নারীরা কি অনিদ্রাজনিত সমস্যায় বেশি ভোগেন
সুনিদ্রা সুস্থ জীবনের অন্যতম ভিত্তি। বাস্তবতা হলো, চারপাশে অনেক মানুষ অনিদ্রাজনিত সমস্যায় ভুগছেন। আর এ সমস্যায় পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশি ভোগেন। গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের মধ্যে অনিদ্রার ঝুঁকি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেশি। এই সমস্যা কেবল তাঁদের জন্য ক্লান্তি নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, কর্মক্ষমতা হ্রাস ও দীর্ঘ মেয়াদে নানা রোগের কারণ হতে পারে।
কেন নারীদের মধ্যে অনিদ্রা বেশি
নারীদের জীবনে একাধিক হরমোনজনিত পরিবর্তন ঘটে, যা ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলে। মাসিক চক্রের বিভিন্ন ধাপে, বিশেষ করে মাসিকের আগের সময়ে অনেকের ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম বা প্রি-মেনস্ট্রুয়াল ডিসফোরিক ডিজঅর্ডার থাকলে অনিদ্রা আরও তীব্র হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় বিশেষ করে শেষ তিন মাসে, শরীরের ওজন বৃদ্ধি, বারবার প্রস্রাবের চাপ, বুকজ্বালা, শিশুর নড়াচড়া—সব মিলিয়ে রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। আবার মেনোপজ ও পেরিমেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ায় ঘুম হালকা হয়ে পড়ে। হট ফ্ল্যাশ ও রাতের ঘাম নারীদের ঘুমের বড় শত্রু। কখনো মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায় এবং তারপর আর ঘুম আসে না।
মানসিক ও সামাজিক প্রভাব
অনিদ্রার সঙ্গে মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নারীদের মধ্যে এসব মানসিক সমস্যার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি, তাই ঘুমের সমস্যাও বাড়ে।
এ ছাড়া পরিবার ও কর্মজীবনের দ্বৈত দায়িত্ব, সন্তান বা বয়স্কদের দেখভাল—এসব কারণে নারীরা প্রায়ই নিজের বিশ্রামকে গুরুত্ব দিতে পারেন না।
পাশাপাশি মাইগ্রেন, ফাইব্রোমায়ালজিয়া, পেটের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার মতো কিছু দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার কারণে রোগ নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, যা অনিদ্রার ঝুঁকি বাড়ায়।
করণীয়
অনিদ্রা নিয়ন্ত্রণে প্রথম ধাপ হলো ঘুমকে অগ্রাধিকার দেওয়া। মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান, শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম বা ডায়েরি লেখা কার্যকর। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও ঘুমের মান উন্নত করে।
প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সচেতনতা, জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও সময়মতো চিকিৎসা নিলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। ভালো ঘুম মানেই সুস্থ মন ও সুস্থ জীবন—এ বিষয়ে নিজেকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।