৭ মাসে ৩৭ কেজি ওজন কমিয়ে র‍্যাম্পে ফিরেছেন মডেল মাশিয়াত, কীভাবে সম্ভব করলেন

মা হওয়ার পর শরীরে আসে নানা পরিবর্তন। সন্তান জন্মের পর বাড়তি ওজন কমিয়ে আগের ছন্দে ফেরা তাই অনেকের জন্য কঠিন। তবে ইচ্ছাশক্তি আর নিয়ম মেনে সেই আগের ছন্দেই ফিরেছেন মডেল মাশিয়াত রহমান; তা–ও একবার নয়, দুবার। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর মাত্র ৭ মাসে ৩৭ কেজি ওজন কমিয়ে আবার র‍্যাম্পে ফিরেছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানাচ্ছেন হুমায়রা মাহজাবিন

দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর মাশিয়াতের ওজন হয় ৯২ কেজি (বাঁয়ে), সাত মাসে ওজন কমিয়ে এখন ৫৫ কেজিতে এসেছেন (ডানে)
ছবি: মাশিয়াতের সৌজন্যে

মাশিয়াত রহমান মডেল ও অভিনেত্রী। এই পেশায় নিজেকে ফিট রাখা কতটা জরুরি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। র‍্যাম্পের আলোয় নিজেকে মেলে ধরতে যেমন আত্মবিশ্বাস প্রয়োজন, তেমনই প্রয়োজন শরীরের যত্ন ও নিয়ম মেনে চলা।

কিন্তু একজন নারী যখন মা হন, তখন শরীরে আসে স্বাভাবিক নানা পরিবর্তন। মাশিয়াতের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর মাশিয়াতের ওজন বেড়ে গিয়েছিল ৩৭ কেজি। তবে এই বাড়তি ওজন নিয়ে একদমই বিচলিত ছিলেন না মাশিয়াত। কারণ, বাড়তি ওজন কমিয়ে ছন্দে ফেরার অভিজ্ঞতা তাঁর আগেও ছিল।

ওজন কমাতে যা করেছেন

প্রথমবার মা হওয়ার পর ৯৮ কেজি থেকে ৫২ কেজিতে নেমে এসেছিলেন মাশিয়াত। একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রেও। ২০২৬ সালে দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর তাঁর ওজন বেড়ে দাঁড়ায় ৯২ কেজিতে। সাত মাসের মধ্যে সেখান থেকে ৩৭ কেজি কমিয়ে এখন ওজন ৫৫ কেজি। এর মধ্যে ১১ কেজি স্বাভাবিকভাবেই কমেছে আর বাকি ২৬ কেজি কমাতে ডায়েটের দিকে বিশেষ নজর দিয়েছেন মাশিয়াত।

কোন অনুপ্রেরণায় এমন পরিবর্তন সম্ভব হলো—জানতে চাইলে মাশিয়াত বলেন, ‘আমি আমার কাজ ভালোবাসি। অনেক চেষ্টা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এই জায়গা তৈরি করেছি। তাই আবারও নিজেকে সেই জায়গায় দেখতে চেয়েছি। নিজের ওপর বিশ্বাস আর ইচ্ছাশক্তিই আমাকে এতটা পথ এগিয়ে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সেই ইচ্ছাই আমাকে আবার কাজের জায়গায় ফিরিয়েছে।’

মাশিয়াত ওজন কমিয়েছেন কাজে ফেরার অনুপ্রেরণা থেকে
ছবি: ফেসবুক থেকে

মাশিয়াতের কাছে ডায়েট মানে না খেয়ে থাকা নয়, বরং সঠিক ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। সি–সেকশনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ায় তেমন কোনো শরীরচর্চা করেননি তিনি। নিয়মিত হাঁটাই ছিল তাঁর শারীরিক পরিশ্রমের একমাত্র পথ।

সাত মাসের এই ওজন কমানোর যাত্রায় তাঁকে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে সাহায্য করেছেন প্যানকেয়ার হাসপাতালের পুষ্টিবিদ সাজিয়া মাহমুদ। এই পুষ্টিবিদের তত্ত্বাবধানেই প্রথম সন্তান জন্মের পর ওজন কমিয়েছিলেন মাশিয়াত। সাজিয়া মাহমুদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি নিজের শরীর বুঝে এগিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন

