৫০ হাজার টাকায় ব্যবসা শুরু, এখন মিরপুরে দিয়েছেন আউটলেট

খুব ছোট করে শুরু অনলাইন উদ্যেগগুলো নিজস্ব জায়গা করে নিচ্ছে ফ্যাশন জগতে। অনেকেই এখন দিয়েছেন আউটলেটও। পোশাকের ব্র্যান্ড সুতলি তেমনি একটি প্রতিষ্ঠান।

২০২৫ সালে মিরপুর সাড়ে ১১-তে আউটলেট খোলার মাধ্যমে অনলাইন থেকে অফলাইনে যাত্রা শুরু করে সুতলি
ছবি: সুমন ইউসুফ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় কুয়েত মৈত্রী হলে থাকতেন রিফাত আনোয়ার লোপা। তখন প্রায় প্রতিদিন বিকেলে নিউমার্কেট ঘুরে ঘুরে ব্লকের কাজ দেখতেন। কাপড়ের রং, নকশা আর নানা ধরনের কারুকাজ দেখতে দেখতে মনে হতো—একদিন আমিও যদি এমন কিছু করতে পারতাম।

আরও পড়ুন
সুতলির উদ্যোক্তা রিফাত আনোয়ার লোপা
ছবি: সুমন ইউসুফ

২০১৫-১৬ সালের দিকে নিজের জন্য একটা কুর্তি খুঁজতে খুঁজতে মনের মধ্যে ইচ্ছাটা আবার জেগে উঠল। রিফাত বলছিলেন, ‘নিজের জন্য ভালো স্টিচিংয়ের কুর্তি পাচ্ছিলাম না। পুরোনো ইচ্ছাটা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। স্বামী ও ছোট বোন উৎসাহ দিল। ৫০ হাজার টাকা নিয়ে মাঠে নামলাম। স্বাচ্ছন্দ্যে বাজারে যাওয়া যাবে, আবার অফিসও করা যাবে—এমন কিছু কুর্তি বানালাম।

সেই থেকে শুরু। প্রথমবার তৈরি করা কুর্তিগুলো মাত্র ২৬ দিনের মধ্যে বিক্রি হয়ে গেল। এরপর “সুতলি” নামে একটি পেজ খুললাম। কাজের পরিধি বাড়তে থাকল, বাড়তে থাকল চাহিদাও। তখন একটি সমস্যা দেখা দিল—প্রতিবার কুর্তির স্টিচিং, প্যাটার্ন ও মাপ একই রকম থাকত না। তখন মনে হলো, কাজটাকে বড় করতে হলে নিজস্ব কারখানা আর দরজির প্রয়োজন, যেখানে প্রতিটি পণ্যের মান ও নকশায় ধারাবাহিকতা রাখা সম্ভব।’

কলম কারি কাজে রিফাত আনোয়ারের বিশেষ আগ্রহ ছিল
ছবি: সুমন ইউসুফ

বড় হতে থাকল সুতলি। ধীরে ধীরে কুর্তির পাশাপাশি যুক্ত হলো শার্ট, পাঞ্জাবি ও শাড়ি। তবে কলম কারি কাজে রিফাত আনোয়ারের বিশেষ আগ্রহ ছিল। চেয়েছিলেন সুতলিকে কলম কারির পণ্যের ব্র্যান্ড বানাতে। তাই কলম কারিকে একটু ভিন্নভাবে, আধুনিক রুচির সঙ্গে নতুন করে উপস্থাপন করার কাজ শুরু করেন।

বিশেষ করে কোভিডের পর থেকে সুতলি কলম কারি নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করে। রিফাত জানালেন, ‘কোড়া কাপড় শুধু আমরা বাইরে থেকে সংগ্রহ করি; বাকি পুরো কাজটাই হয় দেশে। পাশাপাশি কলম কারিতে দেশি হ্যান্ডলুম নিয়েও কাজ করছি। শাড়ি ও পোশাকের পাশাপাশি বর্তমানে কলম কারি ব্যাগ সুতলির অন্যতম জনপ্রিয় পণ্য।’

আরও পড়ুন
সুতলির আউটলেট
ছবি: সুমন ইউসুফ

বিভিন্ন মেলায় যখন রিফাত অংশ নিতেন, খেয়াল করতেন মানুষের মধ্যে সুতলির পণ্য হাতে দেখে কেনার একটা প্রবণতা আছে। বুঝলেন, দেখে, ছুঁয়ে, কাপড়ের মান ও কাজ যাচাই করে পণ্য কিনতে আউটলেটের বিকল্প নেই। ২০২৫ সালের ১১ মে মিরপুর সাড়ে ১১-তে আউটলেট খোলার মাধ্যমে অনলাইন থেকে অফলাইনে যাত্রা শুরু করে সুতলি।

আরও পড়ুন