এআই মামলার মেসেজটি আপনিও পেয়েছেন? প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে এই ৭ তথ্য জেনে রাখুন

জরিমানার নোটিশের নামে মুঠোফোনে ভুয়া খুদে বার্তা পাঠিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছে একটি প্রতারক চক্রছবি ও গ্রাফিকস: প্রথম আলো

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নামে একটি খুদে বার্তা পেয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে যান নিয়াজ মোর্শেদ। বার্তাটি ছিল ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগসংক্রান্ত। শুরুতেই একটি ট্রাফিক টিকিট নম্বর উল্লেখ করে লেখা, ‘ট্রাফিক আইনের অধীনে আপনার গাড়ির ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের জন্য এটিই চূড়ান্ত সতর্কবার্তা।’

খুদে বার্তায় আইনের ধারা উল্লেখ করার পাশাপাশি কীভাবে তিনি আইন ভঙ্গ করেছেন, তার কারণ দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে জরিমানা পরিশোধের জন্য একটি ওয়েবসাইটের লিংকও যুক্ত।

ঢাকার বেসরকারি চাকরিজীবী নিয়াজ পুরো বার্তাটি পড়েই সন্দিহান হয়ে ওঠেন। কারণ, সেখানে দাবি করা হয়েছে, ‘অতিরিক্ত গতি’ ও ‘অবৈধ পার্কিংয়ের’ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অথচ তিনি মোটরসাইকেলে অফিসে যাতায়াত করেন এবং সব সময় সতর্কতার সঙ্গে ধীরগতিতে চালান। গত এক মাসে অফিস ছাড়া অন্য কোথাও মোটরসাইকেল পার্ক করেছেন বলেও তাঁর মনে পড়ে না।

বিষয়টি এক বন্ধুকে জানাতেই রহস্যের জট খুলতে শুরু করে। বন্ধুটিও একই ধরনের খুদে বার্তা পেয়েছেন, যদিও তাঁর কোনো যানবাহনই নেই। তখন আর বুঝতে বাকি থাকে না—এটি আসলে প্রতারক চক্রের ফাঁদ।

নিয়াজ মোর্শেদের মতো গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক মানুষ এ ধরনের ভুয়া বার্তা পাওয়ার কথা জানিয়ে পোস্ট করছেন। এদিকে গত ২৫ মে এ-সংক্রান্ত একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। তাদের পক্ষ থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে জানানো হয়েছে, এমন কোনো বার্তা ডিএমপির পক্ষ থেকে পাঠানো হচ্ছে না।  

প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে যা জানা জরুরি

১. গত ৭ মে ঢাকার বিভিন্ন মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। এআইভিত্তিক ক্যামেরায় সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করার সফটওয়্যার সংযোজন করা হয়েছে। সফটওয়্যারের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী, আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সেই গাড়ি শনাক্ত করছে ক্যামেরা। সে অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের নামে ডিজিটালি মামলা দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লোগো
ফাইল ছবি

২. তবে প্রাথমিকভাবে আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি ম্যানুয়ালি বিশ্লেষণ করে ডাকযোগে মালিকের ঠিকানায় মামলার তথ্য পাঠানো হচ্ছে।

৩. সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী, গাড়ির মালিকের ঠিকানায় পাঠানো চিঠিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের/ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকবে।

৪. প্রয়োজনে ০১৩২০-০৪২২০৭ ও ০১৩২০-০৪২২২৭ নম্বর থেকে খুদে বার্তা পাঠানো হয়ে থাকে।

৫. ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের জরিমানা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের (উপায় ও সিবিবিএল) মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়।

৬. ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কখনোই আপনার কোনো পিন কোড, পাসওয়ার্ড বা ওটিপি জানতে চাইবে না।

৭. ট্রাফিক এআই/ভিডিও মামলার তথ্যসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য জানতে ০১৩২০-০৪২২০৭ ও ০১৩২০-০৪২২২৭ অথবা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ।

আরও পড়ুন