সবার জন্য একই নিয়ম নয়

তবে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে অন্যদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ডায়েট ঠিক করে দিতে চান না মাশিয়াত। কারণ, তাঁর মতে, সব মানুষের শরীর এক রকম নয়। একজনের জন্য যে ডায়েট কার্যকর, অন্যের শরীরের জন্য সেটি একইভাবে কাজ না-ও করতে পারে। তাই ওজন কমানোর আগে নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে একজন ভালো ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

সাজিয়া মাহমুদ বলেন, ‘আমার কাছে অনেক সেলিব্রিটি ডায়েটের পরামর্শ নিতে আসেন। তবে মাশিয়াত তাঁদের মধ্যে সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ, তাঁর মতো ধৈর্য আমি খুব কম ব্যক্তির মধ্যেই পাই। প্রথমবার তাঁকে শুধু একটু গাইড করেছিলাম, এরপর তিনি সিরিয়াসলি নিজেকে ফিট করেছেন। দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর তিনি আবার আমার কাছে এলেন পরামর্শ নিতে; আবার কাজে ফিরতে চান। আমি তাঁকে সেভাবেই পরামর্শ দিলাম। তিনিও লেগে থেকে আবার নিজেকে ফিট করেছেন।’

সাজিয়া মাহমুদ মনে করেন, অনেকেই ওজন কমাতে চান, কিন্তু মাঝপথে এসে ধৈর্য রাখতে পারেন না। অনেকে শুরুতে দ্রুত ওজন কমা দেখে উৎসাহ পান, মাঝে কমার মাত্রা ধীর হলেই ছেড়ে দেন। কিন্তু সঠিকভাবে ওজন কমানো এমন একটা প্রক্রিয়া, যেখানে সব সময় একইভাবে ওজন কমবে না। নিয়মিত পুষ্টিবিদের তত্ত্বাবধানে থাকতে হয়। কখনো এক মাস পর, কখনো ১৫ দিন পর ডায়েট পরিবর্তন করতে হতে পারে। সেভাবে রুটিন মেনে জীবনযাপন, খাবার, ব্যায়াম করতে হয়।

আরও পড়ুন

মাশিয়াতের অনুপ্রেরণা

নিয়মিত মডেলিং ও অভিনয়ের কাজ করতে চান মাশিয়াত
ছবি: মাশিয়াতের সৌজন্যে

৩৭ কেজি ওজন কমানোই মাশিয়াতের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল না। বরং নিজেকে আবার র‍্যাম্পে দেখা এবং পেশাগত জীবনে নিয়মিত হওয়াই ছিল এই পুরো যাত্রার মূল উদ্দেশ্য। সেই লক্ষ্য পূরণও হয়েছে। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের সাত মাস পরই গত ২২ আগস্ট একটি ফ্যাশন শো দিয়ে আবার র‍্যাম্পে ফিরেছেন মাশিয়াত। এখন নতুন করে সামনে এগিয়ে যেতে চান। বিরতির পর আবার কাজে ফিরেছেন, তাই সামনে নিয়মিত মডেলিং ও অভিনয়ের কাজ করতে চান। নিজেকে ফিট রাখার পাশাপাশি কাজের পরিধিও বাড়াতে চান তিনি।

মা হওয়ার পর যাঁরা ওজন কমাতে চান

তাঁদের উদ্দেশে মাশিয়াতের পরামর্শ, ‘লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে নিয়মিত থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিন দিন ডায়েট করে চতুর্থ দিন যদি ছেড়ে দিই, তাহলে কোনো ডায়েটই কাজে আসবে না। ডায়েট মানে শুধু ওজন কমানো নয়, বরং একটি স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের অভ্যাস তৈরি করা। নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকলে এই অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব।’

ডায়েট মেনে চলা থেকে সন্তান জন্মের পর আবার কাজে ফিরে আসা; সব ক্ষেত্রেই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইচ্ছাশক্তি ও নিজের লক্ষ্যে স্থির থাকা। আর তাঁর নিজের ক্ষেত্রে সেই ইচ্ছার সবচেয়ে বড় প্রমাণ সাত মাস পর আবার র‍্যাম্পের আলোয় ফিরে আসা।

আরও পড়ুন