গোড়ালি ব্যথায় শকওয়েভ থেরাপি কী, কখন নেবেন

দৈনন্দিন জীবনে একটি সাধারণ কিন্তু অস্বস্তিকর শারীরিক সমস্যা হলো গোড়ালি ব্যথা। সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম পা ফেলার সময় সুই ফোটার মতো তীব্র ব্যথা হয়। কিংবা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর হাঁটতে গেলে গোড়ালিতে কামড়ে ধরে। এর কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্ল্যান্টার ফ্যাসিয়াটিস বা গোড়ালির হাড় বেড়ে যাওয়া।

দৈনন্দিন জীবনে একটি সাধারণ কিন্তু অস্বস্তিকর শারীরিক সমস্যা হলো গোড়ালি ব্যথাছবি: সুমন ইউসুফ
প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন

শকওয়েভ থেরাপি কী 

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের কল্যাণে এখন কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার বা ওষুধ ছাড়াই এই ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এই চিকিৎসার নাম এক্সট্রাকোরপোরাল শকওয়েভ থেরাপি (ইএসডব্লিউটি)।

নাম শুনে ‘বৈদ্যুতিক শক’ মনে হলেও বিষয়টি আসলে তেমন নয়। এটি একটি অত্যাধুনিক ফিজিওথেরাপি পদ্ধতি। এতে একটি বিশেষ যন্ত্র দিয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন শব্দতরঙ্গ ব্যথার সুনির্দিষ্ট স্থানে প্রয়োগ করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার ক্ষেত্রে এর সাফল্যের হার ৮০-৮৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন

কীভাবে কাজ করে

গোড়ালির নিচে যে শক্ত পর্দা ‘প্লান্টার ফাসা’ থাকে, তাতে অতিরিক্ত চাপ বা ক্ষুদ্র ফাটল তৈরি হলে সেখানে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ হয়। শকওয়েভ থেরাপি মূলত তিনটি উপায়ে কাজ করে। 

রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি: শব্দতরঙ্গ ব্যথার স্থানে নতুন রক্তনালি তৈরিতে উদ্দীপনা জোগায়। এর ফলে ওই অংশে পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে।

কোষের পুনর্গঠন: এটি শরীরের নিজস্ব নিরাময় ক্ষমতাকে ত্বরান্বিত করে ক্ষতিগ্রস্ত পর্দা (টিস্যু) দ্রুত মেরামত করতে সাহায্য করে।

ক্যালসিয়ামের আস্তরণ দূর: গোড়ালির হাড় বেড়ে যাওয়ার ফলে ক্যালসিয়ামের যে শক্ত আস্তরণ তৈরি হয়, শকওয়েভ তা ভেঙে দিতে সাহায্য করে।

থেরাপি পদ্ধতি ও সময়সীমা

শকওয়েভ থেরাপি দিতে কোনো অবশকারী ইনজেকশন বা অ্যানেসথেসিয়ার প্রয়োজন হয় না। অবস্থার ওপর নির্ভর করে সাধারণত ৩ থেকে ৫টি সেশনের প্রয়োজন হতে পারে। প্রতি সেশনে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে। সাধারণত সপ্তাহে একবার এই থেরাপি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

সতর্কতা

শকওয়েভ থেরাপি অত্যন্ত নিরাপদ হলেও অন্তঃসত্ত্বা নারী, পেসমেকার লাগানো রোগী, তীব্র রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা বা ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা যাবে না। তাই এই থেরাপি নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মো. সাইদুর রহমান, চিফ কনসালট্যান্ট ও চেয়ারম্যান, রি-অ্যাকটিভ ফিজিওথেরাপি সেন্টার, শহীদ তাজউদ্দীন অ্যাভিনিউ, তেজগাঁও, ঢাকা

আরও পড়ুন