নেইল পলিশের বদলে কেন জনপ্রিয় হচ্ছে জেল পলিশের ব্যবহার

সাধারণ নেইল পলিশ বেশি দিন টেকে না। পানির স্পর্শ, একটু অসাবধানতা বা গৃহস্থালির কাজে দুই-তিন দিনেই প্রান্তভাগের রং চটে শ্রীহীন হয়ে পড়ে। বারবার রং বদলানোর এই ঝক্কি এড়াতেই এসেছে ‘জেল পলিশ’।

স্বাভাবিক নখের ওপর দীর্ঘস্থায়ী রং, গ্লিটার কিংবা নিপুণ নকশা অক্ষতভাবে ধরে রাখার পদ্ধতিটিই হলো জেল পলিশ
ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন

অনেকেই জেল পলিশ ও নেইল এক্সটেনশনকে এক মনে করেন। কিন্তু দুটো সম্পূর্ণ আলাদা। এ নিয়ে কথা হলো তিশা’স বিউটি হাবের কর্ণধার ফারহানা সামাদ তিশার সঙ্গে।

জেল পলিশ বনাম নেল এক্সটেনশন

ফারহানা সামাদ বলেন, কারও নখ ছোট থাকলে কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত আকার দেওয়া হলো ‘নেইল এক্সটেনশন’। অন্যদিকে জেল পলিশ নখের আকার বা আকৃতি বদলাতে পারে না। নিজের স্বাভাবিক নখের ওপর দীর্ঘস্থায়ী রং, গ্লিটার কিংবা নিপুণ নকশা অক্ষতভাবে ধরে রাখার পদ্ধতিটিই হলো জেল পলিশ।

সাধারণ নেইল পলিশ বাতাসের সংস্পর্শেই শুকিয়ে যায়, যা মূলত ক্ষণস্থায়ী। অন্যদিকে জেল পলিশ হলো উন্নত রাসায়নিক ফর্মুলায় প্রস্তুত এক টেকসই প্রলেপ, যা প্রাকৃতিকভাবে বাতাসে শুকায় না। বিভিন্ন স্তরে বিশেষ এলইডি আলোর সংস্পর্শে নির্দিষ্ট সময়ে এটিকে শুকিয়ে শক্ত ও স্থায়ী রূপ দেওয়া হয়।

ফারহানা সামাদ জানান, একবার এই পলিশ করালে প্রাকৃতিক নখের স্বাভাবিক বৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে অনায়াসে তা এক থেকে দেড় মাস পর্যন্ত অবিকল থাকে। রান্নাবান্নার হলুদ বা মসলার দাগ লাগলেও সাধারণ নেইল পলিশ রিমুভারের এক ছোঁয়াতেই দাগ দূর হয়ে যায় এবং জেল পলিশের নিজস্ব চকচকে ভাব অক্ষত থাকে। ফলে বারবার নখ সাজানোর সময় বাঁচাতে এটি হতে পারে স্মার্ট ও কার্যকর উপায়।

আরও পড়ুন
জেল পলিশ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা মেনে চলা আবশ্যক
ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন

যেভাবে করা হয়

১. আকৃতি ও পরিচ্ছন্নতা

শুরুতেই যার জেল পলিশ করা হবে, তাঁর পছন্দ অনুযায়ী নখগুলোকে ডিম্বাকার, চারকোনা কিংবা কফিনের আকৃতি দেওয়া হয়। এরপর বাফারের সহায়তায় কিউটিকল পরিষ্কার করে, বিশেষ জীবাণুনাশক উপাদান দিয়ে নখের উপরিভাগ আর্ট ও রঙের জন্য প্রস্তুত করা হয়।

২. বেজ কোট ও রং

রং যাতে নখে মজবুতভাবে বসে, সে জন্য প্রথমে লাগানো হয় বেজ কোট। এরপর মূল জেল কালার কিংবা পছন্দের নেল আর্ট নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়।

৩. আলোর সংস্পর্শে কিউরিং

কোট লাগানোর পর ৬০ থেকে ৯০ সেকেন্ড এলইডি আলোর নিচে নখের ওপর জেলটিকে রেখে শুকিয়ে শক্ত করা হয়।

৪. টপ কোটের সুরক্ষা

সবশেষে একটি টপ কোট দিয়ে আবারও লাইটে দুই মিনিট মতো রাখা হয়, যা নখের পুরো নকশাকে একসঙ্গে রাখতে ও মজবুত করতে সাহায্য করে।

এভাবেই পাওয়া যায় মসৃণ, কাচের মতো উজ্জ্বল এক আস্তরণ।

অনভিজ্ঞ কারও মাধ্যমে জেল পলিশের সেবা নিলে নখ পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে
ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন

জেল পলিশ তোলার নিয়ম

ফারহানা সামাদের মতে, জেল পলিশ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা মেনে চলা আবশ্যক। যেমন:

১. খুঁচিয়ে তোলার চেষ্টা করবেন না

নখ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গোড়ায় ফাঁকা জায়গা তৈরি হলেও পলিশটি নিজে নিজে টেনে বা দাঁত দিয়ে খুঁটে তোলার চেষ্টা করা অনুচিত। এতে নখের স্বাভাবিক স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

২. দক্ষ হাতে অপসারণ

জেল পলিশ সাধারণ উপায়ে তোলা সম্ভব নয়। অভিজ্ঞ সেলুনে গিয়ে বিশেষ উপাদান ও নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে বেশ কিছুটা সময় নিয়ে এটি তুলতে হয়। এই জন্য দক্ষ কারও সাহায্য নিতে হবে। সাধারণত যেখান থেকে লাগানো হয়, সেখানে গিয়ে ওঠানোই ভালো।

৩. মানসম্মত সেলুন নির্বাচন

মানহীন পণ্য বা অনভিজ্ঞ কারও মাধ্যমে এই সেবা নিলে নখ পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন