মেসির হাতে থাকা সেই ব্যাগ কেন এখনো আলোচনায়
২০২৫ সালে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্পে মেসির হাতে ছিল আর্মেসের ব্যাগ। জেনে নেওয়া যাক ব্যাগটির খুঁটিনাটি বিষয়। এখনো সেটি আছে আলোচনায়।
চার বছর পরপর ফুটবল বিশ্বকাপের আসরে ফুটবলাররা থাকেন মানুষের চোখে চোখে। তাঁরা কী খান, কীভাবে চলেন, তাঁদের দৈনন্দিন রুটিন, ফিটনেস—সবকিছুই চলে আসে আলোচনায়। এ বছর খেলার বাইরে ফুটবলারদের ফ্যাশন সচেতনতাও বিশেষভাবে নজর কাড়ছে।
ফ্রান্সের ফুটবলাররা যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে নামলেন, তখন হাতে ছিল আর্মেসের ব্যাগ।
৫২ বছর প্রতীক্ষার পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরাটা স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছিল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। দলটি যখন হিউস্টনে পৌঁছায়, তখন ফুটবলারদের পরনে ছিল কঙ্গোয় জন্ম নেওয়া এবং বর্তমানে প্যারিসভিত্তিক ৩০ বছর বয়সী ডিজাইনার আলভিন মাকের চিতাবাঘের নকশা করা পোশাক আর ব্যাগ।
আর্জেন্টিনার ফুটবলাররাও যখন বিমানবন্দরে নেমেছেন, হাতে ছিল আর্মেস, লুই ভুতোঁসহ নানা ব্র্যান্ডের ব্যাগ। তবে এখনো সব ছাপিয়ে আলোচনায় আছে ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্পে মেসির হাতে থাকা আর্মেসের ব্যাগটি। জেনে নেওয়া যাক ব্যাগটির খুঁটিনাটি বিষয়।
মেসির হাতে থাকা আর্মেস হ্যাক ব্যাগ সবার নজর কাড়ে। ব্যাগটির দাম ছিল সে সময় ৬৫ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় ৮০ লাখের কাছাকাছি।
ব্যাগটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ভাইরাল হয়ে যায়। মেসির এই ব্যাগ আবারও প্রমাণ করেছে, মাঠের বাইরেও ফ্যাশন ও স্টাইলের কারণে ফুটবল তারকারা ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন।
মেসির হাতে ছিল আর্মেস উ আ কুয়া (হ্যাক) কারগো ৪০ মডেলের একটি ব্যাগ। ফরাসি বিলাসবহুল ব্র্যান্ড আর্মেসের আনুষ্ঠানিক সংগ্রহে এটি নেই বললেই চলে। তাই এটি বাজারের সবচেয়ে বিরল ব্যাগগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
বিভিন্ন বিলাসপণ্য বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে ব্যাগটির দামও ভিন্ন ভিন্ন দেখা গেছে। আর্মেস ব্যাগের নির্দিষ্ট খুচরা মূল্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। সাধারণত আর্মেস বুটিকেও এটি সহজে পাওয়া যায় না।
সীমিত উৎপাদন এবং বিশেষ গ্রাহকভিত্তিক বিক্রয়নীতির কারণে ব্যাগটি সংগ্রহ করা বেশ কঠিন। ফলে ক্রেতাদের সাধারণত বিলাসপণ্য পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম, কনসাইনমেন্ট স্টোর বা সেকেন্ডারি মার্কেটের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই সীমিত প্রাপ্যতাই ব্যাগটির চাহিদা ও মূল্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সেকেন্ডারি মার্কেটে
পুনর্বিক্রয় বা কনসাইনমেন্ট বাজারে ব্যাগটির দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। ব্যবহৃত বা নতুন—দুই ধরনের ব্যাগই, বিশেষ করে উচ্চমানের বাছুরের চামড়া ও টোয়াল ক্যানভাসের মতো প্রিমিয়াম উপকরণে তৈরি সংস্করণগুলো।
এসব সাধারণত ৫২ থেকে ৬৫ হাজার মার্কিন ডলারে বিক্রি হচ্ছে। সীমিত উৎপাদন, বিরল নকশা এবং সংগ্রাহকদের উচ্চ চাহিদার কারণে দাম আরও বেড়ে যায়। নতুন বা বিশেষ সংস্করণের হ্যাক ৪০ ব্যাগ নিলাম বা প্রিমিয়াম রিসেল প্ল্যাটফর্মে আরও বেশি দামে বিক্রি হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে দাম অনেক সময় ৬৫ থেকে ৭০ হাজার মার্কিন ডলার বা আরও বেশি হয়।
ব্যাগের অবস্থা, উপকরণ, রং ও বিরলতার ওপর নির্ভর করে দাম ওঠানামা করে। ফলে এটি শুধু একটি ফ্যাশন অনুষঙ্গ নয়, বরং সংগ্রাহকদের কাছেও মূল্যবান বিনিয়োগযোগ্য সামগ্রী হিসেবেও বিবেচিত।
তবে মজার বিষয় হলো, মেসির হাতে থাকা এ ধরনের ব্যাগ একসময় ঘোড়ার জিন বহনের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। আধুনিক সংস্করণে যোগ হয়েছে বেশ কিছু নতুন সুবিধা—মজবুত ক্যানভাসের অংশ, একাধিক প্রশস্ত পকেট এবং কাপ রাখার আলাদা জায়গা। ফলে এটি শুধু দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্যও বেশ উপযোগী। বিমানবন্দর, অনুশীলন মাঠ কিংবা ম্যাচ শেষে উদ্যাপন—সব জায়গায়ই এটি সমানভাবে মানিয়ে যায়।
ব্যাগ হাতে মেসির এই ছবি আলাদা করে নজর কাড়ার কারণ, তিনি ব্যাগটিকে বিলাসী অনুষঙ্গ হিসেবে তুলে ধরেননি। খুব সাধারণ ব্যাগের মতো বহন করেছেন। সাধারণত বারকিন ব্যাগকে ফ্যাশন শো, তারকাদের আড্ডা কিংবা অভিজাত জীবনযাপনের প্রতীক হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু মেসি সেটিকে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন ফুটবল দলের ক্যাম্পে।
এটি যেমন স্যুটের সঙ্গে মানানসই, তেমনি ট্র্যাক প্যান্টের সঙ্গেও মানিয়ে যায়। মেসির হাতে দেখা ব্যাগটি শুধু ফ্যাশনের অনুষঙ্গ নয়, বরং স্টাইলিশ ও ব্যবহারিক দিক থেকেও মোক্ষম।
সূত্র: বেইন স্পোর্টস