শীতকালে ঠান্ডা নাকি গরম পানি দিয়ে চুল ধোয়া ভালো

শীতের সকাল। বাথরুমে ঢুকে গিজারটা অন করলেন। ধোঁয়া ওঠা গরম পানি গায়ে ঢালতেই কী আরাম! মনে হয় সারা দিন শাওয়ারের নিচেই দাঁড়িয়ে থাকি। কিন্তু এই আরাম আপনার সাধের চুলের জন্যও কি আরামদায়ক? নাকি অজান্তেই আপনি চুলের বারোটা বাজাচ্ছেন? চুল ধোয়ার সময় পানির তাপমাত্রা কেমন হবে, তা নিয়ে তর্কের শেষ নেই। কেউ বলেন গরম পানিতে ময়লা ভালো দূর হয়, কেউ বলেন ঠান্ডা পানিতে চুল চকচক করে। কিন্তু বিজ্ঞান কী বলছে?

শীতে ধোঁয়া ওঠা গরম পানি গায়ে ঢালতেই কী আরামমডেল: রাতুল। ছবি: কবির হোসেন

গরম পানির ভালো দিক

গরম পানির কিছু জাদুকরি ক্ষমতা আছে। পাশাপাশি আছে ভয়ংকর বিপদও। শুরুতেই ভালো কথাই বলা যাক। আমরা যেমন অনেকে তেল-চর্বিযুক্ত থালাবাসন ধুতে গরম পানি ব্যবহার করি, স্ক্যাল্প বা মাথার তালুর ক্ষেত্রেও তা–ই।

গরম পানি স্ক্যাল্পের সিবাম বা তেল গলিয়ে নরম করে দেয় এবং চুলের গোড়ার ফলিকলগুলো শিথিল করে। ফলে জমে থাকা ময়লা, ধুলাবালু ও অতিরিক্ত তেল সহজেই বেরিয়ে আসে। এ ছাড়া চুলের বাইরের আবরণ বা কিউটিকল গরম ভাপে খুলে যায়। তাই চুলে তেল বা মাস্ক লাগিয়ে গরম পানি দিয়ে ধুলে পুষ্টিগুণ চুলের গভীরে পৌঁছাতে পারে।

গরম পানির খারাপ দিক

ভালোর পাশাপাশি একটু চিন্তার কারণও আছে। গরম পানির সবচেয়ে বড় দোষ হলো, এটি স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক তেল বা ময়েশ্চারাইজার ধুয়েমুছে সাফ করে দেয়। ফলে চুল হয়ে যায় খড়ের মতো খসখসে ও রুক্ষ। অতিরিক্ত তাপে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে চুল পড়ার হার বেড়ে যেতে পারে। আর ধোয়ার পর চুল শুকালে তা উষ্কখুষ্ক হয়ে যায়। এমন চুল দেখতে নিশ্চয়ই আপনার ভালো লাগবে না!

আরও পড়ুন

ঠান্ডা পানির ভালো দিক

অপর দিকে ঠান্ডা পানি চুলের কিউটিকল বন্ধ করে দেয়। ফলে চুলের ভেতরের আর্দ্রতা বাইরে বের হতে পারে না। কিউটিকল সমান্তরালভাবে বন্ধ থাকলে তাতে আলো প্রতিফলিত হয় ভালো। তাই ঠান্ডা পানিতে ধোয়া চুল প্রাকৃতিকভাবেই বেশি চকচকে দেখায়। এ ছাড়া চুল উষ্কখুষ্ক হওয়া বা জট পাকানো অনেকটাই কমে যায় ঠান্ডা পানির ছোঁয়ায়।

ঠান্ডার পানি খারাপ দিক

তবে খারাপ দিকও আছে। ঠান্ডা পানি চুলকে এতটাই মসৃণ করে দেয় যে অনেক সময় চুল ফ্ল্যাট দেখায়। যাঁদের চুল পাতলা, তাঁদের জন্য এটা সমস্যা হতে পারে। আবার স্ক্যাল্পে যদি খুব বেশি ময়লা বা তেল জমে থাকে, তবে শুধু ঠান্ডা পানি দিয়ে সেটা পরিষ্কার করা কঠিন। তবে এটা বেশি সমস্যা নয়। বেশির ভাগ মানুষ সাধারণত ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়েই গোসল করেন।

প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্র কী বলে

তবে প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্র কিন্তু গরম পানি দিয়ে মাথা ধোয়ার ঘোর বিরোধী। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের মাথা শরীরের এমন এক জায়গা, যা সব সময় ঠান্ডা রাখা উচিত। গরম পানি দিয়ে চুল ধুলে মাথায় রক্ত সঞ্চালন হঠাৎ বেড়ে যায়। ফলে শুধু চুল পড়া নয়, চোখের ক্ষতিও হতে পারে এবং চুল পেকে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। আয়ুর্বেদের পরামর্শ হলো, শরীর গরম পানিতে ধুলে সমস্যা নেই, কিন্তু মাথার জন্য সব সময় সাধারণ তাপমাত্রার পানিই সেরা।

আরও পড়ুন

তাহলে কী করবেন

শীতে কি ঠান্ডা পানিতে জমে মরব নাকি গরমে চুল নষ্ট করব? বিজ্ঞানীরা একটা দারুণ সমাধান দিয়েছেন। চুল ধোয়ার শুরুতে একদম ফুটন্ত গরম বা হাড়কাঁপানো ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন না। ব্যবহার করুন কুসুম গরম পানি। এটি আপনার স্ক্যাল্পের লোমকূপ শিথিল করবে এবং শ্যাম্পুর ফেনা তৈরি করে ময়লা পরিষ্কার করতে সাহায্য করবে।

এরপর কুসুম গরম অবস্থায় শ্যাম্পু করে আলতো হাতে ম্যাসাজ করুন। এতে ময়লা সব উঠে আসবে। শ্যাম্পু ধুয়ে ফেলার পর বা কন্ডিশনার লাগানোর পর একদম শেষে এক মগ ঠান্ডা পানি চুলে ঢেলে দিন। এটি আপনার চুলের কিউটিকল বন্ধ করে দেবে, ময়েশ্চার লক করবে এবং চুলকে দেবে সিল্কি ফিনিশ।

চুল আপনার ব্যক্তিত্বের অংশ। তাই একে অবহেলা করবেন না। হালকা গরম পানি দিয়ে ময়লা বিদায় করতে পারেন, কিন্তু আদরের চুল রক্ষা করতে শেষমেশ ঠান্ডা পানির বিকল্প নেই!

সূত্র: হেলথ শটস ও হেয়ার ডটকম

আরও পড়ুন