ওয়াক্সিংয়ের পর কি ত্বকের লোম আরও বেড়ে যায়?

সুন্দর, কোমল ত্বকের সবচেয়ে বড় শত্রু লোম। লোমমুক্ত ত্বক পেতে অনেকেই তাই ওয়াক্সিং করেন। হাত, পা, বগলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশের লোম তুলতে এটি দারুণ কার্যকর। তবে শরীরের লোম তোলার এই পদ্ধতি নিয়ে অনেকের মধ্যেই আছে নানা সংশয়।

ওয়াক্সিংয়ের সময় ভালো মানের উপাদান ব্যবহার করুন। মডেল: অনন্যা
ছবি: সুমন ইউসুফ

ওয়াক্সিং সহজে অবাঞ্ছিত লোম অপসারণের জনপ্রিয় প্রক্রিয়া। দুটি পদ্ধতিতে ওয়াক্সিং করা হয়। কোল্ড এবং হট ওয়্যাক্সিং। দুটি পদ্ধতিই এ দেশে ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

যাঁদের ত্বকের ধরন তৈলাক্ত, তাঁরা কোল্ড ওয়্যাক্সিং করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই ত্বক পরিষ্কার করে নেওয়া হয়। এরপর বেশি করে পাউডার ব্যবহার করতে হয়, যাতে ত্বকের তৈলাক্তভাব কমে আসে।
আর যাঁদের ত্বক শুষ্ক, তাঁদের জন্য হট ওয়্যাক্সিং। এ ক্ষেত্রে পাউডার ব্যবহার না করলেও চলে। মোম গলিয়ে, লেবু-চিনির সঙ্গে নানান উপাদান দিয়ে পারলারে বা বাসায় সহজেই এটি করা যায়।

আরও পড়ুন

ওয়াক্সিংয়ের পর কি ত্বকের লোম বেড়ে যায়

ওয়াক্সিং গোড়া বা গভীর থেকে লোম তুলে ফেলে। মডেল: অনন্যা
ছবি: সুমন ইউসুফ

অনেকেরই ভয় থাকে, ওয়াক্সিংয়ের পর ত্বকের লোম বেড়ে যায়। আসলে কি তাই? এই বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ইরফান উল্লাহ সাকিব জানান, ওয়াক্সিং গোড়া বা গভীর থেকে লোম তুলে ফেলে। যে কারণে লোম নতুন করে গজাতে সময় তুলনামূলক বেশি লাগে। সেই সঙ্গে এই পদ্ধতিতে লোম তুললে ধীরে ধীরে লোম পাতলা হয়ে যায়, শেভিং পদ্ধতির মতো লোম মোটা হয়ে যায় না।

ফলে ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতে এটি বেশ কার্যকর। তবে গরম বা ঠান্ডা যে পদ্ধতিতেই করা হোক না কেন, লোমের গঠনের বিপরীত দিক থেকে টান দিয়ে তোলা হয় বলে কিছুটা ব্যথা লাগতে পারে। গরম পদ্ধতিতে সতর্ক থাকতে হবে, অতিরিক্ত গরমে ত্বক যাতে পুড়ে না যায়। লোম পুরোপুরি ফিরে না এলে ওয়্যাক্সিং না করাই ভালো।

র‍্যাশ হলে

লোম পুরোপুরি ফিরে না এলে ওয়্যাক্সিং না করাই ভালো।মডেল: অনন্যা
ছবি: সুমন ইউসুফ

ওয়্যাক্সিংয়ের পরপরই ত্বকে বরফ ঘষে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। যাঁদের ত্বক বেশি শুষ্ক, তাঁরা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে ত্বকে র‍্যাশ বা অ্যালার্জি হবে না। ত্বকও থাকবে মোলায়েম। সাধারণভাবে ওয়াক্সিং করার পর দুই–এক দিন জায়গাটাতে লালচে ভাব থাকতে পারে, এতে ভয়ের কিছু নেই। নিজে থেকেই সেটি ভালো হয়ে যায়।

অনেক সময় লোমের গোড়ায় ইনফেকশন হতে পারে, এতে আবার জায়গাটি ফুলে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে পুঁজও জমে যায়। অনেকের ক্ষেত্রে কালচে দাগ তৈরি হতে পারে। যেসব উপাদান ওয়াক্সিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়, সবার ত্বকের জন্য সেটি উপযুক্ত না–ও হতে পারে। তাই ওয়াক্সিংয়ের সময় ভালো মানের উপাদান ব্যবহার করুন। তবে সাবধানতা অবলম্বনের পরও যদি এসব সমস্যা দেখা দেয়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন