শিকারির পাতা ফাঁদ থেকে উদ্ধার বাঘিনীটি কেমন আছে? কবে অবমুক্ত করা হতে পারে

আহত বাঘটিকে খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসনকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছেছবি: প্রথম আলো

সুন্দরবনে হরিণশিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকে আহত বাঘিনীকে চলতি এপ্রিলের শেষ দিকে অথবা মে মাসের শুরুতে বনে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসনকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে প্রাণীটি। টানা ৮৬ দিনের চিকিৎসায় বাঘিনীটি এখন অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছে।

বন কর্মকর্তা ও চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ সুস্থতা নিশ্চিত হলে এপ্রিলের শেষ দিকে বা মে মাসের প্রথম দিকে বাঘিনীটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হতে পারে।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনা কার্যালয়ের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল প্রথম আলোকে বলেন, গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন হাতেম সাজ্জাদ মোহাম্মদ জুলকারনাইনের তত্ত্বাবধানে বাঘিনীটির চিকিৎসা চলছে। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী খুলনার কর্মীরা কাজ করছেন।
ডিএফও নির্মল কুমার পাল বলেন, বাঘিনীটি এখন অনেকটা সুস্থ। ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ উন্নতি হয়েছে। পায়ে তিন-চার ইঞ্চি ক্ষত ছিল, যা প্রায় ভরাট হয়ে এসেছে। সেটি পুরোপুরি ভরাট হয়ে গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাঘিনীটিকে সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া যাবে। এখনই অবমুক্ত করলে বাঘিনীর সমস্যা হতে পারে। তাই সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে এর চলাফেরা এখন অনেকটাই স্বাভাবিক।

সুন্দরবনে হরিণশিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে আহত হয় বাঘিটি
ছবি: প্রথম আলো

খাবার ও চিকিৎসা প্রসঙ্গে নির্মল কুমার পাল জানান, বাঘিনীটি প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ কেজি গরুর মাংস খাচ্ছে। খাবারের মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিকসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন তার থাকার স্থান জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে। প্রথম দিকে চিকিৎসক বা অন্য কেউ কাছে গেলে বাঘিনীটি গর্জন করত। এটি সম্পূর্ণ বন্য প্রাণী হওয়ায় মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। শুরু থেকেই নির্দিষ্ট দুজন কর্মী ছাড়া আর কেউ তার কাছে যান না। আমরাও যাই না। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে বাঘিনীটির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়। মানুষ না দেখায় এখন আগের মতো গর্জন করে না।

গত ৩ জানুয়ারি দুপুরের পর সুন্দরবনের পূর্ব অংশের চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির আওতাধীন শরকির খালসংলগ্ন বনাঞ্চলে বাঘিনীটির ফাঁদে আটকে পড়ার খবর পায় বন বিভাগ। পরদিন ৪ জানুয়ারি ‘ট্রাঙ্কুইলাইজার গান’ ব্যবহার করে বাঘিনীটিকে অচেতন করে উদ্ধার করা হয়। পরে ফাঁদ কেটে বাঘিনীটিকে লোহার খাঁচায় করে খুলনায় আনা হয়। উদ্ধারের সময় বাঘিনীটি ছিল অত্যন্ত দুর্বল। খুলনায় বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে চিকিৎসা শুরুর পর ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি হয়।

গত ৬ জানুয়ারি থেকে বাঘিনীটির চিকিৎসা শুরু হয়। ৭ জানুয়ারি বিশেষজ্ঞ দলের একজন ঢাকার সেন্ট্রাল ভেটেরিনারি হাসপাতালের কর্মকর্তা নাজমুল হুদা প্রথম আলোকে জানান, বাঘিনীটির সামনের বাঁ পায়ের ত্বক, পেশি ও শিরার স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ব্যথা ও প্রদাহ, শরীরের পানিশূন্যতা এবং মাংসপেশির দুর্বলতা রয়েছে।
নাজমুল হুদা বলেন, বেঙ্গল টাইগার সাধারণত একা শিকার করে। তাই একে সম্পূর্ণ সুস্থ না করে বনে ছেড়ে দেওয়া যাবে না।

আরও পড়ুন