শীত চলে গেলে তেমন কোনো কারণ ছাড়াই ক্লান্ত লাগে কেন
শীত শেষে তেমন কোনো কারণ ছাড়াই ক্লান্তি বা শক্তিহীনতায় ভুগতে পারেন কেউ কেউ। কারও কারও অতিরিক্ত ঘুম পায়। একে বলে ‘সিজনাল ফেটিগ’ বা ঋতু পরিবর্তনের ক্লান্তি। সব ঋতুর শেষেই নতুন ঋতুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে শরীর কিছুটা ক্লান্তি বোধ করে। শীতকালে দিনের আলো সবচেয়ে কম থাকে, তাপমাত্রা সারা বছরের তুলনায় থাকে সবচেয়ে কম। তাই এই ঋতুর শেষেই শরীরকে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। আর তাই সবচেয়ে বেশি ক্লান্তি অনুভূত হয়।
১. শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বদলায়
শীতকালে দিনের আলো কম থাকে। আর বসন্তে একটু একটু করে আলো বাড়তে থাকে। ফলে দিন বড় হতে থাকে। শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম (ঘুম-জাগরণের জৈবিক ঘড়ি) ঠিকমতো খাপ না খাওয়ায় আমরা ক্লান্ত বোধ করি। এমনকি এ সময় যেকোনো কাজে মনোযোগ দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
২. ঘুমের ছন্দ বদলায়
মানুষ শীতকালে গড়ে বেশি ঘুমায়, অন্য সব ঋতুর মধ্যে তা সর্বোচ্চ। দিনের আলো কম থাকায় ঘুমের চক্র বদলে যায়। বসন্তে আবার সূর্য ওঠা-ডোবার সময় বদলে গেলে শরীর ঠিকভাবে আগের রুটিনে ফিরে আসতে সময় নেয়। ফলে ক্লান্ত লাগে।
৩. ভিটামিন ডি কমে যায়
শীতকালে সূর্যের আলো কম থাকলে ভিটামিন ‘ডি’র মাত্রা কমে যায়। ফলে ক্লান্তি তো লাগেই, সেই সঙ্গে পেশির দুর্বলতা দেখা যায়। মেজাজও সহজে বিগড়ে যেতে পারে।
৪. কম শারীরিক সক্রিয়তা
শীতে অনেকেই বাইরে কম যান। কম শরীরচর্চা করেন। ফলে মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়। বসন্তে সক্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর প্রথম দিকে সেই পরিবর্তনে মানিয়ে নিতে একটু শক্তি খরচ করে। তাই ক্লান্ত লাগে।
টিপস
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে ও ক্লান্তিভাব কমাতে গায়ে সকালের রোদ লাগান। আর সকাল সকাল হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন। ভোরে ঘুম থেকে উঠে ঝলমলে মিষ্টি রোদে যদি ৩০ মিনিটের জন্য হাঁটতে বের হয়ে যান, তাহলে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হবে। তাতে সারা দিনের ক্লান্তি মোকাবিলা করা যাবে সহজে।
সূত্র: ওয়েব এমডি