জানুয়ারিতেই জেনে নিন জরুরি ১০ সত্য
বেঁচে থাকা মানে কেবল বয়সে বড় হওয়া নয়, বরং প্রতিদিন একটু একটু করে শেখা, বোঝা। অভিজ্ঞতা, ভুল, কষ্ট আর উপলব্ধির মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে পরিণত হয় মানুষ। কিছু সত্য আছে, যেগুলো যত তাড়াতাড়ি বুঝে নেওয়া যায়, জীবন ততটাই সহজ, শান্ত ও অর্থবহ হয়ে ওঠে। নিজেকে ভালো রাখা, সম্পর্ক সামলানো, মানসিক শক্তি গড়ে তোলা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, অপ্রয়োজনীয় কষ্ট আর জটিলতা এড়াতে এই ১০টি বিষয় জানা ও মেনে চলা ভীষণ জরুরি।
১. মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন
সব বিষয়ে যে আপনাকে কথা বলতেই হবে, বিষয়টা এমন না। বরং মাঝেমধ্যে কেবল শুনে যাওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। নীরবতার শক্তিকে বুঝুন, উদ্যাপন করুন।
২. যাঁরা আপনার চেয়ে এগিয়ে, কিন্তু আপনার বিরুদ্ধে নয়, তাঁদের কাছ থেকে শিখুন
যে আপনার চেয়ে এগিয়ে তাঁকে হিংসা নয়, তাঁর থেকে অনুপ্রেরণা নিন। ঈর্ষা কেবলই আপনার শেখার গতিকে ধীর করে দেবে। কৌতূহলী হোন। প্রশ্ন করুন। পর্যবেক্ষণ করুন। যাঁরা আপনার বিরুদ্ধে, চুপচাপ তাঁদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব রাখুন। সবাই আপনাকে পছন্দ করবে না—এটা স্বাভাবিক।
৩. ‘না’ বলা শিখতেই হবে
‘না’ বলা আত্মরক্ষা, আত্মসম্মান আর মানসিক সুস্থতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। নিজের সীমা, মানসিক সুস্থতা, আত্মসম্মান, নিজের অগ্রাধিকার ও সম্পর্ক সুস্থ রাখতে ‘না’ বলা জরুরি। মনে রাখবেন, নিজের বিরুদ্ধে গিয়ে ‘হ্যাঁ’ বলে কখনোই আপনি অপরপক্ষকে সুখী করতে পারবেন না। জোর করে ‘হ্যাঁ’ বলা সম্পর্ককে বিষাক্ত করে। অন্যদিকে পরিষ্কার ‘না’ ভুল–বোঝাবুঝি কমায়।
৪. পরিণত বয়সের সম্পর্ক
ছোটবেলার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকেও পরিণত বয়সের সম্পর্ক আপনাকে অনেক বেশি পরিণত করে। হতে পারে সেটা বন্ধুত্ব, সিনিয়য়ের সঙ্গে সম্পর্ক বা প্রেম। সম্পর্ক যদি বেশি দিন না-ও টেকে, উপলব্ধি, বোঝাপড়া বা অনুভূতিগত পরিণতবোধের দিক দিয়ে আপনাকে এগিয়ে দেয়। সব সম্পর্ক আজীবনের না। কিছু মানুষ জীবনে আসে শেখাতে, থেকে যেতে নয়।
৫. ভুলও ভালো, শান্তি জয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
ভুল থেকেই সবচেয়ে মূল্যবান শিক্ষা আসে। ভুল আপনাকে যেভাবে শেখায় আর কোনো কিছুই সেভাবে পারে না। তবে আপনার সে জন্য ভুল থেকে শেখার মানসিকতা থাকতে হবে।
সব তর্ক জেতার দরকার নেই। চুপ থাকুন। আপনার নীরবতা যদি শান্তি আনে, সেটাই আপনার বড় জয়, প্রকৃত জয়।
৬. অনুপ্রেরণার আগে দিকনির্দেশনা
‘হাইপয়ের’ দরকার নেই। প্রয়োজন হলো সঠিক পরিকল্পনা। সেগুলোকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে সেই অনুযায়ী কাজ করে যাওয়া আর ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।
৭. প্রচেষ্টা সুন্দর, এমনকি বিজয়ী হওয়া থেকেও
আপনি বিজয়ী হবেন কি হবেন না, সেটা অনেক সময় আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে না। আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে আপনার প্রচেষ্টা। আর ধারাবাহিকভাবে যখন আপনি প্রচেষ্টা চালিয়ে যান, তখন লক্ষ্যে না পৌঁছালেও বিজয়ী না হলেও ‘একটা জায়গায় আপনি পৌঁছান’। সেটা অনেক সময় আপনার প্রাথমিক লক্ষ্য থেকেও গভীর আর অর্থবহ।
৮. অল্প মানুষ, বেশি ‘কোয়ালিটি’
নিজের সার্কেল যত ছোট রাখবেন, সম্পর্কের গভীরতাকে, বিশ্বস্ততা, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও নির্ভরতাকে গুরুত্ব দিয়ে অর্থপূর্ণ জীবনযাপন আপনার জন্য ততই সহজ হবে।
৯. আপনার আচরণ কেমন হবে?
আপনার পরিবেশের উপাদানের ভেতর আপনার সঙ্গী, পরিবার, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, বস-সহকর্মীরা যেমন আছেন, তেমনি আছে আপনি কী বই পড়েন, কী চিন্তা করেন, কোথায় থাকেন, কী খান, আপনার ঘরটা কেমন, আপনার জীবনযাপন কেমন—এসব। আপনি চান বা না চান—এই সবকিছুই আপনার আচরণ ঠিক করে দেয়।
১০. নিজেকে গুরুত্ব দিন; শেষ পর্যন্ত কেবল আপনিই নিজের সঙ্গে থাকেন
নিজের যত্ন নেওয়া ‘বিলাসিতা’ না, ‘প্রয়োজনীয়তা’। নিজের যত্ন নেওয়া, নিজেকে প্রাধান্য দেওয়া বা প্রতিবার নিজেকে বেছে নেওয়ার জন্য কখনোই অপরাধবোধে ভুগবেন না। বরং এটাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যান।
সূত্র: লিভ বেটার–এর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল