শাকিরার টারকুইজ পোশাকটি যেভাবে বানানো হয়েছে

এ বছরের ফুটবল বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক গান ‘ডাই ডাই’য়ে শাকিরা পাঁচটি পোশাক পরেছেন। ফ্যাশন, কারুশিল্প ও টেকসই নকশার সমন্বয় করার চেষ্টা করেছেন ডিজাইনাররা। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে টারকুইজ রঙের পোশাকটি। ডিজাইন করেছেন গানার ডেথেরেজ ও তাঁর মায়ামিভিত্তিক দল।

চার দিনে রুদ্ধশ্বাস প্রক্রিয়ায় বানানো হয় শাকিরার পোশাকটিছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

১৬ বছর পরও ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গানটির জনপ্রিয়তা কমেনি। বিশ্বকাপের গান হিসেবে মিলেনিয়ালদের কাছে এটি এখনো প্রিয়। এ বছরের ফুটবল বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক গান ‘ডাই ডাই’য়ে কলম্বিয়ান এই পপ তারকা আবারও প্রশংসা পেয়েছেন। আলোচনায় এসেছে তাঁর পোশাক ও ঢেউখেলানো চুল।


ফুটবল বিশ্বকাপের সঙ্গে শাকিরার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের জন্য ‘লা লা লা’ গানটি রিও ডি জেনিরো সমাপনী অনুষ্ঠানে পরিবেশন করেন। এর আগে ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপের সমাপনী অনুষ্ঠানে শাকিরা তাঁর জনপ্রিয় ‘হিপস ডোন্ট লাই’ গানটি শোনান। প্রতিবারই তাঁর পোশাক, নাচ ও সোনালি চুল ভক্তদের মুগ্ধ করেছে।

আরও পড়ুন

এ বছরের গানটিতে শাকিরা পাঁচটি পোশাক পরেছেন। ফ্যাশন, কারুশিল্প ও টেকসই নকশার সমন্বয় করার চেষ্টা করেছেন ডিজাইনাররা। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে টারকুইজ রঙের পোশাকটি। ডিজাইন করেছেন গানার ডেথেরেজ ও তাঁর মায়ামিভিত্তিক দল।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে টারকুইজ রঙের পোশাকটি
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

তবে পুরো বিষয়টির পেছনে ছিল শাকিরার দীর্ঘদিনের স্টাইলিস্ট নিকোলাস ব্রুর সৃজনশীল তত্ত্বাবধান। যৌথ প্রচেষ্টার কারণেই পোশাকে শৈল্পিক কারুকাজ, নাটকীয় সিলুয়েট আর গ্ল্যামার তিনটি দিকই ঠিকঠাকভাবে ফুটে ওঠে।
পোশাকটি বানানোর পেছনের গল্পটিও বেশ নাটকীয়। মাসের পর মাস পরিকল্পনা করে এটি তৈরি করা হয়নি, বরং চার দিনে বলতে গেলে রুদ্ধশ্বাস প্রক্রিয়ায় বানানো হয় পোশাকটি।

আরও পড়ুন

সবকিছুর শুরু কলম্বিয়ার মেডেলিনে। ডিজাইনার গানার ডেথেরেজ, ক্রিস্টোফার মিনাফো ও কেটি ম্যামি ছুটি কাটাচ্ছিলেন। হঠাৎই তাঁদের কাছে আসে শাকিরার পোশাক তৈরির প্রকল্পে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব। সময় নষ্ট না করে তাঁরা সরাসরি মায়ামির ফ্লাইট ধরেন।

পোশাকটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে ক্যামেরার সামনে এবং নাচের সময় যেন সুন্দর লাগে এবং কোনো সমস্যা না হয়
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

এরপর শুরু হয় সময়ের আগে দৌড়ানো। কারণ, ড্রেস রিহার্সালের আগেই শাকিরার মূল পোশাকের পাশাপাশি তাঁর পেছনের নৃত্যশিল্পীদের জন্য আরও ছয়টি পোশাকও যে বানাতে হবে। সমস্যা শুধু সময় নয়, জায়গা নিয়েও ঝামেলা দেখা দেয়।
হোটেলে একটি রুমকে অস্থায়ী ওয়ার্কশপে পরিণত করা হয়। সেখানেই চলতে থাকে নকশা, কাটিং, জোড়া লাগানো এবং শেষ মুহূর্তের সংশোধনের কাজ। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জরুরি ভিত্তিতে উপকরণ আনা হয়। পুরো দল প্রায় না ঘুমিয়েই কাজটি করেছে।

নিকোলাস ব্রুর সৃজনশীল নির্দেশনায় হাতে তৈরি করা হয় ক্রোশের কারুকাজ করা বেল্টটি। চামড়ার ওপর বসানো হয় টারকুইজ রঙের পুঁতি। সঙ্গে তো সূক্ষ্ম বুনন ছিলই। পুরো প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেন ডেথেরেজ নিজেই। মজার বিষয় হলো, পরে এক সাক্ষাৎকারে ডেথেরেজ জানান, স্কুলজীবনে তাঁকে প্রায়ই বুনন বা তাঁতের কাজ নিয়ে সমস্যায় পড়তে হতো। অথচ সেই একই দক্ষতাই একদিন তাঁকে বিশ্বের অন্যতম বড় পপ তারকা শাকিরার জন্য পোশাক বানানোর সুযোগ এনে দিল। তাঁর ভাষায়, একসময় যে শখের জন্য বকা খেতেন, সেটিই পরে তাঁর পেশাগত সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে।

শাকিরার পেটের ওপর পুঁতি দিয়ে এ নকশা করা হয়েছিল
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

পোশাকটির নকশা বেশ জটিল ছিল। জেড সবুজ আর নীল রঙের বিভিন্ন শেডের সমন্বয়ে তৈরি এই পোশাকে খুঁটিনাটি সব বিষয়ের ওপর মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রাধান্য পেয়েছে হাতে করা সূক্ষ্ম অ্যাপলিক ও পুঁতির কাজ। পোশাকটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে ক্যামেরার সামনে এবং নাচের সময় যেন সুন্দর লাগে এবং কোনো সমস্যা না হয়। স্কার্টের ফ্রিঞ্জও সাবলীলভাবে নাচের মুদ্রার সঙ্গে ভালোই তাল মিলিয়েছে। পোশাকটির রঙের সঙ্গে মানিয়ে শাকিরার পেটের ওপর পুঁতি দিয়ে নকশাও করা হয়েছিল।


সূত্র: ল্যাটিনেশন

আরও পড়ুন