০ ধাপের রূপচর্চা থেকে বের হয়ে ৪ ধাপের দিকে ঝুঁকছে। এটাকে ‘স্কিপ–কেয়ার’পদ্ধতি বলছেন সবাই। জেনে নেওয়া যাক, স্কিপ-কেয়ার কী? আর কেনই–বা এর পক্ষে যাচ্ছে সবাই।
স্কিপ-কেয়ার কী?
স্কিপ-কেয়ার বলতে কিন্তু ত্বকের যত্নে ফাঁকি দেওয়া বোঝাচ্ছে না; বরং যে ধাপগুলো বা পণ্যগুলোর প্রয়োজন নেই, সেগুলোকে বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। স্কিপ-কেয়ার রুটিনকে জনপ্রিয়তা দিয়েছেন দক্ষিণ কোরীয় অভিনেত্রী কিম সো হিয়ন। তাঁর রুটিনে আছে পর্যাপ্ত পানি পান, ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা আর বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার।
একইভাবে কে-পপ গার্ল গ্রুপ টোয়াইসের জিহো একবার বলেছিলেন, মেকআপ তোলার ধাপ বাদ দিলে তিনি মাত্র তিনটি ধাপ অনুসরণ করেন। তাঁর মতে, ‘অতিরিক্ত পণ্য ব্যবহার করার কোনো প্রয়োজন নেই।’ এমন মন্তব্যই মিনিমাল বা সংক্ষিপ্ত সৌন্দর্যচর্চার এই প্রবণতাকে আরও জনপ্রিয় করে।
কীভাবে করবেন
মাঝরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ করে কেনা ক্রিম বা সিরামের দিকে পরে তাকিয়ে কী মনে হয়, কেন কিনলাম! ড্রয়ারভর্তি পণ্যের দিকে তাকিয়েও মনে হতে পারে এই কথা। স্কিপ–কেয়ারপদ্ধতিতে এসব প্রশ্নের সহজ উত্তর পাওয়া যাবে। যেমন অনেকে দুবার চেহারা পরিষ্কার করতেন—একবার তেল দিয়ে, আর একবার ক্লিনজার।
এখন এমন ক্লিনজার বেছে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, যেটা ত্বকের ময়লা, অতিরিক্ত তেল ও হালকা মেকআপ একসঙ্গেই পরিষ্কার করতে পারে। এতে আলাদা করে একাধিক ধাপে মুখ ধোয়ার প্রয়োজন হবে না। অনেকে আবার সকালের দিকে শুধু তেল বা ক্লিনজিং অয়েল দিয়ে চেহারা পরিষ্কার করার ওপর জোর দিচ্ছেন। এতে করে ত্বক আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারবে।
একইভাবে বেছে নিতে পারেন
মাল্টি-টাস্কিং ময়েশ্চারাইজার: দিনের আলোয় এমন একটি ময়েশ্চারাইজার বেছে নেওয়া ভালো, যা একই সঙ্গে ত্বককে আর্দ্র রাখবে, সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেবে। ফলে আলাদা পণ্য ব্যবহারের ঝামেলা কমে যাবে।
ট্রিটমেন্ট সিরাম: ত্বকের প্রধান সমস্যাকে লক্ষ্য করে একটি সিরাম ব্যবহার করাই যথেষ্ট। শুষ্ক, নিস্তেজ ভাব, বয়সের ছাপ বা ব্রণের মতো যে সমস্যা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে, সেই অনুযায়ী সিরাম নির্বাচন করলে অপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যবহার এড়াতে পারবেন।
নাইট ক্রিম: রাতে ত্বকের পুনরুদ্ধার ও পুষ্টির জন্য একটি উপযোগী নাইট ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি ঘুমের সময় ত্বককে মেরামত ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করবে।
শেষ কথা
স্কিপ-কেয়ারে অভ্যস্ত হওয়ার জন্য হঠাৎ করে সব পণ্য বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং নিজের বর্তমান ত্বকচর্চার রুটিনটি পর্যালোচনা করুন। কোন পণ্যটি সত্যিই ত্বকের উপকার করছে, আর কোনটি শুধু অভ্যাসবশত ব্যবহার করছেন, সেটি বোঝার চেষ্টা করুন। এরপর ধীরে ধীরে এমন কিছু কার্যকর পণ্য বেছে নিন, যা একাধিক কাজ করবে এবং ত্বকের প্রয়োজন মেটাবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ত্বকের প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা এবং চাহিদা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া।
তবে স্কিপ-কেয়ার সবার জন্য উপযুক্ত না–ও হতে পারে। যাঁদের ব্রণ, একজিমা বা অন্যান্য নির্দিষ্ট ত্বকের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে বিশেষ উপাদানের প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেকের কাছে দীর্ঘ ত্বকচর্চাই হয়তো ‘মি টাইম’। তাঁদের কাছে এই চার ধাপ যথেষ্ট না–ও মনে হতে পারে।
তবে স্কিপ-কেয়ার ত্বকের যত্নে অবহেলা নয়; বরং সচেতনতা। এটি বেশি পণ্যের বদলে কার্যকর পণ্য বেছে নেওয়ার কথা বলে। পাশাপাশি সময় বাঁচায়, খরচও কমায়। চলতি ধারা অনুসরণের বদলে ত্বকের প্রকৃত প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেয়। কারণ, অনেক সময় ত্বকে বাড়তি জিনিসের ব্যবহার স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়।
সূত্র: ট্যাটলার এশিয়া